ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাঙ্গামাটিতে ব্রাজিল সমর্থকদের আনন্দ শোভাযাত্রা


রাঙ্গামাটিতে ব্রাজিল সমর্থকদের আনন্দ শোভাযাত্রা

দেশের পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা ও আনন্দ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ব্রাজিলের প্রিয় দলকে শুভ কামনা জানাতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। আর আর্জেন্টিনা সমর্থকরা তাদের অভিবাদন জানিয়ে হাতে ধরিয়ে দেয় আলোচিত কোমল পানীর বোতল।

শুক্রবার বিকেলে শহরের শহীদ মিনার থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু হয়। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে গায়ে হলুদ জার্সি পরে এবং হাতে হলুদ-সবুজ পতাকা নিয়ে সমর্থকরা রাঙ্গামাটি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হন।

বয়স এখানে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। শিশু, যুবক এবং বৃদ্ধ সকলেই অংশ গ্রহণ করেন। দেখে মনে হয় যেন এক ঝাঁক হলুদ পাখি। ভুভুজেলা বাঁশি বাজিয়ে শহরের অলিগলি ঘুরে ছুটে চলা মোটরশোভাযাত্রার গন্তব্য ছিল শহরের আসামবস্তি ব্রাজিল সেতু। সেতুতে পৌঁছে এরা স্লোগানে মুখর করে তোলে পুরো সেতু এলাকা। এটি যেন মনে হলো এক টুকরো ব্রাজিল।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

সমর্থক সাজিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের থেকে ব্রাজিলের আকাশ পথের দূরত্ব প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার। তারপরও আমরা ব্রাজিল দলকে উৎসাহিত করতে এ আয়োজন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার আমাদের হেক্সা মিশন অবশ্যই পূরণ হবে।’

অন্যদিকে সমর্থক মো. ইব্রাহিম জানালেন, ‘আমরা ৫টি বিশ্বকাপ জিতেছি। এবারের পুরো দল দারুণ ছন্দে রয়েছে। তাছাড়া এবারের দলটাও বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। আশা করছি এবারই আমাদের জার্সিতে সিক্স স্টার হবে।’

মিশু মল্লিক বলেছেন, ‘আমরা আর্জেন্টিনাকে কোনো দলই মনে করি না। তাদের বিশ্বকাপ জেতার পিছনে কলঙ্ক রয়েছে। হাত দিয়ে গোল করা, পেনাল্টি পাওয়া আরও কত অভিযোগ। তারা আমাদের সাথে কোন মুখে বড়াই করে? আমাদের মতো জার্সিতে ফাইভ স্টার যোগ করতে কম করে হলেও আরও ৩৬ বছর লাগবে।’

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

অন্য দিকে, ব্রাজিলের সমর্থকদের উল্লাসের মধ্যেও দমে যায়নি আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। শহরের কাঁঠালতলীতে কিছু আর্জেন্টিনা সমর্থক অবস্থান নেয়। ব্রাজিল সমর্থকদের শোভাযাত্রা পৌঁছাতেই তারা তাদের অভিবাদন জানিয়ে হাতে ধরিয়ে দেয় আলোচিত কোমল পানীয়র বোতল। তখন উভয় দলের সমর্থকদের মধ্যে হাস্যরস ও সৌহার্দ্য বিনিময় হচ্ছে। কেউবা নিজ থেকেই চেয়ে নিচ্ছে কোমল পানীয় সেভেন আপ।

আর্জেন্টিনা সমর্থক মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘ব্রাজিলের সমর্থকরা র‌্যালি করে ক্লান্ত হয়ে গেছে তাই তাদের কোমল পানীয় দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছি। তারাও আমাদের পানীয় সাদরে গ্রহণ করেছে। এটা আমাকে অভিভূত করেছে। আসলে এটা মজা করা। যারা পাগল বিষয়টি সিরিয়ালি নেয়।’

ব্রাজিলের এই শোভাযাত্রায় দুই শতাধিক মোটরসাইকেল অংশ নেয়। আগামী ১১ জুন সমর্থকরা নিজেদের প্রিয় দলের শুভকামনায় আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা শোভাযাত্রা বের করবে। দুই দলের সমর্থকরা শহরের বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করেছে।

আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ পি.এম


কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত বাণিজ্য মেলা স্থগিত বা বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন জেলার একটি সামাজিক সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে মেলা আয়োজনের অনুমোদন প্রক্রিয়া, আয়োজক নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিষয়াদি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবুর স্বাক্ষরিত এক আবেদনে এ দাবি জানানো হয়। আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

আবেদনে বলা হয়, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ ও পিছিয়ে থাকা জেলা। প্রতিবছর বন্যা, নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সঙ্গে লড়াই করে জেলার মানুষ জীবনযাপন করে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বর্ষণ ও নদীভাঙনে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
এ অবস্থায় বাণিজ্য মেলার আয়োজনকে সময়োপযোগী নয় বলে উল্লেখ করে আবেদনকারীরা বলেন, জেলার মানুষের প্রধান চাহিদা হচ্ছে নদীভাঙন প্রতিরোধ, কৃষি পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা নিশ্চিত করা। এমন বাস্তবতায় মেলা আয়োজন জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, অতীত অভিজ্ঞতায় এ ধরনের মেলায় স্থানীয় অর্থনীতি বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত সুবিধা পান না। বরং কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পায় বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে। পাশাপাশি মেলার সময় মাদক, জুয়া, লটারি, কিশোর অপরাধ, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিস্তার ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রস্তাবিত বাণিজ্য মেলার অনুমোদন পুনর্বিবেচনা, অনুমোদন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং জেলার প্রকৃত সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, “কুড়িগ্রামের মানুষ বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, এই সময়ে মেলার চেয়ে মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তাই জনস্বার্থ বিবেচনায় আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।”

মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ বলেন,
“কুড়িগ্রামের মানুষের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব বিনোদনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ এবং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করাও আমাদের লক্ষ্য। আগামী ২০ জুনের মধ্যে মেলার আয়োজন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। মেলা পরিচালনাকারীর কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা নেওয়া বা কোনো ধরনের আর্থিক ভাগাভাগির যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মেলার সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হবে।”

 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এতিম-পথশিশুদের সুরক্ষায় কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


এতিম-পথশিশুদের সুরক্ষায় কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আজ দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার (বালক) পরিদর্শন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী এতিম ও পথশিশুদের সুরক্ষা ও মানবিক উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সরকারি শিশু পরিবারগুলোকে আধুনিক ও শিশুবান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেছে। আজ দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার (বালক) পরিদর্শন শেষে তিনি একথা বলেন। এ সময় তিনি শিশুদের প্রতি আরও আন্তরিক হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী শিশু পরিবারের সার্বিক কার্যক্রম, আবাসন ব্যবস্থা, খাবারের মান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা সেবা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের লেখাপড়া, খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সাইফুর রহমান, জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: রাজু আহমেদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কায়কোবাদ মামুন, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারন সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম টুটুল, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন শাকিলসহ শিশু সদনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়া, ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী এডওয়ার্ড স্কুলের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের হোস্টেল পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন। এ সময় মন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শিশুদের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশনা প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিজবুল্লাহর হুঁশিয়ারি; ইসরায়েল সেনা না সরালে হবে না কোন যুদ্ধবিরতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


হিজবুল্লাহর হুঁশিয়ারি;  ইসরায়েল সেনা না সরালে হবে না কোন যুদ্ধবিরতি

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশার আলো দেখা দিলেও, আবারও নতুন করে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পথে অগ্রসর হচ্ছিল, তবে সেই পথের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে। কারণ, সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা যতদিন লেবাননের ভূমি ত্যাগ করবে না, ততদিন তারা অস্ত্র নামাবে না। এর ফলে নতুন যুদ্ধবিরতির আশা সত্ত্বেও, পুরো অঞ্চল আবারও অনিশ্চয়তার সামনাসামনি দাঁড়িয়ে পড়েছে। এই তথ্যটির প্রকাশ পেয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, লেবানন ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই শর্ত ছিল যে, হিজবুল্লাহকে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে নিজেদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নিতে হবে। কিন্তু সংগঠনটি এই শর্ত মানতে রাজি হয়নি। কারণ একই সময়ে, ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। তেল আবিব স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। এটাই সবচেয়ে বড় অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে।

হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে ‘লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেন, এটি লেবাননের জনগণকে ধ্বংস ও অধীনস্থ করার একটি পরিকল্পনা। তাঁর ভাষায়, ‘যতদিন দখলদারি থাকবে, ততদিন প্রতিরোধও চলবে।’

অন্যদিকে, ইরানও এই ইস্যুতে সক্রিয় হয়েছে। তেহরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে ইসরায়েলি হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। ফলে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সংঘাত এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে।

হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম জানান, যুদ্ধবিরতির আওতায় দক্ষিণ লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, কারণ সেখানে ইসরায়েল তথাকথিত একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি লেবাননের গ্রামগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকে এবং মানুষের হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে, তাহলে উত্তর ইসরায়েলের শহরগুলোও নিরাপদ থাকবে না।

অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের একজন শীর্ষ কমান্ডার জানান, যেকোনো সমাধানের ন্যূনতম শর্ত হলো ইসরায়েলকে যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরই ইরান পাল্টা জবাব দেয়। এরপর ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। তারপর থেকে একাধিকবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও সীমান্তের সংঘর্ষ থামেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেটে প্রাথমিক ও কারিগরি শিক্ষায় অগ্রাধিকার চায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


বাজেটে প্রাথমিক ও কারিগরি শিক্ষায় অগ্রাধিকার চায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

শুক্রবার ডিআরইউ-এর সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘শিক্ষা অধিকার সংসদ’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা জরিপের ফলাফল ও সুপারিশমালা প্রকাশিত হয়।

আসন্ন জাতীয় বাজেটের প্রেক্ষাপটে দেশের শিক্ষা খাতের গুণগত ও কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে প্রাথমিক এবং কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

তাদের মতে, প্রাথমিক স্তরের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। একই সাথে দেশের টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ বা তার বেশি বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী।

আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-এর সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘শিক্ষা অধিকার সংসদ’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা জরিপের ফলাফল ও সুপারিশমালা প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জরিপের বিস্তারিত তথ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য সচিব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর)-এর সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন। এ সময় সংগঠনের পক্ষে আবু সাদাত মো. মোস্তানসির বিল্লাহ, মিসবাহুর রহমান আসিম, মাহফুজুর রহমান মানিক ও মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম বাজেটকে সামনে রেখে এই জরিপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের দাবি এবং বিগত সময়ের স্বল্প বরাদ্দ ও দুর্বল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে আসতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গণতান্ত্রিক আবহে শিক্ষা বাজেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার এবং বিশেষ করে শিক্ষাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের গবেষণালব্ধ মতামতকে নীতি-নির্ধারকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর সরাসরি অংশগ্রহণে এই জরিপটি পরিচালিত হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের শিক্ষার স্তরভিত্তিক বণ্টনে স্নাতক (অনার্স) পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন ৬১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায় ছিল ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৫০ শতাংশ উত্তরদাতাই সরাসরি শিক্ষা, শিক্ষা প্রশাসন এবং শিক্ষা ও গবেষণা (আইইআর) বিষয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া ইংরেজি, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।

জরিপটিতে দেশের ১৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, চারটি গ্র্যাজুয়েট লেভেলের মাদরাসা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, জরিপের ফলাফলে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষাকে।

শিক্ষার্থীদের মতে, শিক্ষার ভিত্তি মজবুত না হলে উচ্চশিক্ষাসহ অন্যান্য স্তরে কাঙ্খিত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। এছাড়া ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষা এবং স্টেম শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর জোর দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জরিপে শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক ও গুণগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে উত্তরদাতারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করাকে। গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলগুলিতে শিক্ষার মানোন্নয়নে কেবল অবকাঠামো বা প্রযুক্তি নয়, বরং দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগকে প্রধান শর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা।

জরিপ প্রতিবেদনে শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দুর্নীতি, অপচয়, সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা মনে করেন, কেবল বাজেটের পরিমাণ বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়; বরং বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই শিক্ষা খাতে টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীরা নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে এমন একটি শিক্ষা বাজেট প্রত্যাশা করেন যা শুধু ব্যয় বৃদ্ধি নয়, বরং গুণগত শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং সুশাসনভিত্তিক শিক্ষা সংস্কারকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আসন্ন বাজেটে তরুণ প্রজন্মের এই প্রত্যাশা ও সুপারিশগুলোর প্রতিফলন ঘটাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%