০৩:৪২ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি বলেছেন, কাউকে পিছিয়ে না রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সমাজে নারীর অন্তর্ভুক্তিকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে সরাসরি নারীদের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করছে সরকার।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে Centre for Women and Children Studies (CWCS) -এর আয়োজনে ‘National Seminar on Advocacy for Change in Women’s Economic Empowerment in Bangladesh’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সভাপতি নাজ ফারহানা।
নারীর অগ্রযাত্রায় সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক ও উপবৃত্তি প্রথা চালু করেছিলেন, ফলশ্রুতিতে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ অভূতপূর্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
নারীরা যাতে কর্মক্ষেত্রে নিশ্চিন্তে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই বিবেচনায় বেগম খালেদা জিয়া’ই দেশে প্রথম ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই ডে-কেয়ার সুবিধাকে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নারীদের জন্য সঠিক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা গেলে নারীরা শুধু নিজেদের জন্যই কর্মসংস্থান তৈরি করবে না, বরং সমাজের অন্যান্য কর্মক্ষমদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে।
এক্ষেত্রে তিনি কেয়ার ইকনোমি এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। মন্ত্রী সমাজে বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের বক্তারা নারী স্বাস্থ্য রক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে নারীদের বিনা জামানতে ঋণ প্রদান ও ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর করে নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ইসরাত শারমিন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন Agence Française de Développement, সাউথ এশিয়ান উইমেন ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, বাংলাদেশ উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, সিলন চেম্বার অব উইমেন অন্ট্রাপ্রেনার, পূর্ণিমা, GERES, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দ্বারা প্রদত্ত দুটি বিশেষ তরমুজ সম্পর্কে মন্তব্য করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বিপরীতে পড়েছেন।
জাপানে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত শিনগো ইয়ামাগামি তার মন্তব্যকে ‘যৌনতাবাদী’ এবং অপমানজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে আলবানিজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে জানা যায়, গত মে মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজকে জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুটি বিশেষ তরমুজ উপহার দেন। পরে ‘বুশ ডিপ’ নামক এক অনুষ্ঠানে সেই উপহার নিয়ে মন্তব্য করার সময় বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও কৌতুকশিল্পী নিকি অসবোর্ন যখন তরমুজের কথা উল্লেখ করেন, তখন আলবানিজ বলেন, ‘তাঁর কাছে দুটি ছিল, আর সেগুলো সুন্দর।’ এই মন্তব্য ও তার অঙ্গভঙ্গি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়।
জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত শিনগো ইয়ামাগামি বলেন, আলবানিজের মন্তব্য ‘যৌনতাবাদী কৌতুক’ হিসেবে স্বীকৃত। তিনি উল্লেখ করেন, আলবানিজের এমন মন্তব্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে অপমানিত করেছে এবং দুই দেশের সম্পর্কের প্রতি অসম্মান দেখাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জাপানে এসব বিশেষ তরমুজ অত্যন্ত মূল্যবান ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং একটি তরমুজের দাম ৩০ হাজার ইয়েনেরও বেশি হতে পারে। ইয়ামাগামি বলেন, আলবানিজের উচিত, তিনি জাপানের মিষ্টি ও রসালো তরমুজের আনন্দ নেবার সময় সেগুলোকে নারীর শরীরের সঙ্গে তুলনা না করে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকে মনোযোগ দেওয়া।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল আলবানিজের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। বিরোধীদল নেতা অ্যাঙ্গাস টেলরও মন্তব্যটিকে অপমানজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে, আলবানিজ তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাননি। এক বিরোধী সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্নটির বক্তব্য তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সম্পর্ক বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং তার সরকার দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।
আলবানিজের পক্ষে তার সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও অবস্থান নিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী ক্যাটি গ্যালাঘার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের রাজনৈতিক বিরোধী ও কিছু গণমাধ্যমের ব্যাখ্যা ছিল অদৃষ্ট। সমাজসেবা মন্ত্রী তানিয়া প্লিবেরসেকও মন্তব্যটির ভিন্ন ব্যাখ্যাকে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে দাবি করেছেন।
এর আগে, একই অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কাইলি মিনোগ সম্পর্কে মন্তব্য করার জন্যও আলবানিজ সমালোচিত হয়েছিলেন। উপস্থাপক তাকে কাইলি মিনোগ, অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান ও বিনোদনশিল্পী রোন্ডা বার্চমোর সম্পর্কে আপত্তিকর প্রশ্ন করেন। জবাবে আলবানিজ কাইলি মিনোগকে বেছে নিলেও পরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
এবার নতুনভাবে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তরমুজ নিয়ে মন্তব্য করার জন্য বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি আজ শুরু হয়েছে।
এই শুনানি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে শুরু হয়।
আদালতে শুনানি রাষ্ট্রপক্ষে শুরু করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।
শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হল শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ। ২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই রায়ের মাধ্যমে এই মামলার বাকি তিন আসামি, শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ ও তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে।
২০২৫ সালের মার্চ মাসের শুরুতে, মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে, বোনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে শিশু আছিয়া পূর্বে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ শিশু আছিয়া মারা যায়।
এই ঘটনার গুরুত্ব বোঝার পর, দেশে নারী শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধুমাত্র নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য ২০২৬ সালের ১০ জুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বিশেষ একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন। বিশেষ এই বেঞ্চে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বাধীন এই টিমের আইনজীবী সদস্যরা হলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির। এছাড়া, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আঁখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল আমীন সিদ্দিকী এই টিমের অপর সদস্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ