বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:১১ পি.এম
নওগাঁর আত্রাইয়ে ১০ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে ৩৮ বছরের আতিকুর রহমান সুজা নামে একজন স্বাস্থ্য সহকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নেওয়ার সুবাদে ধর্ষণ চেষ্টার শিকার শিশুটির অভিভাবকের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে বুধবার রাতে মামলা দায়ের করেছিল। সম্প্রতি ঢাকায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে শিশুটিকে দুই মাস আগে গ্রামের নিরাপদে পাঠায় তার পরিবার। কিন্তু অবশেষে শিশুটি ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় জনগণ মানববন্ধন করেছে।
শিশুর পরিবার জানায়, শিশুটি গলা ব্যাধির কারণে অসুস্থ ছিল এবং মঙ্গলবার দুপুরে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে সাথে নিয়ে যায় ভুক্তভোগী। ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী আতিকুর রহমান সুজা সেই সুযোগ নিয়ে তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। শরীরের যে কোন সমস্যার জন্য আতিকুর বাহানা করে সেই ছোট শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয় এবং কাপড় খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখন রুমের বাইরে থাকা ছোট শিশুটি চিৎকার করতে শুরু করলে আতিকুর ভয় ও ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে ছেড়ে দেয়। পরে শিশুটি বাড়িতে এসে তার পরিবারের লোকজনকে ঘটনাটি জানায়। খবর পেয়ে শিশুর বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে বুধবার রাতেই আত্রাই থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আতিকুর রহমান সুজাকে গ্রেফতার করে। তিনি আত্রাই উপজেলার মহাদিঘী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ওরফে চাঁনের ছেলে।
শিশুর দাদা জানান, শিশুটির বাবা ও মা ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে। সেখানে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিশুটিকে তারা পড়াতেন। বাবা মা গার্মেন্টসে চলে যাওয়ার পর শিশুটি মাদ্রাসা থেকে ফিরে এসে বাসায় একা থাকত। সম্প্রতি ঢাকায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে শিশুকে গত ঈদুল আযহায় গ্রামের বাড়িতে পাঠান। কিন্তু সেখানে গিয়ে এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার হলো। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্থানীয় জনসাধারণ বৃহস্পতিবার দুপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে মানববন্ধন করেছে।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে শিশুর বাবা বাদী হয়ে বুধবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছে। অভিযানের প্রেক্ষিতে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা থেকে বৃহস্পতিবার সকালে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী আতিকুর রহমান সুজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে এদিনই আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর লালবাগের বেরীবাঁধ এলাকায় বুলডোজারের চাপায় অজ্ঞাতপরিচয় (৬০) এক নারীর মৃত্যু ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার সময় লালবাগ বেরীবাঁধের ঘোড়াপট্টি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওই সময়ই ঘটনাস্থলে নারীর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়।
লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান জানান, সন্ধ্যায় ওই নারী বেরীবাঁধ এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন যখন একটি বুলডোজার তাকে চাপা দেয়, ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত নারী ভিক্ষাবৃত্তি করতেন এবং ওই এলাকায় সাধারণত চলাফেরা করতেন। তবে, এখনও পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় বুড়িগঙ্গা নদীর ওপরে নির্মিত রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচের মাটি পূর্বের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অপসারণ করা হচ্ছে।
ভায়াডাক্টের কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্ত মোতাবেক এই মাটি অপসারণ করা হচ্ছে, বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌ-পরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।
আজ বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার আলীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত রেল সেতু সংলগ্ন ভায়াডাক্টের নিচের অংশ পরিদর্শন শেষে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে যে, বুড়িগঙ্গা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচের মাটি স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে সেতুসহ ভায়াডাক্টের পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, এখানে মাটি বিক্রয় করা হচ্ছে না এবং ভায়াডাক্টের ক্ষতি হওয়ার মতো কোনো হুমকিও সৃষ্টি হয়নি।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পের শুরুতে যে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিদ্যমান ছিল, প্রকল্প সমাপ্তির পর অনুরূপ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে গড়ে তোলা যে কোনো অস্থায়ী কাঠামো অপসারণে নির্মাণকারী সংস্থা দায়বদ্ধ। এজন্য প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে মাটি অপসারণ না করলেও অন্যান্য অস্থায়ী অবকাঠামো অপসারণ সাপেক্ষে নির্মাণকারী সংস্থাকে উক্ত বিল পরিশোধ করতে হবে, যা প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয়ে প্রভাব ফেলবে।
মন্ত্রী বলেন, নির্মাণকাজ শুরুর আগে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উক্ত প্রকল্প এলাকা একটি স্থায়ী জলাশয় ছিল, যা ২০১৫ সালের স্যাটেলাইট চিত্র ও ওয়েটল্যান্ড সার্ভে থেকে প্রমাণিত। প্রকল্প সমাপ্তির ওই জলাশয় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে অস্থায়ীভাবে ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করা হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অস্থায়ী এই মাটি অপসারণের কাজটি সুনির্দিষ্ট চেইনেজ অনুযায়ী করা হচ্ছে। মাটি কাটার গভীরতা গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট। সাড়ে পাঁচ ফুট মাটি অপসারণের পর যে ভূমিস্তর তৈরি হবে, সেখান থেকে পাইল ক্যাপের অবস্থান হবে ৮ ফুট নিচে। এই পাইল ক্যাপটি ৬ ফুট পুরু এবং এর ঠিক নিচেই ভায়াডাক্টের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ ৮টি পাইল মাটির গভীরে প্রোথিত রয়েছে, যা কাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আলোচিত মাটি অপসারণে ভায়াডাক্টের ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এ সময় তিনি উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার থেকে বিরত থাকা এবং প্রকৃত ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতাও কামনা করেন।
পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাঝরাতে আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো আছড়ে পড়তে শুরু করল একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র। চোখের পলকে হুড়মুড় করে ধসে পড়ে বহুতল ভবন। চারদিকে শুধুই আগুন, ধোঁয়া আর মানুষের আর্তনাদ। ভয়াবহ এই হামলায় প্রাণ হারাল অন্তত ২১ জন, আর আহত হয়েছেন দুই শিশুসহ ৮৫ জন।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ঘটে গেল রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলা। শহরের মেয়র এটিকে রাজধানীর ওপর হওয়া ‘সবচেয়ে বড় হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
টানা ১১ ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে এই ধ্বংসযজ্ঞ।
ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া রাতে ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন প্রেরণ করেছে। এর মধ্যে ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন শহরের ৩৩টি স্থানে সরাসরি আঘাত করেছে। হামলার ফলে একটি ৯ তলা আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। সড়কে থাকা গাড়িগুলোও দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে, চারপাশ বারুদের ধূসর ছাইয়ে ঢেকে গেছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের বাঁচানোর জন্য স্বজনদের কান্নার মাঝে উদ্ধারকর্মীরা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রেড ক্রসের একটি বড় গুদাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে থাকা প্রায় ১৩ লাখ পাউন্ড মূল্যের ৩ লাখ ২০ হাজার ত্রাণসামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাণ রক্ষার জন্য ওই রাতে প্রায় ৫২ হাজার মানুষ মাটির নিচে মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে আহত একজন, cuyo nombre es ওলেক্সি, বলেছেন, তিনি সিগারেট খেতে বাইরে বের হলে বোমার আক্রমণে উড়ে আসা কাচে আহত হন। অন্যদিকে, একটি নারী, cuyo nombre es সভিতলানা, জানিয়েছেন, এর আগের রুশ হামলায় তিনি তার মা এবং ছেলেকে হারিয়েছেন, তাই বোমার শব্দে নতুন করে তিনি ভয় পাননি।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে রাশিয়া একই সঙ্গে নানা ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেই এই চতুর হামলা চালিয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তারা কিয়েভের ওপর এমন চাপ লাগাতার অব্যাহত রাখবেন। তবে ইউক্রেন এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে নিরীহ মানুষদের হত্যা করছে। এই মহাধ্বংসযজ্ঞের পর আকাশ সুরক্ষিত রাখতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ১৫ পিস ইয়াবা, নগদ ৭১ হাজার ৯২০ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী ২৬ মামলার আসামি মাদক কারবারি মনির শেখ (৪৭) রয়েছেন। এছাড়া অন্য গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. সবুজ মিয়া ওরফে সবুজ (৩০), মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা ওরফে হাফিজুল (৩৭) এবং তৌহিদুল ইসলাম শেখ তামিম (২০)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মো. নাছের রিকাবদার সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার ভোরে ফকিরহাট থানার বারাশিয়া এলাকায় মনির শেখের বসতবাড়িতে অভিযান চালায়।
অভিযানে ৪ হাজার ১৫ পিস ইয়াবা, নগদ ৭১ হাজার ৯২০ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, গ্রেপ্তার মনির শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ