ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর


জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

রাজবাড়ী, ৭ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে এবং সেগুলো জনগণের কল্যাণে বাস্তবায়িত হবে।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা এবং সদর উপজেলা পর্যায়য়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি আজ এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল প্রকল্প ডিসেম্বরে চালুর পথে, ২২ জেলার যান চলাচল উন্নত হবে

ড. রাশেদ আল মাহমুদ আরও বলেন, অতীতে পরিকল্পনাহীনভাবে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হতো। বর্ষা মৌসুম এলেই প্রকল্প গ্রহণ করা এবং মৌসুম শেষ হওয়ার পর তা শেষ হয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রকল্পের আওতায় খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে কোমলমতি শিশুদের আত্মবিকাশের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। নতুন কুঁড়ি কর্মসূচির মাধ্যমে খেলাধুলা, সংগীত এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে সম্প্রসারণ করে দেশের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়াতে ক্রীড়ার বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ছাত্রীর চিৎকারে ‘জুব্বা ও পায়জামা হাতে’ দৌড় দিলেন মাদরাসাশিক্ষক

বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, সরকার কৃষক কার্ড চালু করেছে এবং মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রয়োজন বিবেচনায় এ কর্মসূচির পরিধি আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, আগামী বাজেটে সৃজনশীল এবং জনকল্যাণমূলক ব্যয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে ঐক্য এবং সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলে। তাই সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার সরকারে অন্যতম অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামও তার বক্তব্য প্রদান করে বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে সময় প্রয়োজন। একই সাথে রাজবাড়ীর প্রতিটি বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু করার এবং ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: স্বর্ণের দামে ফের পতন, বাজারে বাড়ছে চাপ

পরে, সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ, খেলাধুলার সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র এবং স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন অতিথিরা। এ সময় জেলার ১৮১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ব্যাট, বল, ঢোল, ডুগি, হারমোনিয়াম, ন্যাপকিনসহ বিভিন্ন শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

সন্ধ্যায় রাজবাড়ী পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে আয়োজিত শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ড. রাশেদ আল মাহমুদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যন্তর মন্তরের পর এবার ঝাড়খণ্ডেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে সেই মুসলিম যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০২ এম


যন্তর মন্তরের পর এবার ঝাড়খণ্ডেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে সেই মুসলিম যুবক

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের টানা ৩৫ দিন খাবার সরবরাহ করে আলোচনায় আসা মোহাম্মদ জুনাইদ মালিক এবার ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আন্দোলনকারীদের সহায়তা করতে গিয়ে তিনি পুলিশের হয়রানির অভিযোগ তোলেন, তাও সত্বেও আন্দোলনকারীদের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন।

গাজিয়াবাদের ৩০ বছর বয়সী এলএলবি শিক্ষার্থী জুনাইদ মালিক বর্তমানে রাঁচিতে অবস্থান করছেন। সেখানে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে টানা দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করছেন।

জুনাইদ বলেন, 'আমরা সকালের নাশতার ব্যবস্থা করেছি এবং আন্দোলনকারীদের জন্য নিয়মিত খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। এটি শুধু আমার একার উদ্যোগ নয়, এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা।'

তিনি জানান, দিল্লি থেকে তার পুরো স্বেচ্ছাসেবী দল রাঁচিতে এসেছে এবং আরো কয়েকজন যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের জন্য নিরামিষ বিরিয়ানি পরিবেশনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জুনাইদের ভাষায়, 'শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের সংগ্রামের পাশে থাকব। আমরা তাদের প্রত্যেককে সমর্থন করি এবং সবসময় তাদের পাশে থাকব।'

তিনি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের প্রতি শিক্ষার্থীদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।

জুনাইদ বলেন, 'টানা বৃষ্টিতে আন্দোলনস্থলে পানি জমে রয়েছে। এতে মশার প্রজনন বেড়ে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই সময় পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার কথা, কিন্তু কেন তাদের মূল্যবান সময় এভাবে রাস্তায় কাটাতে হচ্ছে?'

এদিকে, ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শুরু হওয়া আন্দোলন শুক্রবার ১৪তম দিনে গড়িয়েছে। বর্তমানে ছয়জন আন্দোলনকারী অনির্দিষ্টকালের অনশন পালন করছেন, যার মধ্যে একজনকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকারের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও কার্যকার পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা অনশনের মতো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে আরও পাঁচজন, যার মধ্যে দুইজন নারী রয়েছেন, ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা (জেএলকেএম)-এর নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতোর সঙ্গে অনশনে যোগ দেন। মাহতো টানা ছয় দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জানিয়েছিলেন, আলোচনা করার জন্য সরকারের দরজা খোলা রয়েছে, তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ তারা পাননি।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুলাই রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চের ব্যানারে শুরু হওয়া এই আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ে ঝাড়খণ্ডের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১০ এম


বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর

ঢাকা, ৭ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান উল্লেখ করেছেন, দেশে নিরাপদ, সহজ, স্বল্পব্যয়ী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

দুই দিনের অফিসিয়াল সফরের একটি অংশ হিসেবে, তিনি আজ শুক্রবার চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী গণি বেকারি পরিদর্শনকালে এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গভর্নর ৭-৮ আগস্ট চট্টগ্রামে সফর করছেন। সফরকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দাপ্তরিক সভায় অংশ নেবেন এবং নগরীতে বাংলা কিউআর প্রচারণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন।

সফরের প্রথম দিন, গভর্নর গণি বেকারি থেকে ঐতিহ্যবাহী বেলা বিস্কুট কিনে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করেন। গণি বেকারির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করা সত্যিই উল্লিখিত হয়েছিল, এবং তিনি এতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

গভর্নর আরও বলেন, একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণি বেকারিতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দেশের ডিজিটাল লেনদেনের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা এবং জনগণের আস্থা প্রকাশ করে। ব্যবসা-বাণিজ্যে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, খরচ হ্রাস এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সম্প্রসারণে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি দেশের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাংলা কিউআর গ্রহণের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলার উদ্যোগে সক্রিয় অংশ নিতে আহ্বান জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বাংলা কিউআর সারা দেশে একটি আন্তঃপরিচালনযোগ্য (ইন্টারঅপারেবল), নিরাপদ এবং সহজ ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাত মাস ধরে কারাবন্দি ইমরান খানের সঙ্গে যোগাযোগ নেই, উদ্বেগে পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২১ এম


সাত মাস ধরে কারাবন্দি ইমরান খানের সঙ্গে যোগাযোগ নেই, উদ্বেগে পরিবার

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই পুত্র কাসিম খান ও সুলাইমান খান তাদের বাবার সুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিগত সাত মাস ধরে পরিবারের সদস্য, আইনজীবী এবং চিকিৎসক কাউকেই ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। আটক হওয়ার তৃতীয় বার্ষিকীতে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন ইমরান খানের ছেলেরা। কাসিম ও সুলাইমান বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো নতুন তথ্য নেই, কারণ গত সাত মাস ধরে তার পরিবার, ডাক্তার ও আইনজীবীদের তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর সমর্থকদের দ্বারা দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে পাকিস্তান জুড়ে আয়োজিত বিক্ষোভের মধ্যেই এই বিবৃতিগুলো আসে। খান, যিনি ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সালে সংসদীয় অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, দুর্নীতির অভিযোগ এবং সরকারি গোপনীয় তথ্য ফাঁসের অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৩ সাল থেকে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন। তবে খানের রাজনৈতিক সহযোগীরা বরাবরই এই দাবিগুলো প্রত্যাখান করে আসছেন। তাদের মতে, ইমরান খানের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনে বাধা দেওয়ার জন্যই এই মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাসিম ও সুলাইমান দাবি করেছেন যে, যখনই তারা ইমরান খানের কারাবাস নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ভিসা প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক বাধা সৃষ্টি করে প্রতিবন্ধকতা আরও বাড়িয়ে দেয়। তারা আরো বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, আমরা যেতে চাই, কিন্তু কোনো সাড়া মিলছে না,' কাসিম সিএনএন-কে বলেন। তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের ভিসা না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কাসিম ও সুলাইমান সিএনএন-কে জানিয়েছেন যে, তাদের পরিচয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তা নবায়ন করা হয়নি। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোরও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই সপ্তাহে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে ‘নিঃশর্তভাবে ইমরান খান ও বুশরা বিবি খানের তাদের পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তা পেয়ে স্বস্তিতে মোংলার সুন্দরবননির্ভর জেলেরা: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩২ এম


প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তা পেয়ে স্বস্তিতে মোংলার সুন্দরবননির্ভর জেলেরা: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

বাগেরহাট, ৭ আগস্ট, ২০২৬ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এ কথা বলেছেন যে, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর মৌসুমি নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়হীন হয়ে পড়া সুন্দরবননির্ভর নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তা চালু করেছে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, এই উদ্যোগের ফলে উপকারভোগী জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময়ে তাদের পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।

সম্প্রতি মোংলায় জেলেদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম আরো বলেন, ‘অতীতে সুন্দরবননির্ভর জেলেদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ছিল না। এবারই প্রথম সরকার এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

তিনি জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলা এলাকার জন্য মোট ৮ হাজার ২৭১ জন নিবন্ধিত জেলের জন্য ৬ হাজার ৬৬২ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রামপাল এলাকায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকার কারণে সেখানে বরাদ্দও কিছুটা কম রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার একদিকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, অন্যদিকে বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। ভবিষ্যতে জেলেদের কল্যাণে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

প্রতি বছর প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের নদী-খাল ও বনসংলগ্ন জলাশয়ে মাছ, কাঁকড়াসহ বিভিন্ন জলজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ থাকে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও এ সময় বননির্ভর হাজারো জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এ বছর প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

খাদ্য সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগী জেলেরা। তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে না পারায় এতদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হতো। সরকারের এ উদ্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে তারা ভবিষ্যতে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার দাবি জানিয়েছেন।

মোংলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়ন) মো. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সুন্দরবননির্ভর নিবন্ধিত জেলেদের বছরে চার দফায় ৮৪ কেজি, ৭০ কেজি, ৫৬ কেজি ও ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির ফলে জেলেরা নিষেধাজ্ঞা আরও আন্তরিকভাবে মেনে চলতে উৎসাহিত হবেন।

তিনি আরো জানিয়েছেন, বন বিভাগ, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সুন্দরবনের নদী-খাল ও বনসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ রোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা এবং একই সঙ্গে বননির্ভর জেলেদের খাদ্য সহায়তার এই দুই উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বননির্ভর মানুষের টেকসই জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%