০৫:৫৬ পি.এম
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পাতলীখাল আনুষ্ঠানিক পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে। তিনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন, বিরোধী দলের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়; বরং তাদের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীলতা-অশান্তি তৈরি করা এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
শনিবার কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পাতলীখাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, আলহামদুলিল্লাহ, বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পদার্থের ওপর থাকা যে সকল ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে। ফলে জিনিসের দাম বাড়েনি, যাতে দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারে।’
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বিরোধী দল বলছে যে এই বাজেট তারা মানে না, এই গণবিরোধ বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। একইভাবে যে বাজেটে মদের এবং সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?’
সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘তাদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীলতা-অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’
প্রধানমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বাজেটে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সঙ্গে আমাদের শিল্প-বাণিজ্যও গড়ে তুলতে হবে। শিল্প-বাণিজ্য গড়ে উঠলে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সে কারণেই যেসব দ্রব্য দেশেও উৎপাদিত হচ্ছে এবং যেগুলো বিদেশ থেকে আসে, সেগুলোর ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। এভাবে দেশে উৎপাদিত দ্রব্যের শিল্প কারখানাগুলোর সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে, তবে এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এদেশের মালিক আপনারা। দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, পরিবারের সদস্য নয়; দেশের মালিক হচ্ছেন বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।
সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পাতালী খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং খালের পাড়ে একটি চারা রোপণ করেন।
তিনি মন্তব্য করেন, এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই শেষ ঠিকানা। তাই আমরা বলি, এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকব, আমাদের সন্তানরাই শান্তিতে থাকবে। যদি দেশকে গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যেই আমরা একটি কথাই বলি—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে মানুষের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে প্রত্যেকটি উপজেলায় ১০ হাজার কৃষিকার্ড দেওয়া হবে। কারণ, এই দেশের মানুষ যদি স্বাবলম্বী না হয় তাহলে দেশ কখনো উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে না। ইতিমধ্যে বর্তমান সরকার কৃষিকার্ড, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
তিনি বলেন, আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দিয়েছিলেন। নারী শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হচ্ছেন না হলে দেশ এগোতে পারবে না। তাই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাকে সম্পূর্ণ ফ্রি করা হবে। যারা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা রাখা হবে বাজেটে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। এসব গ্রামীণ পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে মায়েদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে।
এ সময় দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হবেন না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদ। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম কক্সবাজার সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের খনন উদ্বোধনের পর তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এরপর তিনি পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে।
বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বিচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
সকল কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড গেজেট প্রকাশের ঘোষণা শ্রমমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ দিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন