ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: মাহদী আমিন


দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন দেশের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রশ্নে এবং দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে যাওয়ার সময় এসেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট), তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে ‘গণ-অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ কথা বলেন।

ড. মাহদী আমিন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে মানুষের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল মানবাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সরকারের উচিত জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা।

আরও পড়ুন: সাবেক মেয়র লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৬ নভেম্বর

তিনি বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যেকের একটাই চাওয়া ছিল—মানবাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা। শিক্ষার্থীদের কাছেও বাক্‌স্বাধীনতা ছিল একটি বড় আকাঙ্ক্ষা। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে।’

রাজনৈতিক আদর্শে ভিন্নতা থাকতেই পারে বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, জনগণের প্রশ্নে ও দেশের স্বার্থে সবাইকে এক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমালোচনার সুযোগ দেয়, তবে সেই সমালোচনা যৌক্তিক হতে হবে। ব্যক্তিগত চরিত্রহননও করা উচিত নয়।

বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও উল্লেখ করেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, ‘বিরোধী দলকে উপলব্ধি করতে হবে, সবকিছুর বিরোধিতা করা কাম্য নয়।’ তিনি আরো বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেই স্থানে আবার ফিরে যেতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণও করতে হবে।

আরও পড়ুন: আখতার দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বার্তা দিলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নন্দা মালিনী আর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নন্দা মালিনী আর নেই

শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নন্দা মালিনী আর নেই। তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে গান গেয়ে তিনি দেশটির মানুষের কাছে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। নন্দা মালিনী ২০ আগস্ট নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮২ বছর। আগামী ২৩ আগস্ট তিনি ৮৩ বছরে পা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

নন্দা মালিনীর গান শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের সময়ে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে সামাজিক বৈষম্য, দুর্নীতি, নিপীড়ন এবং জাতিগত ও ধর্মীয় বিভেদের বিরুদ্ধে তাঁর গান ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

আশির দশকের উত্তাল সময়ে তাঁর আলোচিত ‘পবনা’ অ্যালবামের গানগুলো জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। অ্যালবামের গানগুলোতে সামাজিক নানা সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তাঁর গান মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা হারায়নি। বরং কনসার্ট ও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর গান শুনতে ভক্তদের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।

১৯৪৩ সালের ২৩ আগস্ট নন্দা মালিনীর জন্ম শ্রীলঙ্কার কালুতারা জেলার একটি গ্রামে। তাঁর স্কুলজীবন কাটে কলম্বোয়। ১৯৫৬ সালে একটি কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে সংগীতজগতে তাঁর পথচলার শুরু হয়।

পরবর্তী সময়ে সামাজিক ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে গান গেয়ে দেশে পরিচিতি অর্জন করেন তিনি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক গান থেকে শুরু করে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান, সবকিছু তাঁর গানের বিষয়বস্তুতে উঠে এসেছে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা।

শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের এক অস্থির সময়ে তাঁর সংগীত আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে বামপন্থী আন্দোলন, জাতিগত উত্তেজনা এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৮৩ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ—সবকিছুর প্রভাব তাঁর গানেও প্রতিফলিত হয়েছে। মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন নিয়ে তাঁর ‘পবনা’ অ্যালবাম শ্রীলঙ্কার সংগীত ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।

জীবনের শেষ দিকেও সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে তিনি প্রকাশ্যে সেই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। একটি সমাবেশে গান পরিবেশন করেন। কয়েক মাসের ওই গণবিক্ষোভের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।

নন্দা মালিনীর মৃত্যুতে শ্রীলঙ্কা সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদত্ত এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁকে ‘আমাদের সময়ের সত্যিকারের এক সংগীত কিংবদন্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু ঘটে। এ নিয়ে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৩১ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। ফলে সব মিলিয়ে দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩০ জনে।

শনিবার (২২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৮৮০ জন রোগী। তাদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে ৬৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর অবশিষ্ট ৮১৫ জন শিশু হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪০৬। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে ১৮ হাজার ২৭৩ জন রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সর্বমোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৮৩ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে এবং তারা ছাড়পত্র পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ পি.এম


ইরান অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

গত এক বছরে ইরান প্রতিরক্ষা অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিকের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক জানান, দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদের দ্রুত ও টেকসই উৎপাদন ইরানকে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত সরঞ্জাম দ্রুত প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা প্রদান করেছে।

তালাই-নিক উল্লেখ করেছেন যে, গত কয়েক বছরে গড়ে প্রতিষ্ঠিত কৌশলগত মজুদ এবং ইরানে তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। একইসঙ্গে নতুন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, জায়নবাদী শাসনের চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের সময় দেশটির কয়েকটি প্রতিরক্ষা-শিল্প স্থাপনায় সীমিত হামলা হলেও জুলাই ২০২৫ থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের বার্ষিক উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

তালাই-নিক আরও জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবির বিপরীতে ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন অব্যাহত ছিল। বরং যুদ্ধকালীন প্রয়োজনীয় কিছু কৌশলগত ও অগ্রাধিকারমূলক সামগ্রীর উৎপাদন তিনগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে।

তিনি সামরিক তথ্য ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষার উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তালাই-নিকের ভাষ্য, সম্ভবত দুর্বলতা প্রকাশ এবং শত্রুপক্ষকে অতর্কিত হামলার সুযোগ দেওয়া এড়াতে এসব তথ্য গোপন রাখা জরুরি।

এ কারণে গত দুই বছর ধরে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প দিবসে সামরিক প্রদর্শনী আয়োজন থেকে বিরত রয়েছে দেশটি। পাশাপাশি নতুন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উন্মোচনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করানো নয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ পি.এম


‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করানো নয়’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম উপাচার্য হিসেবে ১৪ মে নিয়োগ পান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন। সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণের পর আরটিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, করপোরেট সংযোগ, সমাবর্তন ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি মতামত প্রদান করেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আরটিভির নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা আবু তাহের।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এখনও পর্যন্ত একটি মাত্র সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে কী পরিকল্পনা আছে?

উপাচার্য: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছরের যাত্রায় এই সময়টিতে একবারই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য আমাদের অনেক শিক্ষার্থী অপেক্ষা করছেন। আসলে সমাবর্তন আয়োজন করা ব্যয়বহুল এবং এতে অনেকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দিকও এখন পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে গড়ে তোলা হয়নি। আমাদের লোকবলের অভাব রয়েছে এবং অর্থসংকট রয়েছে। তবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য সমাবর্তন একটি আবেগের জায়গা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে চায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুনভাবে দেখতে চায়। আমরা তাদের এই চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কাজ করছি। দ্বিতীয় সমাবর্তন আমরা খুব ধুমধাম ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করার চেষ্টা করছি। আমরা ধীরে ধীরে সমাবর্তন খাতে অর্থ জমা করানোর চেষ্টা করছি। উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অতি দ্রুতই দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন সম্ভব হবে।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকটের পরীক্ষা চলছে। বর্তমানে আবাসন সংকট নিরসনে বর্তমান প্রশাসনের পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য: অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসনের ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে আছি। আমাদের চারটি হলে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের অধিক জায়গা রয়েছে। নতুন দুটি বৃহৎ হল নির্মাণের কাজ চলছে, যা বাংলাদেশে খুবই বিরল। আমরা আশা করছি, সেপ্টেম্বর মাসে এটিকে হস্তান্তর করা হবে এবং আমাদের সেখানে অ্যালটমেন্ট দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। হলের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। আমরা ফার্নিচারের অর্ডারও দিয়েছি। যদি সেপ্টেম্বরের মধ্যে হল দুটি বুঝে নিতে পারি, তাহলে ৩ হাজার অতিরিক্ত শিক্ষার্থীকে আবাসনের সুযোগ দিতে পারব। ফলে আমরা ৫০ শতাংশ আবাসন সুবিধা পেতে সক্ষম হব। আমাদের আরও ৭৫ একর জমি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে তিনটি হলের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এটি আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। সেক্ষেত্রে আবাসন সংকট থাকবে না।

আরটিভি: পরিবহন সংকটের বিষয়টিও রয়েছে। শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিপরীতে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা কম। এই বিষয়ে প্রশাসনের পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য: আমাদের মূলত একটি অফিসিয়াল অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, তবে আমরা আরেকটি গাড়ি অ্যাম্বুলেন্সের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছি। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে অসুস্থকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য মূল অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই পরিবহন খাতে নতুন গাড়ির বাজেট পাচ্ছি না। ২৪টি গাড়ি ধরনের অবস্থা আছে আমাদের পরিবহন খাতে, যেগুলো বেশিরভাগই বিআরটিসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া দিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং তাদের কাছে সহযোগিতার জন্য আবেদন করেছি, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়।

আরটিভি: বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী দিনে কোথায় দেখতে চান?

উপাচার্য: আমার শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝেছি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করানো নয়, বরং তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা। তাই আমরা দেশের ও বিশ্বের যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষতা অর্জন করেছে, তাদের মতো ভালো কাজগুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। আমরা বিভিন্ন দেশের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর ব্যবস্থা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপযোগী করে লাগু করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সাম্য, মানবতা, প্রেম, নেতৃত্ব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষা নজরুল আমাদের দিয়েছেন, সেগুলো আমাদের ধারণ করতে হবে। তাহলে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। আমরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে কর্মরত। শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেবো। লক্ষ্য হলো, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি জায়গায় দাঁড় করানো, যেখানে শিক্ষার্থীরা ভালো শিক্ষা পাবে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার আকার খুবই ক্ষীণ। গবেষণা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রশাসনের কি পরিকল্পনা রয়েছে?

উপাচার্য: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী ও ক্লাসমুখী করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইউজিসি এমএসসি, এমফিল এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালুর পরিকল্পনা করেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আওতায় এ ধরনের প্রণোদনা দিয়েছি। বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে আমরা ঘোষণা করেছি, প্রত্যেকটি ফ্যাকাল্টিতে সেরা একজন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। আপনি নিয়োগে কীভাবে স্বচ্ছতা রাখতে চান?

উপাচার্য: নিয়োগ নিয়ে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি বা অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। আমি এই ধারাটিকে রোধ করতে একটি স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। নিয়োগের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছি। নিয়োগের প্রক্রিয়ায় মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, যে পদের জন্য যিনি বেশি যোগ্য, তাকেই সেই পদে নিয়োগ দেওয়া।

আরটিভি: ক্যাম্পাসের সবুজায়ন তুলনামূলকভাবে কম। ক্যাম্পাসকে সবুজায়নে প্রশাসনের পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য: দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সুন্দর, পরিকল্পিত ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। ভবিষ্যতে ভবন, রাস্তা, মাঠ বা অন্যান্য স্থাপনাগুলো পরিকল্পনামতো স্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় গাছ লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, আঞ্চলিক সংগঠন ও অন্যান্য সংগঠন এই কাজে সহযোগিতা করছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায়ই ক্যাম্পাসে গাছ লাগানোর কাজ চলছে।

আরটিভি: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিত্তিপ্রস্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আনার পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে থাকা ভিত্তিপ্রস্তরটি আমাদের ক্যাম্পাসের ভেতরে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। সেখানে একটি স্মৃতি সংগ্রহশালা তৈরি করাও আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। একইভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত বটতলাটিকেও ক্যাম্পাসের সীমানায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে, যেখানে একটি নজরুল সংগ্রহশালা করা হবে। ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখিয়েই এসব স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি।

আরটিভি: সরকারি ও বেসরকারি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অংশীদারিত্ব জোরদার করার পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য: আমরা এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছি। ইতোমধ্যে `Industry Academia Collaboration` শীর্ষক একটি সেমিনার করেছি। শিক্ষার্থীরা স্নাতক হওয়ার পর যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো চিহ্নিত করার কাজ হচ্ছে এবং সেক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য সিলেবাস প্রণয়নে অ্যালামনাইদের যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানও শিক্ষার্থীদের থিসিস, প্রজেক্ট ও প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করছে। ইউজিসি ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে, যা ভবিষ্যতে ৮০০ কোটি টাকায় উন্নীতকরার পরিকল্পনা রয়েছে। এই তহবিল একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

আরটিভি: আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তৈরি করার জন্য আপনার উদ্যোগ কী?

উপাচার্য: আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ের জন্য যেসব নিয়ামক রয়েছে, সেগুলো অর্জন ও প্রবর্তনের জন্য আমরা কাজ করছি। আমাদের অনেক শিক্ষকের ভালো ভালো পাবলিকেশন বের হয়েছে। সম্প্রতি কিউ-ওয়ান (Q1) জার্নালে প্রকাশিত আর্টিকেলগুলোর জন্য আমরা প্রত্যেকটি ফ্যাকাল্টির সেরা একজন শিক্ষককে পুরস্কৃত করেছি। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও কিউ-ওয়ান জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশিত হলে এ ধরনের প্রণোদনা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে গবেষণা কার্যক্রম আরও দ্রুত হয়। র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাইটেশনও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা এবং মানসম্মত পাবলিকেশনের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। শিক্ষকদের তাদের গবেষণা ও অর্জনগুলো ব্যক্তিগত প্রোফাইলে তুলে ধরতে উৎসাহিত করছি। ইতোমধ্যে আমাদের একটি আর্টিকেল এক মাসের মধ্যে ৯০০টি সাইটেশন পেয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষকের সাইটেশন ৫ হাজারের উপরে। এটা একটি তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আশা করি, আমাদের গবেষকদের অবদানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%