প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুজন শীর্ষ দূত, জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ। কিন্তু, তারা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন না, এই তথ্যটি জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধিরা দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের সাথে বৈঠক করবেন এবং চলমান আলোচনার অগ্রগতি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করবেন। তবে, ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ বা বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, তার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রতিনিধিদের এই সফরটিকে দেখা হচ্ছে।
কাতার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক সীমিত থাকায়, বিভিন্ন সময়ে দোহা পরোক্ষ আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
কাতারের মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেছেন, ইরানের জন্য নির্ধারিত ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জব্দ সম্পদ এখনও তেহরানে হস্তান্তর করা হয়নি। এই অর্থ ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, জব্দ করা সম্পদ এবং সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে আলোচনায় থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে অর্থ ছাড়ার প্রক্রিয়া রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি বলে জানানো হয়েছে কাতারের পক্ষ থেকে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র জানান, ইরানের জব্দ থাকা অর্থ ছাড়ার বিষয়টি আলাদা কোনো প্রক্রিয়া নয় বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে বিষয়টি নির্ভর করছে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পরিস্থিতি ও পারস্পরিক সমঝোতার অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে এই অর্থের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো সমঝোতায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জব্দ সম্পদ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সবচেয়ে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দোহায় চলমান এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে। তবে সরাসরি বৈঠকের অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, আলোচনার পথ এখনও মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভরশীল।
কাতার আশা করছে, পরোক্ষ আলোচনা মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ তৈরি করা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন