শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২০ পি.এম
রাজধানীর মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে এবং এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরের মিরপুর জোনের সদস্যরা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার। এছাড়া মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য ডা. মঈন উদ্দিন, আব্দুল্লাহ মুয়াজ এবং মনিরুল ইসলাম মৃধা প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান উল্লেখ করেন, সন্ত্রাসীরা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে রাতের অন্ধকারে লুটপাটের পর ভাঙচুর করে তা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, গত এক দশক ধরে অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। সভ্য সমাজে রাতের অন্ধকারে একটি মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি প্রশ্ন করেন, সরকারের প্রশাসন কোথায় ছিল? নাকি আমরা মেনে নেব, সরকার ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে?
মাহফুজুর রহমান সরকারের কাছে দাবি জানান, সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা হোক। তিনি সতর্ক করে বলেন, গরিব-দুঃখী মানুষের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি নজর দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের ওপর যারা জুলুম করবে, তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে।’ মিছিলটি শাহ আলী মাজার গেইট থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-১ গোলচত্বরে এসে পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং তরুণদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন তরুণ, উদ্যোক্তা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘প্রি-কপ৩১ কনফারেন্স অন রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ শীর্ষক সম্মেলনে তারা এসব বক্তব্য তুলে ধরেন। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (ইআরপিডিএফ) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন।
সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ডিএসসিসি পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও ক্লিন এনার্জি উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ভাবনা বাস্তবায়নে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো যায়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে নিশ্চিত করতে দেশের অবস্থানকে আরো জোরালো করতে হবে। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসাকে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ রোধ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাস্তবভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত এবং বিজ্ঞানসম্মত মনিটরিং ব্যবস্থার বিকল্প নেই। তিনি নগর এলাকায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণের মাধ্যমে পরিবেশের সার্বিক উন্নতি সম্ভব বলে উল্লেখ করেন।
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত নির্ভরতা মৎস্য সম্পদের ওপর ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ ও গরম পানির কারণে নদীদূষণ, অক্সিজেনের ঘাটতি ও মাছের ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ফেজ-আউট এবং বিদ্যমান স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা জানান।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআর-এর উপপরিচালক রউফা খানম বলেন, দেশে বিদ্যমান সবুজ উদ্ভাবনগুলোকে কার্যকর ও টেকসই করতে সরকারি তহবিলের পাশাপাশি কপ জলবায়ু অর্থায়নের সরাসরি প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশনের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তরুণ গবেষক ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সভাপতির বক্তব্যে এইচ এম সুমন বলেন, তরুণদের জলবায়ু নীতি নির্ধারণে শুধু দর্শক বা ধারণার উৎস হিসেবে রাখা যাবে না; তাদের মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নকারী হিসেবেও সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের সময়ের দাবি তুলে ধরেন।
দিনব্যাপী এ সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, পরিবেশবিদ ও গবেষকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দুই শতাধিক তরুণ, উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী ও উন্নয়নকর্মীসহ অনেকেই অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১০ তরুণ উদ্যোক্তাকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা প্রদান করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণদের জন্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত ‘মিট দ্য গভর্নর’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
গভর্নর বলেন, প্রত্যেক উপজেলা থেকে ১০ জন উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে। প্রত্যেক উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ অনুদান (গ্র্যান্ট) হিসেবে এবং বাকি ৫০ শতাংশ ঋণ হিসেবে প্রদান করা হবে।
মোস্তাকুর রহমান আরও জানান, লোনের পরিমাণ প্রচলিত কাঠামোর তুলনায় কম থাকবে। উদ্যোক্তার ধরন অনুযায়ী ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হবে। স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের জন্য লোনের পরিমাণ হবে ৪ শতাংশ, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পাঁচ শতাংশ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৭ শতাংশ হারে লোন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘কোর কমিটি’ সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এই বিষয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের নিরাপত্তা শাখা-২ থেকে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে, ওই নির্দেশনার বাস্তবায়নের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর থেকেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি প্রদান করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘কোর কমিটি’ সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী, দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের এই বিষয়ে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।
ডিএমপির চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোর কমিটির সভার রেকর্ড অব ডিসকাশনস অনুযায়ী, দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি। ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর এই পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-১ রাড্ডা টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তুলি।
এই সময় তুলি উল্লেখ করেন, "রাড্ডা টিকাদান কেন্দ্রে হামলা, দখল ও লুটপাটের ঘটনায় প্রশাসন তদন্ত করছে। তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "তবে কোনোভাবেই চলমান টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। জনস্বার্থে টিকাদান কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে অব্যাহত থাকে, সে লক্ষ্যে আমার রাজনৈতিক কার্যালয় (রুহানি টাওয়ারের ৩-য় তালা, মিরপুর-১, ঢাকা) অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করার জন্য রাড্ডা টিকাদান কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।"
তুলি জানান, টিকাদান কেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নিয়মিত টিকাদান সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নেওয়া হয়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ