ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেপালের বন্যায় মৃ’তের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ ১৪৬৮


নেপালের বন্যায় মৃ’তের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ ১৪৬৮

শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৪৬৯-এ পৌঁছেছে।

নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৪৬৮ জন।

 

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

তবে, নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের বড় দুর্যোগের পর প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের পরিবর্তন হওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়। দুর্যোগের সময় একই ব্যক্তিকে একাধিকবার গণনা করা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় মিলিয়ে দেখা এবং দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহে সমস্যা হওয়ায় সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তের দুই পাশে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও চীনা নাগরিকের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও ভ্রমণকারীও রয়েছেন।

 

নেপালের দুর্যোগবিষয়ক সংস্থা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, দেশে ৯১০ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে অন্তত ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। তবে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে কোন দেশের কতজন রয়েছেন, তা এ সংস্থাটি জানায়নি। অন্যদিকে, নেপাল পর্যটন বোর্ডের বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সংখ্যা ৬৬৭ জন।

 

আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার

এই তালিকায় নেপালি ও বিদেশি নাগরিক উভয় পক্ষের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নেপালের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আরো কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।

সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতে চীন জানিয়েছে, ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। নেপাল ও তিব্বত দুই পাশের হিসাব একসঙ্গে ধরলে মোট নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত ১ হাজার ৪৬৮ জন।

 

তবে, দুই দেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও পর্যটন কর্তৃপক্ষের দেওয়া সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। ফলে সব তথ্য যাচাই শেষে নিখোঁজের মোট সংখ্যা বদলে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

নেপাল পর্যটন বোর্ড এবং বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল

নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ ৬৬৭ পর্যটক ও ভ্রমণকারীর মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক। তবে দুর্গত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।

চীন

আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে, নেপাল পর্যটন বোর্ডের হিসাবে নেপালে নিখোঁজ চীনা নাগরিকের সংখ্যা ২৪ জন। এর বাইরে, তিব্বতের চীনা অংশে নিখোঁজ ৫৫৮ জনের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

ভারত

নেপাল পর্যটন বোর্ডের বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুযায়ী, ১৭৮ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া আরো ১১ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ৯০ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। আরো তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর খবর এখন পর্যন্ত তাদের কাছে নেই। তবে, এর আগে বৃহস্পতিবার নেপাল পর্যটন বোর্ড ৬৫ জন মার্কিন নাগরিক নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছিল। অর্থাৎ, দুই পক্ষের হিসাবে পার্থক্য রয়েছে।

ইউক্রেন

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছে, দেশটির ৫৬ জন নাগরিকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে, মন্ত্রণালয় বলেছে, যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী দুর্যোগে আহত বা নিহতদের মধ্যে বর্তমানে কোনো ইউক্রেনীয় নাগরিক নেই।

মালয়েশিয়া

আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, নেপালে ৫০ জনের বেশি মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নেপাল পর্যটন বোর্ডের হিসাবে নিখোঁজ মালয়েশীয় নাগরিকের সংখ্যা ৫১ জন।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং শুক্রবার জানিয়েছেন, বন্যার পর নিখোঁজ অস্ট্রেলীয় নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাজ্য

নেপাল পর্যটন বোর্ডের বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

কানাডা

নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, ২৫ জন কানাডীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, নেপাল ও তিব্বতে থাকা ৩০ জন কানাডীয় নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দার নিরাপত্তা এবং অবস্থান এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, বন্যার পর রাসুয়া এলাকায় দেশটির একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা নয়জন কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে, নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, চারজন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

সিঙ্গাপুর

নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের নয়জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

জার্মানি

নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, জার্মানির আটজন নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

রাশিয়া

রাশিয়ার আটজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পর্যটন বোর্ড। এ ছাড়া আরো দুজন রুশ নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

আরো যেসব দেশের নাগরিক নিখোঁজ

নেপাল পর্যটন বোর্ড এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আরো কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৬ জন

লাটভিয়া: ৬ জন

জাপান: ৫ জন

নিউজিল্যান্ড: ৫ জন

ফ্রান্স: ৪ জন

স্পেন: ৪ জন। তবে, নেপাল পর্যটন বোর্ডের হিসাবে ৩ জন।

বেলজিয়াম: ৩ জন

হাঙ্গেরি: ৩ জন। তবে, নেপাল পর্যটন বোর্ডের হিসাবে ১ জন।

পর্তুগাল: ৩ জন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের একজনকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

নেদারল্যান্ডস: ২ জন

ইতালি: ৩ জন। আরো দুজন ইতালীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

আয়ারল্যান্ড: ২ জন

কাজাখস্তান: ২ জন

বেলারুশ: ১ জন

ফিনল্যান্ড: ১ জন

ইসরায়েল: ১ জন

লিথুয়ানিয়া: ১ জন

ফিলিপাইন: ১ জন

সার্বিয়া: ১ জন

উদ্ধার হওয়া বিদেশি নাগরিক

নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি দেশের নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ড: ১ জন

বুলগেরিয়া: ১ জন

দক্ষিণ কোরিয়া: ৪ জন

রাশিয়া: ২ জন

ভারত: ১১ জন

যুক্তরাষ্ট্র: ৩ জন

ইতালি: ২ জন

এ ছাড়া নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি- এমন আটজনকেও উদ্ধার করা হয়েছে। তিব্বতের চীনা অংশে নিখোঁজ ৫৫৮ জনের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে চীন। তবে এসব বিদেশি নাগরিক কোন কোন দেশের এবং কোন দেশের কতজন, তা এখনো জানানো হয়নি। এ কারণে নেপাল ও তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের মোট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার হিসাবে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। দুর্যোগের পর উদ্ধারকাজ ও পরিচয় শনাক্তের কাজ চলতে থাকায় নিখোঁজের সংখ্যা সামনে আরো পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়া গেলে অথবা উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হলে মৃত ও নিখোঁজের হিসাবও সংশোধন হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাজী নজরুলের স্মরণে আয়োজন রাখেনি রাবি-রাকসু, সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০০ এম


কাজী নজরুলের স্মরণে আয়োজন রাখেনি রাবি-রাকসু, সমালোচনা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কোন আয়োজন দেখা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর পক্ষ থেকেও কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমালোচনা করেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনেও রাবি ও রাকসুর পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ না নেওয়া সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার অভাবকে নির্দেশ করে। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দিবস ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালিত হলেও নজরুলকে স্মরণে কোন আয়োজন না থাকায় বিষয়টি হতাশাজনক।

হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আলফাজ উদ্দিন টনিক মন্তব্য করেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাকসুর পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন না থাকাটা সত্যিই হতাশাজনক।

 

নজরুল শুধু একজন কবি নন, তিনি আমাদের সাম্য, মানবতা ও প্রতিবাদের অনুপ্রেরণা। এমন একজন কবিকে স্মরণ করার দিনেও রাকসুর নীরব থাকা তাদের সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।’

মিনহাজুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এমন একজন জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে অন্তত আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেত।

 

রাবি ও রাকসুর মতো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না থাকাটা আমাদের জন্য হতাশাজনক।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা বলেন, ‘মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো আয়োজন করা হয়নি। তবে আমরা সামনে নজরুলকে নিয়ে বড় একটি প্রোগ্রাম আয়োজন করব।’

এদিকে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ সমালোচনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ও ফোকলোর ও সোশাল ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম কনক মন্তব্য করেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতির একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।

 

আমাদের চেতনায় ও মননে নজরুল সবসময় বিচরণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজন থাকা উচিত ছিল। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলচর্চার সুযোগ ও পরিসরও কম নয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নজরুল চেতনা ছড়িয়ে দিতে বেশি বেশি তাকে নিয়ে আলোচনা করা দরকার।’

রাকসুর আয়োজন না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেন আয়োজন করল না, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে। তাদের পরামর্শদাতাদের এ বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত ছিল। সমস্ত রাজনৈতিক নীতি-আদর্শের বাইরে গিয়ে রাকসু নজরুলকে নিয়ে আয়োজন করলে জাতির সামনে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেত বলে মনে করি।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী মূলত ২৯ আগস্ট। আজকে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছর ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। তাঁর শেষ ঠিকানা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেখানেই সমাহিত করা হয় জাতীয় কবিকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন সৌদি যুবরাজকে পাশ কাটিয়ে বাদশাহ সালমানকে চিঠি লিখল আমিরাত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৫ এম


কেন সৌদি যুবরাজকে পাশ কাটিয়ে বাদশাহ সালমানকে চিঠি লিখল আমিরাত?

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান কর্তৃক পাঠানো একটি হাতে লেখা চিঠি কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরবের প্রবীণ বাদশাহ সালমানের কাছে সরাসরি প্রেরিত এই চিঠিটি আন্তর্জাতিক এবং আরব কূটনীতিকদের মতে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতাকে কার্যত পাশ কাটানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউএই-র সরকারি সংবাদ সংস্থা ডাব্লিউএএম নিশ্চিত করেছে যে, আসন্ন ডিসেম্বরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট একটি পানি সম্মেলনে বাদশাহকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানাতে এই চিঠিটি প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে যে, চিঠিতে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এক পশ্চিমা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-কে জানিয়েছেন যে, কৌশলগত এই পদক্ষেপে সংযুক্ত আরব আমিরাত কোন বিকল্প না দেখে শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রশাসনের এই পাশ কাটানোর প্রক্রিয়ায় মোটেও সন্তুষ্ট হবেন না।

২০১৫ সালে তৎকালীন বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর মসনদে বসা ৯০ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান বর্তমানে বিদেশ সফরে খুব একটা যান না। ২০১৯ সালে তিউনিসিয়ায় অনুষ্ঠিত আরব লিগ সম্মেলনে যোগ দেওয়া ছিল তার শেষ সরকারি বিদেশ সফর। বর্তমানে তার ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই কার্যত দেশটির শাসক এবং সরকারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সমস্ত নীতিনির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সাথে একটি দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শেষে দেশে ফেরেন।

অতীতে বিভিন্ন দেশ যুবরাজকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করেছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি-সমৃদ্ধ এই দুই বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশীর সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে, যা এই চিঠির মাধ্যমে নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ইয়েমেনে আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীর ওপর সৌদি আরবের বিমান হামলার ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সুপ্ত রাজনৈতিক ফাটলকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। একইসাথে, সুদানের গৃহযুদ্ধেও দুই দেশ বিপরীতমুখী পক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটন সমঝোতার চেষ্টা করলেও কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ শান্তি দূত স্টিভ উইটকফ এবং ওয়াশিংটনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমিরাত সফরের পরিকল্পনা থাকলেও তা শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক অভিযানের পর সৌদি ও আমিরাত; উভয় দেশ সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুর মেলালেও তা স্থায়ী হয়নি। মধ্যস্থতার জন্য সৌদি আরব পরবর্তীতে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়লে আরব আমিরাত সেই প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। তবে সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মিলে একটি নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা প্যাক্ট’ ঘোষণা করেছে, যা ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের গভীর সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে একটি নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি জোট মক্কা প্যাক্টকে কোনো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ নয় বলে দাবি করলেও আবুধাবির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর তীব্র সমালোচনা করছেন। মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাবেক উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুলখালেক আবদুল্লাহ এই চুক্তির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখেন যে, যে কোনো সামরিক জোট সফল হওয়ার জন্য তাদের একটি সাধারণ বা মূল শত্রু নির্ধারণ করা আবশ্যক, কিন্তু এই জোট কাকে তাদের মূল শত্রু মনে করছে তা এখনও অস্পষ্ট।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৭ এম


পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

কুয়েত ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা জোরদারে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আল-সালেম আল-সাবাহের সফরের সময় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সফরের সময় কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে মতবিনিময় হয়।

কুয়েত আর্মির একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই চুক্তি দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

চুক্তির আওতায় সামরিক কার্যক্রমে সমন্বয় জোরদার করা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে উভয় দেশের অভিন্ন স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে ভূমিকা রাখবে এই চুক্তি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কুয়েত আর্মির চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালেদ আল-শুরাইয়ান এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদূত নাসের আল-মুতাইরি উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: কুয়েত টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে অটোরিকশার ধাক্কা, প্রাণ গেল ২ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৩ এম


দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে অটোরিকশার ধাক্কা, প্রাণ গেল ২ জনের

সিরাজগঞ্জের শিয়ালকোলে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ধাক্কায় দুই জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন চালকও রয়েছেন। এই ঘটনায় সিএনজির আরো এক যাত্রী আহত হয়েছেন।

 

আহত যাত্রীকে সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে সদর উপজেলার সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক মহাসড়কের শিয়ালকোল ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জা গ্রামের গুতু রাজবংশির ছেলে ঠাকুর হালদার (৭০) এবং কামারখন্দ উপজেলার কুটিরচর গ্রামের আলী আকতার ফকিরের ছেলে সিএনজি চালক আশিক (৩৫)। আহত ব্যক্তির নাম ঠাকুর হালদারের ছেলে বিষ্ণ হালদার।

 

নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোরে মাছ ধরার জাল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ঠাকুর হালদার ও তার ছেলে বিষ্ণ হালদার। পরে তারা কামারখন্দ উপজেলার বাজার ভদ্রঘাট থেকে একটি সিএনজিতে করে সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে রওনা দেন। বটতলা এলাকায় পৌঁছানোর পর সিএনজিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ধাক্কায় সিএনজিটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

 

দুর্ঘটনাস্থলেই চালক আশিক ও যাত্রী ঠাকুর হালদারের মৃত্যু ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আহত বিষ্ণ হালদারকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।

সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহ নিয়ে স্বজনরা বাড়ি চলে গেছেন। আহত বিষ্ণ হালদারকে সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%