মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:১৯ পি.এম
ঝালকাঠির নলছিটিতে মা ইলিশ রক্ষার উদ্দেশ্যে সুগন্ধা নদীতে অভিযান পরিচালনার সময় মৎস্য বিভাগের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে কুমারখালী এলাকায় ১২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় এসে হামলা চালান জেলেরা, যাঁরা রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এসেছিলেন। এই হামলায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সাতজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসার জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে একটি স্পিডবোট ও একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে সুগন্ধা নদীতে অভিযান শুরু হয়। নলছিটি অংশে অভিযান চলাকালে কুমারখালী এলাকায় ১২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা এসে তাঁদের গতিরোধ করে। এই সময় হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে আক্রমণ চালায়।
এই ঘটনায় জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার বিশ্বাস স্পিডবোট থেকে পড়ে আহত হন। অন্য আহতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, তিন আনসার ও ভিডিপি সদস্য হাবিলদার আবদুর রহিম, সিপাহি সাকিব হাসান, সিপাহি সেলিম মিয়া, মাঝি মো. রেজাউল করিম, চালক মো. মোস্তফা সিকদার এবং অফিস সহায়ক মো. রমজান আলী খলিফা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক মন্তব্য করেন, ‘ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আমাদের একটি দল সুগন্ধা নদীতে অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় আমাদের দলের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মৎস্য বিভাগের সাতজন আহত হয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা চালক ও মাঝিকে লক্ষ্য করে মারধর করেন এবং রামদা দেখিয়ে ভবিষ্যতে অভিযানে না আসার হুমকি দেন। হামলার সময় মাঝিদের কান ধরে ওঠবস করানো হয়, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতে অভিযানে সহযোগিতা না করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজ টি-টোয়েন্টি লিগের (সিএফএল) চারটি সেমিফাইনালিস্ট নিশ্চিত হয়েছে। ২২ অক্টোবর শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাকলিয়া অগ্রসর বয়েজ ক্লাব, এনএইচটি স্পোর্টস, রাইয়ান স্পোর্টস এবং আম্বিয়া স্পোর্টস।
২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আম্বিয়া স্পোর্টসের কাছে ৮ উইকেটে পরাজিত হয় বাকলিয়া অগ্রসর বয়েজ ক্লাব। তবে, এই পরাজয়ের পরেও টেবিলের শীর্ষে থেকে সেমি-ফাইনালের জন্য নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে বাকলিয়া।
এই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেন আম্বিয়া স্পোর্টসের এসএম তওসিফ। পুরস্কারটি তুলে দেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু।
বাকলিয়ার দেওয়া ১১৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে তওসিফ ৪৯ বলে ৫টি করে ৫ ছক্কা মেরে ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে দুটি সেমি-ফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হবে বাকলিয়া ও এনএইচটি এবং রায়ান স্পোর্টস ও আম্বিয়া স্পোর্টস। এই দুই বিজয়ী দল ৩০ অক্টোবর ফাইনালে শিরোপা জয়ের জন্য লড়াই করবে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, চট্টগ্রামের স্থানীয় ক্রিকেটারদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবং মাঠে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের আমেজ ফিরিয়ে আনতে ‘চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ (সিএফএল) ২০২৬’ আয়োজন করা হচ্ছে। স্পোর্টিফাই ইভেন্টস-এর সার্বিক আয়োজনে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেয়ার অভিযোগে ৩৮তম বিসিএসের দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত।
ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সম্প্রতি এই আদেশটি দিয়েছেন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে।
যাদের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তারা হলেন আবু সালেহ মো. মুসা এবং সঞ্জয় দাস।
অভিযোগ রয়েছে যে, তারা জাল সনদ ব্যবহার করে নিজেদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে বিভ্রান্ত করে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্ররোচিত করেছে। এর ফলে তারা ৩৮তম বিসিএসে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে চাকরিতে বহাল থেকে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন বেতন-ভাতা উত্তোলনের মাধ্যমে।
দুদক চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় সিনেমা ও টেলিভিশনে নারী চরিত্রের উপস্থাপনায় পরিবর্তন দেখে আশাবাদী অভিনেত্রী ফ্রিদা পিন্টো। তার মতে, পর্দায় নিখুঁত, আদর্শ ও নীতিবান নারী চরিত্রের পাশাপাশি ভুলত্রুটি, দুর্বলতা ও দ্বন্দ্বে ভরা বাস্তবধর্মী চরিত্রই দর্শকের কাছে অধিক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কারণ, দর্শক এমন চরিত্রের মধ্যে নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান।
বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রিদা বলেন, ত্রুটিপূর্ণ চরিত্রগুলো তার কাছে অধিক আকর্ষণীয়। কারণ, বাস্তব জীবনের মানুষ কখনোই পুরোপুরি নিখুঁত নয়। অতএব, পর্দায় অতিরিক্ত নিখুঁত চরিত্রের সঙ্গে দর্শকের সংযোগ তৈরি করা কঠিন। এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘যেসব কিছু নিখুঁত, সেগুলো একঘেয়ে এবং সেগুলোর সঙ্গে নিজেদের মেলানো যায় না।’
ভারতীয় বিনোদনজগতে সৃজনশীলতার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। বিশেষ করে তরুণ নির্মাতা ও শিল্পীদের নতুন চিন্তা, ভিন্নধর্মী গল্প এবং সৃজনশীল ভাবনাগুলো যেন প্রত্যাখ্যাত বা দমিয়ে দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তার মতে, নতুন ভাবনা প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলে পর্দায় আরও বৈচিত্র্যময় ও বিশ্বাসযোগ্য চরিত্র উঠে আসবে।
২০০৮ সালে অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এ লাতিকা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান ফ্রিদা পিন্টো। পরবর্তী সময়ে ‘রাইজ অব দ্য প্ল্যানেট অব দ্য এপস’, ‘ইমর্টালস’, ‘ত্রিশনা’ ও ‘লাভ সোনিয়া’র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও যুক্ত হয়েছেন ফ্রিদা। ২০১৮ সালে এমিলি ভেরেলেন স্ট্রমের সঙ্গে ‘ফ্রিবার্ড ফিল্মস’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি।
ফ্রিদার এই বক্তব্য আবারও সামনে এনেছে বিনোদনজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—নারী চরিত্রকে কেবল আদর্শের প্রতীক হিসেবে নয়, বরং আবেগ, ভুল, সীমাবদ্ধতা ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবেও তুলে ধরা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ২১ লাখের বেশি হলেও, নির্বাচনে তিনি মাত্র ৩৩টি ভোট পেয়েছেন। এর মধ্যে ১১টি ভোট এসেছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে। ভারতের রাজস্থানে পঞ্চায়েত নির্বাচনে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন ওমপ্রকাশ বিষ্ণোই, যিনি একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের যোধপুর জেলার ওসিয়ান তহসিলের ইন্দন কি ধানি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে সরপঞ্চ পদে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নিজেকে জ্যোতিষী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওমপ্রকাশ ইউটিউবার হিসেবেও পরিচিত। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউব মিলিয়ে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ।
এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামে রয়েছে ১৪ লাখ, ফেসবুকে ২ লাখ ৩২ হাজার এবং ইউটিউবে প্রায় ৫ লাখ। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালিয়েও নির্বাচনে প্রত্যাশিত সমর্থন তিনি পাননি। প্রায় ১ হাজার ৬০০ ভোটারের ওই গ্রামে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল মাত্র ৩৩।
নির্বাচনে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁদের মধ্যে একজন শিক্ষক পেয়েছেন ৫২৭ ভোট, বিজয়ী প্রার্থী গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
এনডিটিভিকে ওমপ্রকাশ জানান, গ্রামের মানুষ তাঁকে নির্বাচনে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেছিলেন। তাঁদের আশ্বাসে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু ভোট গণনার পর ফলাফল দেখে তিনি হতাশ হন।
তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসী বলেছিলেন, আপনি নির্বাচনে দাঁড়ান, আমরা আপনাকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে দেব। কিন্তু ভোটের বাক্স খোলার পর দেখলাম, আমি মাত্র ৩৩ ভোট পেয়েছি। ১০টি ভোট পড়েছে “নোটা”য়।’
নির্বাচনে ভোটারদের টাকা বা নেশাজাতীয় দ্রব্য বিতরণ করেননি বলেও দাবি করেন ওমপ্রকাশ। প্রচারের জন্য বড় গাড়িবহর ব্যবহার না করে আগের গাড়িতেই মানুষের কাছে গেছেন বলে জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা এবং সরাসরি ভোটের সমর্থনের মধ্যে পার্থক্যও তিনি স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘সামাজিক মাধ্যম এক জিনিস, আর বাস্তব পরিস্থিতি অন্য রকম। আমার পাওয়া ৩৩ ভোটের মধ্যে ১১টি পরিবারের সদস্যদের। বাকিগুলো এসেছে আমার সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং ঘনিষ্ঠ— এমন মানুষের কাছ থেকে।’
নির্বাচনে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার ছিল গ্রামের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করা, অসহায় প্রাণীদের যত্ন নেওয়া এবং বাসিন্দাদের কাছে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। নিজের পরিচালিত গোশালায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ গরু রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ কাজে নিজের প্রায় ৩০ বিঘা জমি দান করেছেন বলে জানান ওমপ্রকাশ।
তবে নির্বাচনে পরাজয়কে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তিনি। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন বলে জানান এই প্রভাবক। ভোটে হারলেও গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ