০৫:১১ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে, কিশোরগঞ্জ জেলার তিনটি মৌজার নামে ইজারা নেওয়া বালুমহালের আড়ালে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে, স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। তাদের প্রতিবাদের পর, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করলে, প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, এবং হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়ে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নদীর তীরে মানববন্ধন শেষে, সাড়ে ১১টার দিকে চরসোনারামপুর গ্রামের শতকরা নারী-পুরুষরা আশুগঞ্জ গোলচত্বরে এসে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। এক পর্যায়ে, আন্দোলনকারীরা সড়কে শুয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন, যার ফলে যানচলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: বরিশালে ডিএনসির অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
অবরোধের প্রভাবে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মেঘনা সেতু পেরিয়ে ভৈরব পর্যন্ত এবং পূর্ব দিকে বেরতলা এলাকা পর্যন্ত মোট প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। পরে, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাস ভিত্তিতে, দুপুর দেড়টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ হল, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর, লুন্দিয়া ও টুকচানপুর মৌজার নামে বালুমহালের ইজারা দেওয়া হলেও, বাস্তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরসোনারামপুর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তাদের দাবি, নির্বিচারে ড্রেজিংয়ের কারণে চরসোনারামপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা, আশুগঞ্জ বাজার, আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, জাতীয় গ্রিডের ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি, কৃষিজমি এবং নদীতীর মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এটি নদীভাঙনের আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা শিতল চন্দ্র দাস বলেন, নদী তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। তবে, অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে নদী এখন তাদের ঘরবাড়ির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, যেখানে ইজারা দেওয়া হয়নি, সেখানে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তারা এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: মহাষ্টমীর দিনে পুকুরে নামতেই বিদ্যুতের তারে প্রাণ গেল নারীর
আশুগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হেনা মোস্তফা রেজা বলেন, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। তাদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। যদি সীমানা লঙ্ঘন করে কোথাও বালু উত্তোলন করার প্রমাণ মেলে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাঁটিহাটা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু তাহের দেওয়ান বলেন, অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। পরে, পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় গরুবাহী ট্রলি খাদে পড়ে ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন