১০:০৫ এম
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান কর্তৃক পাঠানো একটি হাতে লেখা চিঠি কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরবের প্রবীণ বাদশাহ সালমানের কাছে সরাসরি প্রেরিত এই চিঠিটি আন্তর্জাতিক এবং আরব কূটনীতিকদের মতে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতাকে কার্যত পাশ কাটানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউএই-র সরকারি সংবাদ সংস্থা ডাব্লিউএএম নিশ্চিত করেছে যে, আসন্ন ডিসেম্বরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট একটি পানি সম্মেলনে বাদশাহকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানাতে এই চিঠিটি প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে যে, চিঠিতে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এক পশ্চিমা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-কে জানিয়েছেন যে, কৌশলগত এই পদক্ষেপে সংযুক্ত আরব আমিরাত কোন বিকল্প না দেখে শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রশাসনের এই পাশ কাটানোর প্রক্রিয়ায় মোটেও সন্তুষ্ট হবেন না।
২০১৫ সালে তৎকালীন বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর মসনদে বসা ৯০ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান বর্তমানে বিদেশ সফরে খুব একটা যান না। ২০১৯ সালে তিউনিসিয়ায় অনুষ্ঠিত আরব লিগ সম্মেলনে যোগ দেওয়া ছিল তার শেষ সরকারি বিদেশ সফর। বর্তমানে তার ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই কার্যত দেশটির শাসক এবং সরকারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সমস্ত নীতিনির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সাথে একটি দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শেষে দেশে ফেরেন।
আরও পড়ুন: কাতারে গ্রেফতার বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান
অতীতে বিভিন্ন দেশ যুবরাজকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করেছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি-সমৃদ্ধ এই দুই বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশীর সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে, যা এই চিঠির মাধ্যমে নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ইয়েমেনে আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীর ওপর সৌদি আরবের বিমান হামলার ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সুপ্ত রাজনৈতিক ফাটলকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। একইসাথে, সুদানের গৃহযুদ্ধেও দুই দেশ বিপরীতমুখী পক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটন সমঝোতার চেষ্টা করলেও কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ শান্তি দূত স্টিভ উইটকফ এবং ওয়াশিংটনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমিরাত সফরের পরিকল্পনা থাকলেও তা শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক অভিযানের পর সৌদি ও আমিরাত; উভয় দেশ সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুর মেলালেও তা স্থায়ী হয়নি। মধ্যস্থতার জন্য সৌদি আরব পরবর্তীতে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়লে আরব আমিরাত সেই প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। তবে সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মিলে একটি নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা প্যাক্ট’ ঘোষণা করেছে, যা ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের গভীর সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে একটি নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি জোট মক্কা প্যাক্টকে কোনো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ নয় বলে দাবি করলেও আবুধাবির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর তীব্র সমালোচনা করছেন। মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাবেক উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুলখালেক আবদুল্লাহ এই চুক্তির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখেন যে, যে কোনো সামরিক জোট সফল হওয়ার জন্য তাদের একটি সাধারণ বা মূল শত্রু নির্ধারণ করা আবশ্যক, কিন্তু এই জোট কাকে তাদের মূল শত্রু মনে করছে তা এখনও অস্পষ্ট।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আরও পড়ুন: সাত খুন, মেজর সিনহা ও আবরার হত্যা মামলার আপিলের দ্রুত শুনানির উদ্যোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন