০৯:৪৬ পি.এম
রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাতের ইস্যুতে বিজেপি সরকারের সমালোচনার তাত্পর্য তুলে ধরে ভারতের অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি সোমবার (২৯ জুন) পশ্চিম উত্তর প্রদেশের বিজনোরে এক সমাবেশে সংবাদমাধ্যমে বলেন, 'যদি রাম মন্দির ট্রাস্ট থেকে অর্থ আত্মসাতে কোনো মুসলিম জড়িত থাকতেন, তাহলে এতক্ষণে তাকে এনকাউন্টারে হত্যা করা হতো।' তার মতে, এমন মুসলিম থাকার কারণে তার বাড়িতে বুলডোজার চালিয়ে দেয়া হতো। খবরটির সূত্র এনডিটিভি।
ওয়াইসি এই মামলায় ব্যবস্থা নিতে বিলম্বের অভিযোগ তুলে বলেন, 'পুলিশ এখনো এই বহুল আলোচিত মামলার অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে আনার প্রচেষ্টাও করছে না।'
আরও পড়ুন: বিল গেটসের ৭১তম জন্মদিনে দানের ঘোষণা, সম্পদের প্রায় সবটাই মানবকল্যাণে
তিনি বলেন, 'যদি ট্রাস্টে একজন মুসলিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হতো, তাহলে তার এনকাউন্টার করে এবং বাড়িতে বুলডোজার চালিয়ে মামলার নিষ্পত্তি করা যেত। কিন্তু এখনকার অভিযুক্তরা নির্বিঘ্নে আছেন।'
ওয়াইসি রাম মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, 'চম্পত আরামে আছেন।' সম্প্রতি অনুদান আত্মসাতের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর চম্পত রায় তার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েক দিন আগে ওয়াইসি উত্তর প্রদেশ সরকারকে প্রশ্ন করেছিলেন, রাজ্যে মুসলিমদের ক্ষেত্রে গুলি চালানো বা বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে, তাহলে কি এই মামলার অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেয়া হবে?
রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ভারতজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে এবং এটি বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলসমূহও এ ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করছে।
আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, প্রধান অতিথি এম আকবর আলী
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর এ ইস্যুর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, যার পর রাজ্য সরকারের বিশেষ তদন্ত দল মামলাটির তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বাসভবনে তল্লাশি, হিসাববহির্ভূত নগদ অর্থ উদ্ধার এবং মন্দিরের কর্মী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এ ঘটনার ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি মন্দিরের ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিও উঠেছে।
২৫ জুন ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার প্রথম এফআইআর দায়ের হয়, যেখানে আটজন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়। এই আটজন হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রাম শঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। এরা সবাই রাম মন্দিরের অনুদান গণনার দায়িত্বে ছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ
যোগী আদিত্যনাথ ২৬ জুন বলেন, 'যদি জনগণের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করবে।'
এখনও পর্যন্ত আত্মসাৎ হওয়া অর্থের সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। যদিও ধারণা করা হচ্ছে, মন্দিরের হিসাব থেকে প্রায় ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ কোটি রুপি নগদ অর্থের গরমিল রয়েছে এবং এপর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন