০১:৩৪ এম
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। একদিকে নদীর তীরে ভেসে আসছে মরদেহ, অন্যদিকে বেঁচে যাওয়া মানুষ ফিরছেন নিজেদের বিধ্বস্ত বাড়িতে উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন যা কিছু অবশিষ্ট আছে।
রোববার পর্যন্ত নেপাল ও তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯৭ জনে। নেপালের বিভিন্ন মর্গে মরদেহ রাখার জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক মরদেহ এতটাই বিকৃত হয়ে গেছে যে পরিচয় শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে কিছু মরদেহ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সাময়িকভাবে গণকবর দেওয়া হচ্ছে।
নেপালের চিতওয়ান এলাকায় নদীর তীর থেকে ২৫০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩ হাজারের বেশি মানুষ। দুর্গম ও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অনেক জায়গায় এখনো সড়ক যোগাযোগ চালু হয়নি। সেখানে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চলছে
ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত দেবীঘাট শহরও বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অনেক বাড়ির নিচতলা ও দোতলা কাদায় ঢেকে গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
বন্যায় বেঁচে যাওয়া মানুষ ধীরে ধীরে নিজেদের বাড়িতে ফিরছেন। তবে অনেকের বাড়ি আর বাড়ি হিসেবে দাঁড়িয়ে নেই। কোথাও কেবল কংক্রিটের কিছু অংশ, কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধাতব কাঠামো ও কাদার স্তূপ।
৪৯ বছর বয়সী উষা নেপালি তার ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, এই বাড়ি তৈরিতে তিনি তার সবকিছু বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন তার কাছে পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। নদী সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।
বন্যার পরও ত্রিশূলী নদীর পানি আবার বিপজ্জনকভাবে বাড়তে থাকায় দেবীঘাটের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যেতে বলা হয়েছে। অনেকে বাড়ি থেকে উদ্ধার করা সামান্য জিনিসপত্র গুছিয়ে এলাকা ছাড়ছেন।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক অবরোধ
স্থানীয় বাসিন্দা জামুনা মাগার জানান, তাদের পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দেবীঘাটে বসবাস করছে। কিন্তু এবারের বন্যার ভয়াবহতার পর সেখানে ফিরে বসবাস করার কথা ভাবতেও ভয় পাচ্ছেন তারা।
তিনি বলেন, আগে বন্যা হলেও এমন ভয়াবহ বন্যা তারা কখনো দেখেননি। কয়েক মিনিটের সতর্কতায় তিনি শুধু কিছু স্বর্ণালংকার নিতে পেরেছিলেন। বাড়ির নিচতলায় থাকা প্রায় সবকিছুই পানিতে ভেসে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বিধ্বস্ত দেবীঘাটকে আবার বসবাসযোগ্য করে তুলতে কয়েক দশক লেগে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের স্বীকারোক্তি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, যুবক আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন