ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে শিবির নেতার হেনস্তার শিকার সাবেক ৬ ঢাবি শিক্ষার্থী


ঢাবির শহীদুল্লাহ  হলে শিবির নেতার হেনস্তার শিকার সাবেক ৬ ঢাবি শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল মাঠে বিশ্বকাপ খেলা দেখতে গিয়ে হল সংসদ নেতার হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক ছয় শিক্ষার্থী। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সুফিয়া কামাল হলের একদল শিক্ষার্থী শহীদুল্লাহ হলের খেলার মাঠে অবস্থান নেন। ২০১৮-১৯ সিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহতাসিন বিল্লাহ ইমন ফেইসবুকে লিখেছেন, দলের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে শুক্রবার রাতে ফ্রান্স ও নরওয়ের খেলা দেখতে গেলে তাদের বের করে দেওয়া হয়, কারণ তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক নারী শিক্ষার্থী ছিলেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত সাজু মিয়া হল ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক; তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সাজু স্বীকার করেছেন যে তারা ওই সাবেক শিক্ষার্থীদের হল থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছেন। তবে ‘নারী হেনস্তার’ কথা অস্বীকার করেছেন। বিডিনিউজ জানিয়েছে, এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সুফিয়া কামাল হল সংসদ, ছাত্রদল ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে। অভিযোগকারী মুহতাসিন বিল্লাহ ইমন ‘ঢাবি ক্যাম্পাসে কি মববাজদের থেকে আমরা ঢাবিয়ানরাই নিরাপদ?’ শিরোনামে তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “আমরা নিয়মানুযায়ীই হলের রেজিস্ট্রার খাতায় নাম লিখিয়ে শহীদুল্লাহ হলে প্রবেশ করি। সেখানে খেলার জন্য বসেছিলাম, অনেকদিন পরে ক্যাম্পাসে আসায় আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে ৪ জন শিক্ষার্থী এসে আমাদের জিজ্ঞেস করে, ‘আপনারা কি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী?’ আমরা শান্তভাবেই বলি, জ্বি, আমরা ১৬-১৭, ১৭-১৮ ও ১৮-১৯ সেশনের। ফ্রান্স ও নরওয়ের খেলা দেখতে এসেছি।” ইমন বলেন, “হঠাৎ করে, তাদের মধ্যে একটা ছেলে বলে, ‘আপনারা কোন লজিকে একটা মেয়ে নিয়ে বয়েজ হলে খেলা দেখতে আসছেন?’ আমরা তারপরও শান্তভাবে বলি, ভাইয়া আমরা তোমার ক্যাম্পাসেরই সিনিয়র, ২২ সালেও আমরা এখানে ওয়ার্ল্ডকাপ খেলা দেখতে আসছি।” “আমাদের সঙ্গে যে শহীদুল্লাহ্ হলের ছিল, সে বলে, ‘আমাদের সঙ্গে যে আপু, উনিও ক্যাম্পাসেরই। আর তার আপন ছোট ভাই তোমাদের হলেরই ২২-২৩ সেশনের আবাসিক শিক্ষার্থী’।” এসময় ওই চারজনের পাশে আরো আট-নয়জন এসে ঘিরে ধরে ‘চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করে’ বলে অভিযোগ করেন ইমন। তিনি বলেন, “এর মাঝেই একজন নিজেকে পরিচয় দেয় সে এই হলের সমাজসেবা সম্পাদক, পরে জানতে পারি তার নাম সাজু। তার পাশে হল সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পরিচয় দেওয়া আরেকটা ছেলে বলা শুরু করে, ‘ভাইয়া হলের ছেলেপেলেরা যদি আপনাদের ছবি তুলে হলের গ্রুপে পোস্ট করে গালিগালাজ করে সেটা কি ভালো হবে?” “আমি তখন বলার চেষ্টা করি, কেউ আমাদের ছবি তোলার জন্য আমরা ভয় পাওয়ার কী আছে? আর সেখানে যদি কেউ আমাদেরই বিনা কারণে গালি গালাজ করে, হল সংসদের প্রতিনিধি হিসেবে তারা কোথায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত?” খেলা দেখতে আসার সময় সঙ্গে ‘মেয়ে’ থাকায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করে ইমন লিখেছেন, “হঠাৎ করে সাজু নামে ছেলেটা উচ্চস্বরে এবং খুবই উগ্রভাবে বলে উঠে, ‘আপনাদের আর ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না, আপনাদের এখন ওঠেন আর বের হয়ে যান, এখানে মেয়ে নিয়ে থাকা যাবে না।’ তখন শাওন ভাই উঠে বলে, ভাইয়া, তুমি যাকে মেয়ে মেয়ে বলছ ও আমার স্ত্রী আর তুমি কি কাইন্ডলি তোমার পরিচয় দিবা? আমরাও জানি যে কে আমাদের বের করে দিচ্ছে। তখন পাশের আরো ২-৩টা ছেলে বলাবলি শুরু করে, ভাই এই প্রোগ্রামটার অর্গানাইজার আমরা। আমাদের অনেক কিছু হ্যান্ডেল করা লাগে।” এ ঘটনায় ইমন লিখেছেন, “আমরা আমাদের সঙ্গে হওয়া এই হ্যারাসমেন্টের বিচার চাই। বিশ্বকাপের মতো একটা উৎসবের সময়ে এভাবে ক্যাম্পাসজুড়ে হওয়া মববাজির অবসান চাই। ক্যাম্পাসের ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও নিরাপদে খেলা দেখা নিশ্চিত হোক।” হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে সাজু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমরা তাদেরকে ভালোভাবে চলে যেতে বলি। তারা উল্টো আমাদের ওপর রেগে যায়। আমরা মেয়ে নিয়ে কোনো কথায় বলিনি।’ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মিফতাহুল মারুফও হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘এখানে সিনিয়র আর জুনিয়রদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এখানে কোনো নারী হেনস্তা হয়নি। অ্যান্টি শিবির অ্যালায়েন্স এটাকে ফ্রেমিং করে এ ঘটনা বানিয়েছে।’ এ ঘটনায় হল সংসদ কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে জিএস তৌকির হাসান বলেন, হল সংসদে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তাই কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তখন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিডিনিউজ জানায়, এ বিষয়ে কথা বলতে শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের একদল শিক্ষার্থী রবিবার সকালে আর্জেন্টিনার ম্যাচের সময় শহীদুল্লাহ হলের খেলার মাঠে অবস্থান নেন। সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রী বলেন, ‘পরে সেখান থেকে প্রক্টরের কাছে এ ঘটনাসহ নারী হেনস্তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্মারকলিপি দিয়েছি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের যেন বিচারের আওতায় আনা হয় সে দাবি জানিয়েছি।’ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শহীদুল্লাহ হল শাখা ও প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, ‘দুঃখজনকভাবে, গত ২৭ জুন ফ্রান্স বনাম নরওয়ে ম্যাচ উপভোগ করার উদ্দেশ্যে আগত কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থী হল ছাত্রসংসদের সমাজসেবা সম্পাদক সাজু মিয়ার দ্বারা হেনস্তার শিকার হন। এক পর্যায়ে তাদের হল প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়া হয়, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের পরিপন্থি।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ‘ন্যক্কারজনক’ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সামি আব্দুল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত মববাজি, মোরাল পুলিশিং, নারী শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বল প্রয়োগের প্রবণতা এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ ‘শহীদুল্লাহ হলের সাম্প্রতিক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ঘিরে ধরা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হল ত্যাগে বাধ্য করা সেই উদ্বেগজনক প্রবণতারই বহিঃপ্রকাশ।’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মব সংস্কৃতি ও হয়রানিমূলক আচরণের’ বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর একজন সহকারী প্রক্টরকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত সহযোগিতার আশ্বাস দক্ষিণ কোরিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত সহযোগিতার আশ্বাস দক্ষিণ কোরিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়ার ডোমইয়ং মেটা কম্পানির প্রতিনিধিদল ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এই সময় প্রতিনিধিদল ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ভূমিমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে ভূমিমন্ত্রী বলেছেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় মন্ত্রী বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার চলমান ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ডোমইয়ং মেটার প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন।

তিনি বলেন, ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এই উদ্যোগের ফলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে, জনগণ আরও সহজে সেবা পাচ্ছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

বৈঠকে ডোমইয়ং মেটা কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত ডিজিটাল রূপান্তর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেটা-এর সহযোগিতায় তারা ডিআরএস (ভূমি রেকর্ড ও জরিপ) কার্যক্রম নির্ভুলভাবে বাস্তবায়ন, পরিচালনা ও সম্পন্ন করার সক্ষমতা রাখেন।

তারা আরও জানান, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় সক্ষমতার সমন্বয়ে সম্ভাব্য স্বল্পতম সময়ে সর্বোত্তম ফলাফল নিশ্চিত করতে ডোমইয়ং মেটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও সেবামুখী করে তুলতে ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

টানা তিন হারে বিদায়, তবু কেন হাসলেন উজবেক কোচ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


টানা তিন হারে বিদায়, তবু কেন হাসলেন উজবেক কোচ?

অধিনায়ক হিসেবে ইতালিকে বিশ্বকাপ জেতানো ফাবিও কান্নাভারো এবার কোচ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে টুর্নামেন্টের কঠিন বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করলেন। উজবেকিস্তান টানা তিনটি ম্যাচে হেরে নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপ অভিযানটি হতাশার মধ্য দিয়ে শেষ করেছে। তবে বিদায়ের পরে কান্নাভারোর মুখে ছিল হাসি। তিনি তার আগেই উল্লেখ করা সেই কথাটি মনে করিয়ে দিলেন, 'বিশ্বকাপ খুবই নির্মম।'

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে উজবেকিস্তান। তাদের শেষ ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে দীর্ঘ সময় এগিয়ে থাকার পরও ৩-১ গোলে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে দলটি।

পর্তুগালের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর কান্নাভারোকে হাসতে দেখা গিয়েছিল, তেমনি ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পরাজয়ের পরও তার মুখে হাসি ছিল। ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইতালির সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক জানান, তার হাসির পেছনে যদিও হতাশা ছিল না, বরং বাস্তবতাকে গ্রহণ করার চেষ্টা করছিলেন।

কান্নাভারো বললেন, 'আপনাদের কি মনে হয় আমি নার্ভাস নই বা ক্ষুব্ধ নই? আমিও ভালো অনুভব করছি না, কারণ আমি হারতে পছন্দ করি না। আমরা অবশ্যই কিছু ভুল করেছি। কিন্তু আমি কখনোই আমার খেলোয়াড়দের দোষ দেব না। ড্র হওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বলেছিলাম, বিশ্বকাপ খুবই নির্মম।'

তিনি আরো উল্লেখ করেন, 'খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। তারা এখন ড্রেসিংরুমে খুব হতাশ। বিশ্বাস করুন, উজবেকিস্তানের আর কোনো তুলনায় তারা এই হার সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে।'

অভিষেক বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও কান্নাভারো দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী। তিনি বলেন, 'উজবেকিস্তানের ফুটবল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের একাডেমিগুলোতে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। তরুণ ফুটবলারদের উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করতে হবে। আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরে উজবেকিস্তানকে নিয়মিত বিশ্বকাপে দেখতে চাইলে এটাই একমাত্র পথ।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননে হামলা বন্ধে ইসরাইলকে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরাগচির আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


লেবাননে হামলা বন্ধে ইসরাইলকে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরাগচির আহ্বান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সব শর্ত অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে লেবানন-সংক্রান্ত ধারাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। লেবাননে হামলা বন্ধ করতে ইসরাইলকে বাধ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আরাগচি বলেন, দুঃখজনকভাবে লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।

তিনি আরো বলেন, এই সমঝোতা স্মারক ইসরাইলও গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ওয়াশিংটনের উচিত ‘তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি লেবাননে হামলা বন্ধে ইসরাইলকে বাধ্য করা।’

লেবাননে দখল করা এলাকাগুলো থেকে সরে যেতে ইসরাইলকে চাপ দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান আরাগচি। তিনি বলেন, এটি ছিল সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারা।

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রশ্ন ফাঁসের শাস্তি দেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


প্রশ্ন ফাঁসের শাস্তি দেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রশ্ন ফাঁস কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন মন্তব্য করেছেন, "এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা দেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে।"

তিনি বলেন, "পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ালে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

শিক্ষামন্ত্রী এ সময় আরও বলেন, "যদি জানা যায়, পরীক্ষায় নকল হয়নি, অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কোনো মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়, তাহলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং কাস্টডিতে নেবে। তদন্তে সত্যতা মিললে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। সেই সংক্রান্ত আইন করা হয়েছে।"

রবিবার (২৮ জুন) সিলেট জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী সাইবার সিকিউরিটি ও আইনি সংস্কারের বিষয়ে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, "প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়া সত্ত্বেও যারা ফাঁসের মিথ্যা প্রচার চালাবে, তাদের সাইবার সিকিউরিটির আওতায় ট্র্যাক করা হবে।"

তিনি বলেন, "বর্তমান আইনে বিভ্রান্তি ধরার জন্য বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। সেজন্য পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০ সংশোধন করা হয়েছে।"

এটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, "আপনি প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করবেন, আর আমরা কি চুপ করে বসে থাকব? এটি কোনো জোকস নয়, এটা অ্যাডুকেশন।"

"বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করলেই তাকে অপরাধী হিসেবে আইনের আওতায় আনা হবে।"

কলেজ জাতীয়করণ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, "ঢালাওভাবে কলেজ জাতীয়করণ করার ইচ্ছে সরকারের নেই। যাচাই-বাছাই করে যারা যোগ্য, কেবল তাদেরই নেওয়া হবে।"

তিনি বলেন, "জনস্বার্থ বিবেচনা না করে রাজনৈতিক কারণে কলেজ সরকারিকরণের সমালোচনা করেছেন।"

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন হুঁশিয়ারি দেন, "ডিজি অফিসে বসে কোনো ধরনের দালালি চলবে না।"

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবরসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র প্রধানরা।

এর আগে রবিবার সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান সরকারি কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%