ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাখে আল্লাহ, মারে কে


রাখে আল্লাহ, মারে কে

 

সন্তান তার মায়ের কোলে সবচেয়ে নিরাপদ থাকে। কিন্তু যখন সেই মা জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, তখন শিশুর জীবন অবশ্যম্ভাবীভাবে ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে।

মা চেয়েছিলেন, তিনি তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুবরণ করবেন। হয়তো তিনি ভেবেছেন, তার না থাকার পর কে তার সন্তানকে দেখভাল করবে। সে কারণে, তার চেয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মরে যাওয়াই ভালো। কিন্তু এসময় আড়ালে হেসেছিলেন সৃষ্টিকর্তা।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

৩৭ বছর বয়সী ইশা সাহু ৬ মাস বয়সী তার মেয়ে বাণীকে নিয়ে ছয়তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে পড়ে যান। ঘটনার স্থলেই ইশা মারা যান। তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে তার কন্যা।

পুলিশ জানিয়েছে, বাণী মাটিতে পড়ার আগে নিরাপত্তার জন্য দেওয়া বেড়ায় ধাক্কা খায়।

ঠিক সেই ধাক্কাই শিশুটিকে নিরাপদ রেখেছে। পরে তাকে দ্রুত কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যদিও শিশুটিকে কিছু ক্ষুদ্র আঘাত পেয়েছে, তবুও বিপদের অবসান হয়েছে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

ভারতের হায়দরাবাদের মিয়াপুর এলাকার একটি ভবনে এই ঘটনাটি ঘটে। ইশা সাহু তার পরিবারের সঙ্গে কমপ্লেক্সের ৬ তলার একটি ফ্ল্যাটে বাস করতেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে যখন ইশা তার কন্যাকে নিয়ে লাফ দেন, তখন পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসাতেই অবস্থান করছিলেন। ইশা ১১ বছরের বিবাহিত জীবনে দুই কন্যাসন্তানের মা হন। তার ৮ বছর বয়সী বড় মেয়ের নাম বিঁথি। মধ্যপ্রদেশ থেকে আসা ইশা ও তার স্বামী দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছোট মেয়ে বাণীর জন্মের পর থেকেই ইশা তীব্র অনিদ্রা, উদ্বেগ এবং প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। এই ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। এই ঘটনায় মিয়াপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
‘অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাজেটের বিরোধিতা’

‘যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধীদল মানে না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


‘যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধীদল মানে না’

কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পাতলীখাল আনুষ্ঠানিক পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে। তিনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন, বিরোধী দলের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়; বরং তাদের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীলতা-অশান্তি তৈরি করা এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করা।

শনিবার কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পাতলীখাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, আলহামদুলিল্লাহ, বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পদার্থের ওপর থাকা যে সকল ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে। ফলে জিনিসের দাম বাড়েনি, যাতে দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বিরোধী দল বলছে যে এই বাজেট তারা মানে না, এই গণবিরোধ বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। একইভাবে যে বাজেটে মদের এবং সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘তাদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীলতা-অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’

প্রধানমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বাজেটে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সঙ্গে আমাদের শিল্প-বাণিজ্যও গড়ে তুলতে হবে। শিল্প-বাণিজ্য গড়ে উঠলে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সে কারণেই যেসব দ্রব্য দেশেও উৎপাদিত হচ্ছে এবং যেগুলো বিদেশ থেকে আসে, সেগুলোর ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। এভাবে দেশে উৎপাদিত দ্রব্যের শিল্প কারখানাগুলোর সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে, তবে এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এদেশের মালিক আপনারা। দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, পরিবারের সদস্য নয়; দেশের মালিক হচ্ছেন বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।

সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পাতালী খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং খালের পাড়ে একটি চারা রোপণ করেন।

তিনি মন্তব্য করেন, এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই শেষ ঠিকানা। তাই আমরা বলি, এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকব, আমাদের সন্তানরাই শান্তিতে থাকবে। যদি দেশকে গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যেই আমরা একটি কথাই বলি—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে মানুষের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে প্রত্যেকটি উপজেলায় ১০ হাজার কৃষিকার্ড দেওয়া হবে। কারণ, এই দেশের মানুষ যদি স্বাবলম্বী না হয় তাহলে দেশ কখনো উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে না। ইতিমধ্যে বর্তমান সরকার কৃষিকার্ড, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দিয়েছিলেন। নারী শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হচ্ছেন না হলে দেশ এগোতে পারবে না। তাই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাকে সম্পূর্ণ ফ্রি করা হবে। যারা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা রাখা হবে বাজেটে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। এসব গ্রামীণ পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে মায়েদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে।

এ সময় দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হবেন না।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদ। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম কক্সবাজার সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের খনন উদ্বোধনের পর তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এরপর তিনি পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে।

বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বিচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।

সকল কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ দিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদ্রাসাছাত্রীকে লক্ষ্য করে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রংমিস্ত্রি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ পি.এম


মাদ্রাসাছাত্রীকে লক্ষ্য করে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রংমিস্ত্রি আটক

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা নিয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ ঘটনায় রবিউল শেখ (৩৫) নামক এক রংমিস্ত্রিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা বেলায় উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের সাফলীডাঙ্গা পূর্বপাড়া গ্রামে এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়।

গ্রেফতার হওয়া রবিউল শেখ একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি এবং তিন সন্তানের বাবা।

কাশিয়ানী থানার রামদিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোল্লা আফজাল হোসেন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই মাদ্রাসাছাত্রী তার দাদার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে সানোয়ার শিকদারের বাড়ির কাছে পৌঁছালে রবিউল তাকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় সানোয়ার শিকদারের স্ত্রী সাহেরা বেগম ঘটনার সাক্ষী হন এবং তিনি ঘটনাটি দেখে ফেললে রবিউল দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা রহিমা বেগম রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রবিউলকে তার বাসস্থান থেকে গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষরা দোষী রবিউলের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এ বিষয়ে জানান, এই ঘটনার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেরিয়ে এলো জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে আইআরজিসির ভয়াবহ হামলার চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


বেরিয়ে এলো জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে আইআরজিসির ভয়াবহ হামলার চিত্র

মার্কিন বিমানঘাঁটিতে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তেজনা আরও বেড়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবারের ওই হামলার ফলে জর্ডানে মার্কিন বিমান বাহিনীর সামরিক অবকাঠামোর ওপর উল্লেখযোগ্য ক্ষতির চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে জর্ডানে মার্কিন-পরিচালিত একটি বিমানঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে একাধিক যুদ্ধবিমান স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং সামরিক অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তেজনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আইআরজিসির একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের এয়ারোস্পেস ফোর্স জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এই ঘাঁটিতে মার্কিন এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর মতে, হামলার লক্ষ্য ছিল বিমান আশ্রয়কেন্দ্র (হ্যাঙ্গার), অপারেশনাল স্থাপনা এবং মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার। এছাড়া, আইআরজিসি দাবি করেছে যে হামলায় ‘বিপুল সংখ্যক’ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, তবে তারা বিমান ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা জানানেনি।

ইরানের রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে যে উন্নত যুদ্ধবিমান রাখার জন্য ব্যবহৃত একাধিক হ্যাঙ্গারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়নি।

জর্ডানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আল-আজরাক এলাকায় আসা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলের দিকে ছোড়া প্রায় ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ পড়ে কোনও হতাহত বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এই পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে বিমানঘাঁটিটির প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ও দক্ষিণ ইরানের কিছু লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।

ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক সম্পদ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ইরান বারবার সতর্ক করে দিয়েছে যে তাদের ভূখণ্ডে যেকোনো হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে।

আল-আজরাক বিমানঘাঁটির অবস্থান আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইরাক, সিরিয়া এবং জোটবাহিনীর ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথের নিকটে অবস্থিত। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এফ-৩৫ লাইটনিং টু, এফ ১৫ স্ট্রাইক ইগল এবং এফ ১৬ ফাইটিং ফেলকনের মতো যুদ্ধবিমানগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান শক্তির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের মধ্যে অন্যতম।

এফ-৩৫ বিমানের একক মূল্য সংস্করণভেদে আট কোটি মার্কিন ডলারের বেশি হতে পারে। এছাড়া অগ্রবর্তী বিমানঘাঁটিগুলোর উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে দীর্ঘমেয়াদে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়।

ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, জর্ডানে এই হামলা ছিল উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে বৃহত্তর এক অভিযানের অংশ। এর আগেও আইআরজিসি দাবি করেছিল যে তারা কুয়েত এবং বাহরাইনের ঘাঁটি এবং মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে।

ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে তারা ২০টিরও বেশি মার্কিন-সংশ্লিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের বেশ কয়েকটি যুদ্ধক্ষেত্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন মূল্যায়ন অনুযায়ী, অধিকাংশ আগত ক্ষেপণাস্ত্র বহুস্তরবিশিষ্ট আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে। সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আঞ্চলিক সরকারগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা এবং পরিবহন নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা জোরদার করেছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। বিশ্বব্যাপী সরবরাহকৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উত্তেজনা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং পরিবহন ব্যয় বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম অস্থির রয়েছে।

আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের নেতৃত্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও উভয় পক্ষের সামরিক হামলা ও পাল্টা সতর্কবার্তার কারণে অগ্রগতি সীমিত রয়েছে। সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়া থেকে ঠেকাতে জাতিসংঘ এবং বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জোরদার হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যদি স্বাধীন প্রমাণের মাধ্যমে আল-আজরাকের দিকে উল্লেখযোগ্য বিমান বা অবকাঠামোগত ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তবে এই হামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানো ঘটনা হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনার ওপর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।

এখন সবার নজর স্যাটেলাইট চিত্র, আনুষ্ঠানিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ সামরিক প্রতিক্রিয়ার দিকে—যা নির্ধারণ করবে সংঘাত সীমিত পর্যায়ে থাকবে নাকি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটে রূপ নেবে, যার প্রভাব বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসলামাবাদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গামাটির লংগদুতে জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


রাঙ্গামাটির লংগদুতে জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

রাঙ্গামাটির লংগদুতে লংগদু জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে এবং বৃক্ষরোপণ অভিযানও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে লংগদু উপজেলা পরিষদ মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন লংগদু জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর মোর্শেদ, এসপিপি, পিএসসি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার উল্লেখ করেন যে, খেলাধুলা যুবসমাজকে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ, আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। পাশাপাশি এটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এ প্রতিযোগিতা স্থানীয় তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করবে এবং এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশকে আরও সুসংহত করবে।

তিনি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন জনমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে।

উদ্বোধনী ম্যাচে লংগদু উপজেলার বগাচত্বর ইউনিয়ন ফুটবল দল ও বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়ন ফুটবল দল মুখোমুখি হয়েছিল।

এর আগে, অতিথিরা ফিতা কেটে, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ৩২ আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক মোছা. সারোয়ার জাহান চৌধুরী, লংগদু জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. শাহিনুর মাহমুদ খান, মেজর মো. শাহিনুর আল সাকিব, লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

টুর্নামেন্টে লংগদু জোনের আওতাধীন লংগদু উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ও খেদারমারা ইউনিয়নসহ মোট ৯টি ফুটবল দল অংশগ্রহণ করছে। এ প্রতিযোগিতা নিয়ে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%