০৫:২৩ পি.এম
মাদারীপুরে মানবপাচার মামলায় অভিযুক্ত চক্রের মূলহোতা জামাইকে গ্রেফতার করতে না পেরে তার শাশুড়ি কুলসুম বেগমকে (৪২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে শিবচর উপজেলার কেরানীবাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার কুলসুম বেগম শিবচর উপজেলার কেরানীবাট গ্রামের সামাদ খানের মেয়ে এবং মামলার প্রধান আসামি কুদ্দুস রহমানের শাশুড়ি। তবে মামলার মূলহোতা কুদ্দুস রহমান (৩৫) এখনো পলাতক রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার চর খোয়াজপুর গ্রামের মৃত বজলু হাওলাদারের ছেলে সানাউল্লাহ (২২)-কে সরাসরি ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে কুদ্দুস রহমানের সঙ্গে ২০ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর সানাউল্লাহকে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায় দালালচক্র।
আরও পড়ুন: সুলতানি আমলের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে
অভিযোগ রয়েছে, লিবিয়ায় নেওয়ার পর সানাউল্লাহকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। পরে নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে আরও ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরিবারের সদস্যরা ধারদেনা করে মোট ৪০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও গত ছয় মাস ধরে সানাউল্লাহর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের আশঙ্কা, নির্যাতনের ফলে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ১ জুন সানাউল্লাহর দুলাভাই রনি খান বাদী হয়ে মাদারীপুর মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে কুদ্দুস রহমানসহ ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি পরে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় এজাহারভুক্ত হয়।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে কুদ্দুস রহমানের শাশুড়ি কুলসুম বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “মানবপাচার মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
আরও পড়ুন: সুন্দরবনের জোনাব বাহিনীর প্রধান জোনাব আলী আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন