ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা ঘোষণা যেকোনো সময়


বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা ঘোষণা যেকোনো সময়

জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট সরকারের পথ দেখাতে ছায়া মন্ত্রিসভা বা সরকার গঠন করছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে।

দলের এমপিদের নিয়ে এ সরকার গঠন করার প্রক্রিয়া চলমান। তারা ছায়া সরকার গFormation করতে চারটি প্রাথমিক উদ্দেশ্য সামনে রেখেছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন ৭ জুন থেকে শুরু হচ্ছে। বিরোধী জোটের ছায়া সরকারের ঘোষণা অধিবেশনের শেষ দিকে হতে পারে। সংসদ ও সংসদের বাইরের জামায়াতের নীতিনির্ধারক স্তরের শীর্ষ দুই নেতা এসব তথ্য জানিয়েছেন। তারা আরও জানান, ৫ ও ৬ জুন দলের এমপিদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। বাজেট অধিবেশনের কেন্দ্র করে এসব কার্যক্রম হলেও সেখানে ছায়া সরকারের বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

আরও পড়ুন: সৈয়দপুরে পৌঁছেছেন দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

এ সরকার কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এমপিদের মতামত নেওয়া হবে এবং গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হবে। এমপিদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে, কার কোন মন্ত্রণালয়ে আগ্রহ রয়েছে। দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জন্য এমপিদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কাউকে একাধিক মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

বিরোধী দলের ছায়া সরকার হলো সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকল্প সাংগঠনিক কাঠামো। যেখানে সরকারে থাকা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের নির্দিষ্ট নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বলা হয়।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা প্রাথমিকভাবে চারটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে ছায়া সরকার গঠন করতে চান। প্রথমত, মন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে পরিচালনা করছেন কি না, তা যাচাই করা। দ্বিতীয়ত, সরকারি নীতির সমালোচনা করার পাশাপাশি অগ্রসর নীতি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা। তৃতীয়ত, বিরোধী দলের নেতাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে পারদর্শী করে তোলা। চতুর্থত, ভুলত্রুটি জনসমক্ষে তুলে ধরে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ছায়া সরকার গঠনের ঘোষণা আমাদের বিরোধী দলীয় নেতা আগে থেকেই দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কাজ চলছে এবং সময়মতো ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন: সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে

আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, আমরা ছায়া সরকারের কাজ প্রায় চূড়ান্ত করেছি। অনানুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে, যা বাজেট অধিবেশনের পর আসতে পারে।

জামায়াতের কয়েক এমপি বলেন, সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে ছায়ামন্ত্রী দেওয়া হতে পারে। বিশেষভাবে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার, আইন, যোগাযোগ, তথ্য ও সম্প্রচার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গণশিক্ষা, আইসিটি, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান, সংস্থাপন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবের মতো মন্ত্রণালয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় গণতন্ত্রে এটি সবচেয়ে কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, সরকারি দলের অর্থমন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধী দল একজন ‘ছায়া অর্থমন্ত্রী’ নিযুক্ত করে। সরকারি কোনো বিল বা বাজেটের ওপর ছায়া মন্ত্রীরাই প্রধান মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ধারণাটি নতুন হলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধান বিরোধী দল বা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ছায়া সরকার গঠনের আলোচনা ও প্রস্তুতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও ছায়া সরকার গঠনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই, তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধীদলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন: স্পেনে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে ফিরেছেন ১১৬১৩ বাংলাদেশি হাজি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ এম


দেশে ফিরেছেন ১১৬১৩ বাংলাদেশি হাজি

পবিত্র হজ পালন শেষ করে বাংলাদেশি হাজিরা বর্তমানে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরছেন। ২৮টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে মোট ১১ হাজার ৬১৩ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরে এসেছেন। আজ সোমবার (১ জুন) পর্যন্ত এ সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

এ বছর হজের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হয় ২৬ জুন তারিখে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত তিনটি বিমান সংস্থা হজের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬টি, সাউদিয়া এয়ারলাইনসের ৮টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৪টি ফ্লাইটে হাজিরা দেশে ফেরেন। হজ অফিস জানায়, ফিরতি পথে আসা হাজিদের মধ্যে ১ হাজার ২৫৩ জন সরকারি এবং ১০ হাজার ৩৬০ জন বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরে এসেছেন।

হজ চলাকালে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত ৪১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ এবং ১৪ জন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০ জন মক্কায় এবং ১১ জন মদিনায় মারা গেছেন।

এ বছরের ১৮ এপ্রিল প্রথম ফ্লাইটের মাধ্যমে হজ কার্যক্রম শুরু হয় এবং শেষ হয় ২১ মে। ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে। এটি চলবে আগামী ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্তে অস্বস্তি, পুশইন বাড়ার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


সীমান্তে অস্বস্তি, পুশইন বাড়ার আশঙ্কা

সীমান্তে অস্বস্তির ঘটনা ঘটছে, বিশেষ করে পুশইন বাড়ার আশঙ্কার কারণে।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত থেকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ অথবা ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা নিয়ে বাংলায় কথা বলা অনেক মানুষের কাছে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা, অর্থাৎ পুশইন, বেড়ে যেতে পারে। বিশেষত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে এ বিষয়ে আশঙ্কা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

ভারতের পশ্চিম সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে চার শতাধিক মানুষের জড়ো হওয়ার খবরও এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। সরকারি বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভারত থেকে আটক হওয়া ব্যক্তিদের সীমান্ত অঞ্চলে নিয়ে এসে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ বা ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ আটকে রেখে মানসিক চাপ সৃষ্টি করার কাজও হতে পারে। গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তের কাকডাঙ্গা, কেড়াগাছি, তলুইগাছা, বৈকারী, মাদরা ও চন্দনপুর অঞ্চলে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা সম্ভব।

এদিকে, বিজিবি সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি জানান, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তি, এমনকি ড্রোন ব্যবহৃত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের কোনো সম্ভাবনা তৈরি করা হবে না।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ঢাকায় সরকার পরিবর্তনের পর পুশইনের বিষয়টি সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর নজরদারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও এ বিষয়ে আলোচনা করছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সীমান্তে পুশইন বন্ধ করার জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সরকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ আলোচনা আরও জোরালো হবে বলেও তিনি জানান।

ভারত থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, জাতীয় পরিচয় যাচাইয়ের জন্য অবৈধভাবে অবস্থানরত দুই হাজার ৬৮০ জন ব্যক্তির তালিকা বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সরকার দ্রুত পরিচয় নিশ্চিত করলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্তে বর্তমানে প্রায় ১১০ ‘বাংলাদেশিকে’ একটি শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। ২৭ মে পর্যন্ত নতুন করে আরও ৭০ জনসহ ১৮০ ব্যক্তিকে বিএসএফের হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

বিজিবির সূত্রে জানা গেছে যে, সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী টর্চলাইট ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। সীমান্ত পর্যবেক্ষকদের মতে, পুশইন প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক নয়, বরং সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী দালালচক্রও জড়িত। তারা আটক হওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, জাল পরিচয়পত্র তৈরি ও অবৈধ সীমান্ত পারাপারের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করার চেষ্টা করা হয়। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের সীমান্তে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পুশইনের বিষয়টি নতুন নয়। বিজেপি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে আসীন হওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) তৈরি করে এবং বাংলায় কথা বলা মুসলিম নাগরিকদের পরিচয় প্রমাণের ক্ষেত্রে কঠিন শর্ত আরোপ করার পর থেকে এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ বেড়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, এটি কেবল সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়, বরং নাগরিকের পরিচয়, মানবাধিকার, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ও এই পুশইন। তারা বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার পরিবর্তে অনানুষ্ঠানিক ও বিতর্কিত পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। হোল্ডিং সেন্টারে দীর্ঘ ‘বন্দিজীবন’ এড়াতে অনেকেই একসময় নিজেদের ‘বাংলাদেশি’ বলে স্বীকার করতে বাধ্য হতে পারেন।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যু এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ভাঙার জন্য বিএসএফের অপচেষ্টা উদ্বেগজনক। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী আগে বলেছেন, ১৯৫০ সালের একটি আইন ব্যবহার করে গত কয়েক মাসে প্রায় ২ হাজার জনকে বাংলাদেশের দিকে ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে।

সীমান্তভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সপ্রাণের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারত থেকে ২ হাজার ৪৩৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করার অভিযোগ রয়েছে, যা মে ও জুন মাসে ছিল ২ হাজার ২০ জন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কাউকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। সংস্থাটির মতে, পুশইন ও পুশব্যাকের মতো ঘটনা শুধুমাত্র মানবিক সংকট তৈরি করে না, বরং দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, সীমান্তজুড়ে বিজিবির জনবল বৃদ্ধি করে টহল জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হচ্ছে। বিএসএফকে পুশইনের মতো কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। সীমান্তবর্তী মানুষকে সতর্ক করতে মাইকিং করা হচ্ছে যাতে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা না করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের সঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের ফোনে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ এম


ট্রাম্পের সঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের ফোনে আলোচনা

সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের অফিস জানিয়েছে, দুই নেতা সিরিয়ার অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ট্রাম্প তার আলোচনা ‘ভালোভাবে’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, সিরিয়া ও ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি বর্তমানে ‘ভালোভাবে এগোচ্ছে’। সিরিয়ার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আহমেদ আল-শারা যুক্তরাষ্ট্রের বাকি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াকে জরুরি বলে মনে করছেন।

এদিকে, সিরিয়ার ওপর আরোপিত বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যে শিথিল করা হয়েছে এবং সিজার অ্যাক্ট বাতিল করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কিন্তু বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষিধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

ওয়াশিংটন বলছে, আসাদ ও তার সহযোগীদের পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের, ক্যাপটাগন নামক নেশাজাতীয় উত্তেজক ওষুধের পাচারকারীদের এবং অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে থাকা অন্যান্য পক্ষকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, তারা সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

এজন্য মার্কিন বৈদেশিক সহায়তা, প্রতিরক্ষা রপ্তানি এবং কিছু নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপিত হয়।

সিরিয়ার উপর থাকা বাকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াকে দেশটির নতুন সরকারের সফলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির অর্থনীতি এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহযোগিতা করতে রিয়াদের উদ্যোগে অনেকগুলো সৌদি প্রতিষ্ঠান সিরিয়ায় শতাধিক কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও সিরিয়াকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন বোমাবর্ষণ ব্যর্থ, ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ ক্ষেপণাস্ত্র সুড়ঙ্গ পুনর্বহাল করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


মার্কিন বোমাবর্ষণ ব্যর্থ, ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ ক্ষেপণাস্ত্র সুড়ঙ্গ পুনর্বহাল করেছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও, ইরান তার মাটির নিচে লুকানো বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে তেহরান, ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে আগের চেয়ে অনেক বেশি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বোমাবর্ষণ কৌশলের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ‘সিএনএন’-এর পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরান উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের পরিবর্তে সাধারণ নির্মাণ সামগ্রী যেমন বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলের কোটি কোটি ডলার মূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ব্যর্থ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবলমাত্র সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ ধ্বংস করে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী কৌশলগত সাফল্য অর্জনে বেশ দক্ষ। তবে, যদি এই সামরিক অভিযানের পেছনে কোনো বাস্তবসম্মত কৌশলগত লক্ষ্য না থাকে, তাহলে তা বড় কৌশলগত ব্যর্থতায় রূপ নিতে পারে।’ হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসি’-র সিনিয়র গবেষক তৈমুর কাদিশেভ এই বিষয়টিকে প্রযুক্তির দিশা হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, ‘ইরানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে, কিন্তু ইরান সাধারণ বুলডোজার ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো পুনরুদ্ধার করে নিয়েছে।’ চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সুড়ঙ্গ খনন অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ১৮টি আন্ডারগ্রাউন্ড ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ৬৯টি সুড়ঙ্গমুখের মধ্যে ৫০টি সম্প্রতি সম্পূর্ণ চালু হয়েছে। বিশেষ করে, ইস্ফাহানের একটি ঘাঁটিতে ৪টি সুড়ঙ্গমুখ বন্ধ করতে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছিল। মে মাসের প্রথম দিকের স্যাটেলাইট চিত্রেও ধ্বংস হওয়া রাস্তাগুলো পুনরায় পাকা করা হয়েছে। খামেনি-এর একটি ঘাঁটিতে এপ্রিলের মাঝামাঝি অন্তত ১০টি নির্মাণ যান সুড়ঙ্গ পুনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগের থেকেই ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। গত মার্চে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও লঞ্চারগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ক্লেম করেছেন যে, ইরান কোনো নতুন প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে পারবে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের মূল ক্ষেপণাস্ত্র মজুত, মাটির শত শত মিটার গভীরে অবস্থিত হওয়ায় তা অক্ষত রয়েছে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যে ড্রোন উৎপাদন ও ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সক্ষমতা পুনর্গঠন করে ফেলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%