ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি


গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে গণমাধ্যম। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে থেকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আজ দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির ১২ সদস্যের একটি দল রাষ্ট্রপতির সাথে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাথে সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। আমার সবচেয়ে দুঃসময়ে আপনারা আমার পাশে ছিলেন, যা আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি।

আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে পূর্বনির্ধারিত স্থানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণে সার্বিক সহযোগিতা করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমার জায়গা থেকে আপনাদের জন্য যেটুকু করার আছে, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমি সেটুকু করার চেষ্টা করবো।

এসময় তিনি দৈনিক বাংলা-সহ বন্ধ থাকা অন্যান্য পত্রিকা পুনরায় চালু করার উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি, বিভক্তি কখনো সাফল্য এনে দিতে পারে না। আপনারা মৌলিক জায়গাগুলোতে এক হতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গেও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।’

এ সময় তিনি নিজেদের সুরক্ষার জন্য এবং অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে

একইসাথে রাষ্ট্রপতি সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘বন্ধ পত্রিকাগুলো, বিশেষ ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে অন্তত ১ হাজার সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

তিনি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি তাগিদ দেন।

তিনি দেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তরুণ প্রজন্মের মন-মানসিকতা পরিবর্তনে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে একটা সংস্কৃতি। একে প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হবে। সেজন্য মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন করতে হবে। পুরোনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তা-ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যেও গণতান্ত্রিক ভাষা ও মানসিকতা তৈরি করা জরুরি। আন্দোলন করে পরিবর্তন আনার পরও যদি পুরোনো মানসিকতা থেকে যায়, তাহলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হবে না।’

আরও পড়ুন: দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়ের তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন

এ সময় তিনি সরকারের যৌক্তিক ও গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলো গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দিতে হবে। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কথা যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একইসাথে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

তিনি দেশের গণমাধ্যমের প্রাণকেন্দ্র এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারের সাথে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।

আরও পড়ুন: এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়বে কিনা, গণশুনানি আগামীকাল

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ উপস্থিত অন্য সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে প্রেস ক্লাবে আমন্ত্রণ জানান।

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রেস ক্লাবে আপনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে, প্রেস ক্লাবেরই একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

সদস্য কাদের গনি চৌধুরী বিগত সময়ের অপসাংবাদিকতার কথা তুলে ধরেন এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ধারা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ এ সময় রাষ্ট্রপতির সাথে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় রাষ্ট্রপতির ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।

আরও পড়ুন: অন্ধ্র প্রদেশ অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

তিনি বলেন, গত ১৭ বছর সাংবাদিকদের ওপর যে ধরনের বাধা ও নিয়ন্ত্রণ ছিল, তাতে সাংবাদিকতার সংজ্ঞাই পরিবর্তন করতে হয়েছিল। কিন্তু গত কিছুদিনে আমরা মুক্তভাবে লিখতে পারছি, মুক্তভাবে বলতে পারছি। এই স্বাধীনতা যেন অক্ষুণ্ন ও অব্যাহত থাকে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আপনাদের সামনে সত্যটা তুলে ধরেন। আপনারা অন্যান্য জায়গায় হয়তো সবসময় আপনাদের খুশি রাখার মতো কথা শুনবেন। কিন্তু সত্যটা জানতে হলে সাংবাদিকদের কাছে আসতে হবে। এই পথ যেন অব্যাহত থাকে, এই স্বাধীনতা যেন অক্ষুণ্ন থাকে।

এ সময় তিনি সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও রাষ্ট্রপতির নিকট সহযোগিতা কামনা করেন।

উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা এ সময় প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করলে রাষ্ট্রপতি সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সদস্য কাদের গনি চৌধুরী, সদস্য আবদুল হাই শিকদার, সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ, সদস্য কাজী রওনাক হোসেন, সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, সদস্য শাহনাজ বেগম পলি, সদস্য মাসুমুর রহমান খলিলী ও সদস্য এ কে এম মহসীন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুঠিয়া বিএনপি কার্যালয়ে ডাবল স্ট্যান্ডঃ আ.লীগ নেতাদের আপ্যায়ন, বিএনপি নেতাদের শায়েস্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


গুঠিয়া বিএনপি কার্যালয়ে ডাবল স্ট্যান্ডঃ আ.লীগ নেতাদের আপ্যায়ন, বিএনপি নেতাদের শায়েস্তা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের বসিয়ে আপ্যায়ন ও আড্ডা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে নির্ধারিত চেয়ারে বসার অভিযোগে দুই বিএনপি নেতার সাংগঠনিক পদ সাময়িক স্থগিত করা হলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের একই চেয়ারে বসিয়ে আপ্যায়নকারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন নেতাকর্মীরা।

উপজেলা বিএনপির একটি পত্রে জানা যায়, গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন এবং ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আবু বক্করের সাংগঠনিক পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এর বিপরীতে একই কার্যালয়ে গুঠিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী সহ-সভাপতি জগলু মাস্টার ও মিজানুর রহমানকে বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্ধারিত চেয়ারে বসিয়ে খোশমেজাজে আড্ডা ও আপ্যায়ন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ছবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি টাঙানো ওই কার্যালয়ের ভেতরে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে বসে থাকতে দেখা যায় বলে দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তাদের অভিযোগ, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলার কঠোর প্রয়োগ করা হলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শাহীন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক লাবলু চাপরাশির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়ম, দখল ও সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।

এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, কৃষকদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী বলেন, “আমরা দলীয় কার্যালয়ের চেয়ারে বসলে শাস্তি, অথচ নেতারা আওয়ামী লীগ নেতাদের সেই চেয়ারে বসিয়ে আপ্যায়ন করলে কোনো ব্যবস্থা নেই। এটি স্পষ্ট ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। দলীয় শৃঙ্খলা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।”

তারা আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলার কথা বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তৃণমূলের মধ্যে হতাশা ও বিভক্তি আরও বাড়বে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লাবলু চাপরাশি বলেন, নির্বাচনে আগে অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে জগলু মাস্টার ও মিজানুর রহমান গুঠিয়া বিএনপি অফিসে এসেছিলেন। কোন রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, শিক্ষক হিসেবে তাদেরকে আমরা আপ্যায়ন করেছি। এটাকে এখন অনেকে প্রচার করে ভিন্নখাতে নিতে চায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামাজিক নিরাপত্তা ভাতায় ত্রুটি কমাতে তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল ডাটাবেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


সামাজিক নিরাপত্তা ভাতায় ত্রুটি কমাতে তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল ডাটাবেজ

সংসদ ভবন, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে একটি ত্রুটিমুক্ত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে, যা ডোর-টু-ডোর পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আজ জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

রফিকুল ইসলাম হেলালী মন্তব্য করেন, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত দুস্থ ও নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ বিভিন্ন জটিলতার কারণে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান। কিছু জায়গায় উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগও রয়েছে। তিনি জানতে চান, প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর জন্য শক্তিশালী ও ত্রুটিমুক্ত ডিজিটাল ডাটাবেজ এবং কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর জন্য কি কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা ডোর-টু-ডোর অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশে যখন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ একযোগে শুরু হবে, তখন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন নিয়ে যে ত্রুটির বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো অনেকাংশে কমে আসবে এবং এ নিয়ে সন্দেহও দূর হবে।

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের সময়ে বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ পদ্ধতিতে দেওয়া হতো। নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হতো, যার ফলে বয়সসীমা পূরণ করলেও সবাই ভাতা পেতেন না। বর্তমানে এসব কর্মসূচি ইউনিভার্সাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফলে, পর্যায়ক্রমে ত্রুটির সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে, গাজীপুর-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য সালাহ উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তদের নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

তবে মাদকাসক্তদের নিরাময়ের পর পুনর্বাসনের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বেকার যুবক ও নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৪টি ট্রেড চিহ্নিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলায় এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তরা চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠলে, তাদেরও এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব মাদ্রাসায় মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


সব মাদ্রাসায় মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

সংসদ ভবন, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ২০২৬-২০৩১ অর্থবছরের মধ্যে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাসহ দেশের সব মাদ্রাসায় মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মৌলভীবাজার-২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের ‘স্বাস্থ্য ও খাদ্য’কে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সহায়তা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসইডিপি (সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) কর্মসূচির আওতায় ‘মাদ্রাসা শিক্ষা উৎকর্ষ সহায়তা কর্মসূচি’ (এমইইএসপি) প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৬-২০৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের সব মাদ্রাসায় মিড-ডে মিল চালু করা হবে। এর আওতায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোও থাকবে।

এর আগে প্রশ্নে সংসদ সদস্য জানতে চান, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল সুবিধা প্রদান করলেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে অবহেলিত এতিমখানার শিক্ষার্থীরা কেন এ সুবিধা পাচ্ছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক ফিউচার্স মার্কেটে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন যে, এটি যে কোনো মুহূর্তে ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করতে পারে।

বাজার সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক ফিউচার্স মার্কেটে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারে লেনদেন হতে দেখা যায়। এর আগে, সোমবার কার্যদিবসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯৮.০৬ ডলারে ওঠার পর দিন শেষে ৯৭ ডলারে স্থির হয়েছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের ফিউচার্স চুক্তিমূল্য প্রতি ব্যারেলে ৯৪.৪৭ ডলারে পৌঁছেছে।

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বেশ কয়েকটি শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম সীমিত করা হয়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন করে বড় ধাক্কা লেগেছে।-

রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%