ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কর্ণফুলী টানেলে ১৬১৬ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ


কর্ণফুলী টানেলে ১৬১৬ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মেগাপ্রকল্প— কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ১ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় চিহ্নিত করেছে।

১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নকৃত এই মেগাপ্রকল্পের উপর সম্প্রতি একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। সেখানে এ আর্থিক অনিয়মের উল্লেখ রয়েছে।

আইএমইডির মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত তিন অর্থবছরে ৬৮টি অডিট আপত্তি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি ‘গুরুতর আর্থিক অনিয়ম’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অডিট আপত্তিগুলো নিষ্পন্ন না হওয়ায় এগুলো আর্থিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা সামনে রেখে পাইকগাছায় পুলিশের অভিযান, ৯ জন আটক

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল প্রকল্পে গাছ লাগানোর জন্য ৪৮ কোটি টাকা খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে একটি গাছও লাগানো হয়নি। চমকে দেওয়ার মতো অনিয়ম হিসাবে একটি বড় ‘সার্ভিস এরিয়া’ নির্মাণের ক্ষেত্রে ৫০৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

আইএমইডির মতে, এই সার্ভিস এরিয়া অপ্রয়োজনীয় ছিল এবং টানেলের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। সার্ভিস এরিয়া নামের এলাকার মধ্যে বাংলো, মোটেল, কনভেনশন সেন্টার, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু, এসব স্থাপনার সঙ্গে টানেলের সরাসরি সড়ক সংযোগ নেই। সেই কারণে আইএমইডি এই খরচকে ‘পুরোপুরি অপচয় ও নীতিগত অনিয়ম’ বলে অভিমত দিয়েছে।

এছাড়া, প্রতিবেদনটির মাধ্যমে আরও বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ল্যান্ডস্কেপিং ও গাছ লাগানোর কাজে ৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। কিন্তু সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) কিংবা প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে (পিসিসিআর) এর কোন কাজের প্রমাণ মেলেনি।

অন্য অনিয়ম হিসেবে রয়েছে— কন্টিনজেন্সি বা আপৎকালীন তহবিল থেকে ২২৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, তবে জেনারেল ফ্যাসিলিটিজ তহবিলের অধীনে একই ধরনের খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল; ২২৪ কোটি টাকার অননুমোদিত মূল্য সমন্বয়; আলাদা পরামর্শক নিয়োগের পরও তদারকি ফি (সুপারভিশন ফি) বাবদ অতিরিক্ত ৭০ কোটি ১০ লাখ টাকা প্রদান এবং বরাদ্দ থাকা অর্থ থেকে অতিরিক্ত ৯০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গুজব ও বিশৃঙ্খলা রোধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালকের

আইএমইডির মতে, সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গের কারণে এই অনিয়মগুলো ঘটেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে কেন প্রকল্পের চূড়ান্ত খরচ ২৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়েছে এবং মেয়াদ দ্বিগুণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক তদারকির দুর্বলতার ব্যাপারে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। যেমন: প্রকল্পের অধীনে কেনা ২৯টি গাড়ির মধ্যে মাত্র ৬টি সেতু বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর বাকি ২৩টি গাড়ি এখনও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫০ কোটি টাকার বেশি খরচের প্রকল্পে একজন সার্বক্ষণিক ও অভিজ্ঞ প্রকল্প পরিচালক থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু, কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের কাজ চলাকালে অন্তত চারজন প্রকল্প পরিচালক দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে, প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী দুই বছর ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রকল্প পরিচালনার কাজ করেছেন। আইএমইডির মতে, এতে করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধারাবাহিকতা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রাথমিকভাবে ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক দিয়েছে, যা ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছরে শোধ করতে হবে।

আরও পড়ুন: হঠাৎ ঢাকায় আসছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

আইএমইডির প্রতিবেদনে টানেলের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়েছে, প্রত্যাশার তুলনায় গাড়ি কম চলাচল করায় টানেলটি এখন ক্ষতির সম্মুখীন। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সময় বলা হয়েছিল, ২০২৫ সাল নাগাদ প্রতিদিন গড়ে ২৮ হাজার ৩০৫টি গাড়ি এই টানেল ব্যবহার করবে। কিন্তু বাস্তবে গাড়ির সংখ্যা অনেক কম। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উদ্বোধনের পর প্রথম কয়েক মাসে গড়ে প্রতিদিন ৫-৬ হাজার গাড়ি চলাচল করত, যা ২০২৬ সালের শুরুতে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪২২ থেকে ৩ হাজার ৪৮৮টিতে।

বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র চার থেকে সাড়ে চার হাজার ছোট বা হালকা যান টানেল দিয়ে চলাচল করছে, যা পূর্বাভাসের মাত্র ১৪ শতাংশ। আর পণ্যবাহী ভারী যানবাহনগুলোর অধিকাংশই এই পথ এড়িয়ে চলছে। এর কারণে টানেলে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। প্রতিদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় ২২ লাখ টাকা, যেখানে টোল আদায় থেকে আয় হচ্ছে মাত্র ১২ লাখ টাকা। ফলে, এই ঘাটতি মেটাতে বছরে প্রায় সাড়ে ৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিনকে রাঙামাটি শহর থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

প্রথমে জানা গেছে যে, রোববার (৫ জুলাই) দুপুরের দিকে তাদের বিরুদ্ধে ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের আওতায় মামলা করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষের।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, রোববার দুপর বেলায় শহরের কোর্ট বিল্ডিং এলাকার হোটেল কসমসের পাশে একটি ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে আসার সময় পুলিশ তাদের আটক করে।

তারা দুজনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে দেয়া আওয়ামী লীগের বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। তাদের ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের আওতাধীন আসামি হিসেবে গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া, উল্লেখযোগ্য যে, বৃষ কেতু চাকমা ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘসময় ধরে দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ির আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। জানা গেছে, প্রায় সত্তরোর্ধ্ব বৃষ কেতু চাকমা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে রাঙামাটি শহরে গিয়েছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না রঙ্গনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


রংপুরে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না রঙ্গনের

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় একটি মারাত্মক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে প্রান্তীক গোস্বামী রঙ্গন (১৭) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটেছে। রবিবার সকাল ৮টার দিকে, উপজেলার বেতগাড়ী-পাগলাপীর সড়কের শাহপাড়া মোড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত প্রান্তীক গোস্বামী রঙ্গন ছিলেন বেতগাড়ী ইউনিয়নের রামনগরপাড়া গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র গোস্বামীর একমাত্র পুত্র। তিনি ধনতলা রেয়াজউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র এবং চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে রঙ্গন তার বাড়ি থেকে পাগলাপীর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। যখন তিনি শাহপাড়া মোড়ে পৌঁছান, তখন মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে, যাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানিয়েছেন, ‘মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের হাতে অত্যাধুনিক স্টিলথ সাবমেরিন, রাডারে শনাক্ত করা কঠিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


পাকিস্তানের হাতে অত্যাধুনিক স্টিলথ সাবমেরিন, রাডারে শনাক্ত করা কঠিন

সম্প্রতি চীন থেকে পাকিস্থান অত্যাধুনিক স্টিলথ সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙর’ হাতে পেয়েছে। এই সাবমেরিনটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পানির নিচে থেকে গোপনে অভিযান চালাতে সক্ষম।

পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রধারী নৌবাহিনী দাবি করে করছে যে, এই সাবমেরিন শুধু তাদের সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে না, বরং ভারত মহাসাগরে পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থানও আরও মজবুত করবে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন এই সংযোজন ভারতের সঙ্গে নৌ শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তান সর্বশেষ বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করেছিল। ভারতীয় বাহিনীর হাতে সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের সাবমেরিন ধ্বংস হয়েছিল। এরপর অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দেশটি ওই কৌশলগত সমুদ্রসীমায় কার্যকর উপস্থিতি তৈরি করতে পারেনি। তবে, কিছু সপ্তাহ আগে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে।

গত মাসে পাকিস্তান চীন থেকে একটি নতুন আক্রমণাত্মক সাবমেরিন দেশে এনেছে। ‘পিএনএস হাঙর’ নামের এই সাবমেরিনটি গত এপ্রিলে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আটটি একই ধরনের সাবমেরিন পাওয়া যাবে এবং এটি ওই আটটির মধ্যে প্রথম। গত ১১ জুন এটি করাচি বন্দরে এসেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে।

নতুন সাবমেরিন বহরের মিশন কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানিয়েছেন যে, এই অত্যাধুনিক সাবমেরিন ‘গেমচেঞ্জার’ হবে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী নিজেদের সমুদ্রসীমার বাইরেও অনেক দূর অবাধে অভিযান চালানোর ক্ষমতা অর্জন করবে এবং পূর্ব ভারত মহাসাগরে দীর্ঘ সময় উপস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম হবে। ১৯৭১ সালে যেখানে পিএনএস গাজি ধ্বংস হয়েছিল, সেই অঞ্চলে কার্যকর উপস্থিতি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

৭৬ মিটার দীর্ঘ ও ৮.৪ মিটার প্রশস্ত ‘পিএনএস হাঙর’ দেখতে কালো রঙের অশ্রুবিন্দু আকৃতির। এটি বর্তমান চলতি অনেক সাবমেরিনের তুলনায় আকারে বড়। এই সাবমেরিনটি ধীরে ধীরে পাকিস্তানের পুরোনো ফ্রান্সে তৈরি ‘আগোস্তা’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলোর জায়গা নেবে।

‘হাঙর’ সাবমেরিনে অত্যাধুনিক এয়ার ইনডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (এআইপি) প্রযুক্তি রয়েছে। এর ফলে এটি কয়েক সপ্তাহ পানির নিচে অবস্থান করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি বাতাস বা বায়ুমণ্ডল থেকে নির্ভর না করেই সাবমেরিনকে চলতে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার সক্ষমতা প্রদান করে। এটি তুলনামূলকভাবে কম শব্দ ও কম কম্পন তৈরি করে, ফলে সাবমেরিন শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

হাঙর শ্রেণির সাবমেরিনে ছয়টি ৫৩৩ মিলিমিটার টর্পেডো টিউব রয়েছে, যা টর্পেডো'র পাশাপাশি দূরপাল্লার জাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইল ছুঁড়তে সক্ষম। সুনির্দিষ্ট অস্ত্রের তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে অনুমান করা হচ্ছে পাকিস্তান নৌবাহিনী চীনের ওয়াইজে-১৮ বা ওয়াইজে-৮২ মিসাইল ব্যবহার করবে।

ওয়াইজে-১৮-এর সর্বাধিক পাল্লা ২৯০ নটিক্যাল মাইল হলেও রফতানি সীমাবদ্ধতার কারণে পাকিস্তান সম্ভবত শুধুমাত্র ওয়াইজে-১৮ই পাবে, যার পাল্লা প্রায় ১৫৭ নটিক্যাল মাইল। অন্যদিকে ওয়াইজে-৮২-এর মূল সংস্করণের পাল্লা ২০ নটিক্যাল মাইল হলেও উন্নত সংস্করণের পাল্লা ১৫৭ ও ৬৯ নটিক্যাল মাইল।

এছাড়া এই সাবমেরিনগুলোতে স্টিলথ বা গোপন চলাচলের সক্ষমতা রয়েছে। এতে ‘ক্যাবিন-রাফট’ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে, যার ফলে শব্দের মাত্রা ৩৫ ডেসিবেল পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। সাবমেরিনের বাইরের অংশে রাবার দিয়ে তৈরি অ্যানেকোয়িক টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে, যা শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি চীনের হাইনান প্রদেশের সানইয়ায় গিয়ে সাবমেরিনটি গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ‘হাঙর’ বহরকে আধুনিক অস্ত্র ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় সজ্জিত করা হবে। এসব সাবমেরিন আঞ্চলিক সামুদ্রিক শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানকে সহায়তা করবে।

বর্তমানে ভারতের হাতে ১৯টি সাবমেরিন রয়েছে, তবে পাকিস্তানের বিশ্লেষকদের মতে, ‘হাঙর’ সাবমেরিনের উপস্থিতি তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মোকাবিলায় শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

পাকিস্তানের সরকারি একজন কর্মকর্তা জানিয়ে ছিলেন, ‘হাঙর’ সাবমেরিনের আটটির মধ্যে চারটি সাবমেরিন চীনে এবং বাকি চারটি পাকিস্তানে প্রযুক্তি হস্তান্তর কর্মসূচির আওতায় তৈরি হবে। পাকিস্তানের নৌ বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো বহর গড়ে তুলতে ২০৩২ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

চীন এই চুক্তিকে মিত্র দুই দেশের মধ্যে ‘স্বাভাবিক সামরিক সহযোগিতা’ বলে অভিহিত করলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত মহাসাগরে ভারতকে আরও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে যখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গত বছর ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। কাশ্মীরে হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায়। পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তানও। চার দিন ধরে তীব্র সংঘর্ষ চলে, যেখানে শত শত মানুষ নিহত হয়। এই অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। তবে ওই অভিযানে ভারতের একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। অনেক বিশেষজ্ঞ এর কৃতিত্ব পাকিস্তানের চীনা সামরিক সরঞ্জামকে দিয়েছেন।

অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ ফয়সাল আলী শাহ বলেন, ওই সংঘাত পাকিস্তান ও ভারতের প্রচলিত সামরিক শক্তির ব্যবধান নিয়ে প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিয়েছে। নতুন ‘হাঙর’ সাবমেরিনের বহর পাকিস্তানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি বলেন, “শুধু আকাশযুদ্ধ নয়, সমুদ্রেও ভারতীয় নৌবাহিনী করাচি থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করেছিল। কিন্তু তারা সামনে এগোয়নি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ঝুঁকির জন্য বিবেচনা করেই নেয়া হয়েছিল।”

তার মতে, “ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোন সংঘাত হলে এসব সাবমেরিন পাকিস্তান নৌবাহিনীর সক্ষমতা, বিশেষ করে পানির নিচে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা আরও বাড়াবে। এটি ভারতীয় সামরিক নেতৃত্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, এসব সাবমেরিন বঙ্গোপসাগর, হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর এবং এডেন উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রক্ষার ক্ষেত্রেও পাকিস্তানকে সহায়তা করবে।

শাহ স্বীকার করেন যে, ভারতের তিনটি পারমাণবিক সাবমেরিন রয়েছে এবং আরও ছয়টি যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে। যদিও এর পরেও তার মতে, পাকিস্তানের নতুন ক্ষমতাগুলো ভারতকে উদ্বেগে ফেলবে।

তিনি বলেন, “আমার অভিজ্ঞতায় একটি সাবমেরিন আর ১০টি সাবমেরিনের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখা দেয় না। কারণ পানির নিচে থাকা একটি সাবমেরিনকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত কোন জাহাজই সেই এলাকায় নিশ্চিন্তে চলাচল করতে পারে না।”

কার্নেগি ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষক দিনাকর পেরি বলেন, পাকিস্তানের হাতে বর্তমানে মাত্র তিনটি ‘আগোস্তা’ সাবমেরিন রয়েছে। অন্যদিকে ভারতেরও ১৬টি সাবমেরিনের বেশিরভাগই পুরোনো।

তার মতে, সামগ্রিকভাবে ভারতের নৌবাহিনী এখনও অনেক ‘বেশি শক্তিশালী’। তবে পাকিস্তানের নতুন সাবমেরিন বহর এবং আধুনিকায়ন ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে পারে, যদি ভবিষ্যতেও গত বছরের মতো সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

পেরির মতে, পাকিস্তানের কাছে এই নতুন সাবমেরিন মোতায়েন চীনের জন্যও কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনবে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় চীন-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। তবে পাকিস্তানকে শক্তিশালী করার বাইরে, সমুদ্রপথে এর প্রভাব সীমিত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, চীন নজিরবিহীন গতিতে নিজেদের নৌ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় চীনা গবেষণা জাহাজের ঘন ঘন উপস্থিতি ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে- ভারত, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কি অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে? রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহের মতে, অস্ত্র প্রতিযোগিতা চলছে, তবে এতে শুধু এই তিন দেশ নয়, আরও অনেক শক্তি জড়িত।

তিনি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোট ‘অকাস’-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, “এটি এক ধরনের ডমিনো প্রভাব। এই অঞ্চলের বাইরের কিছু শক্তিই এখানে অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উসকে দিয়েছে।” সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুরআনের আয়াতে বাংলাদেশকে যে বার্তা প্রদান করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


কুরআনের আয়াতে বাংলাদেশকে যে বার্তা প্রদান করেছে ইরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মহল একটি অভিনব মঞ্চায়ন দেখেছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের ভিত্তিতে, ইরান কর্তৃপক্ষ সুচিন্তিতভাবে পবিত্র কোরআনের ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তিলাওয়াত করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে, যখন বাংলাদেশের পৃথক দুটি প্রতিনিধিদল প্রয়াত নেতার কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে এগিয়ে যায়, তখন তাদের সামনে সুরা আল-আহযাব এবং সুরা আলে ইমরানের বিশেষ কিছু আয়াত শোনানো হয়। বিশ্লেষকদের মতানুসারে, এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে ঢাকাকে একটি বিশেষ কূটনৈতিক ও আদর্শিক বার্তা প্রদান করেছে তেহরান।

জানাজার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হলে তার সামনে সুরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। এই আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ কেউ (শাহাদাতবরণ করে) নিজেদের শপথ পূর্ণ করেছে, আর কেউ কেউ (শাহাদাতের) প্রতীক্ষায় আছে। এবং তারা তাদের অঙ্গীকারে সামান্যতমও পরিবর্তন করেনি।’

ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, ওহুদের যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে যুদ্ধে যাওয়ার আগে সাহাবিরা অঙ্গীকার করেছিলেন যে তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালাবেন না এবং শহীদ হওয়া পর্যন্ত লড়াই করবেন। সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.)-সহ কয়েকজন সাহাবি এই অঙ্গীকার পূর্ণ করে শহীদ হয়েছিলেন।

ইরান কেবল স্পিকারের সামনে এই আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অবিচল কূটনৈতিক অবস্থান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে।

এদিকে, ইরান সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে এক আলাদা প্রতিনিধিদল খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হলে তাদের জন্য ভিন্ন আয়াত পাঠ করা হয়। এই প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি, ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি সাইদউদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তারা যখন শ্রদ্ধা নিবেদন করছিলেন, তখন সুরা আলে ইমরানের ১৬৯ ও ১৭০ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। সুরা আলে ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর আল্লাহর পথে যারা নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে করো না; বরং তারা তাদের রবের কাছে জীবিত, রিযিকপ্রাপ্ত।’

আর ১৭০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাদেরকে যে অনুগ্রহ করেছেন, তাতে তারা খুশি। আর তারা উৎফুল্ল হয়, পরবর্তীদের থেকে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি তাদের বিষয়ে। এজন্য যে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’

ইসলামী ধারার দলগুলোকে নিয়ে গঠিত এই প্রতিনিধিদলের সামনে শাহাদাত ও পরকালের চিরন্তন পুরস্কারের আয়াত শুনিয়ে ইরান একটি গভীর আদর্শিক বার্তা প্রদান করেছে। তেহরান মূলত বোঝাতে চেয়েছে, খামেনির আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়ার কোন কারণ নেই; বরং আল্লাহর পথে আত্মত্যাগকারীরা সবসময় জীবিত ও সফল। একই সঙ্গে, এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর ত্যাগ ও সংগ্রামকে একটি তাত্ত্বিক স্বীকৃতি ও সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।

কফিনের পাশে শোনানো এই আয়াতগুলো কেবল ধর্মীয় তিলাওয়াত নয়; বরং এর মাধ্যমে ইরান কূটনৈতিকভাবে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করেছে যে শোকের এই মুহূর্তেও কোন দেশ ও দল তেহরানের সঙ্গে কেমন বন্ধনে আবদ্ধ, তা তারা অত্যন্ত ভাল করেই মূল্যায়ন করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%