ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জামিনে মুক্তি পেয়ে গভীর রাতে প্রেমিকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননী


জামিনে মুক্তি পেয়ে গভীর রাতে প্রেমিকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননী

জান্নাতুল মাওয়া, দুই সন্তানের জননী, ঝিনাইদহের বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন।

রোববার (১৪ জুন) জেলার শৈলকুপার বগুড়া ইউনিয়নের বারইহুদা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের আসমত বিশ্বাসের ছেলে প্লাবন বিশ্বাসের সঙ্গে জান্নাতুল মাওয়ার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় জনতা তাদের দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং আদালতে প্রেরণ করে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা

আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আসার পর, গভীর রাতে জান্নাতুল মাওয়া প্লাবন বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৯ মাস ধরে প্লাবনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এ ঘটনার পর তার স্বামী শাহিদুল ইসলাম তাকে তালাক দিয়েছেন। তাই এখন তিনি প্লাবনের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের স্বীকৃতি চান।

জান্নাতুল মাওয়া বলেন, "প্লাবনের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের কারণেই আমার সংসার ভেঙে গেছে। এখন আমি চাই, প্লাবন আমাকে বিয়ে করে সামাজিক স্বীকৃতি দিক।"

এদিকে, ঘটনার কারণে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা করছে।

এ বিষয়ে প্লাবন বিশ্বাস বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ নারী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৩ এম


ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ নারী আটক

নওগাঁর মান্দায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৬৬৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তার স্বামী কৌশলে পালিয়ে যান।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতের এক বিশেষ অভিযানে উপজেলার গণেশপুর সেকিপাড়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারির নাম রাশেদা বেগম। তিনি গণেশপুর সেকিপাড়া (বিলের পাশে) থাকা সাইদুর রহমানের স্ত্রী। পলাতক সাইদুর রহমান ওই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস টিম সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে মান্দা থানা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালাচ্ছিল।

রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গোপন সূত্র থেকে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, গণেশপুর সেকিপাড়া গ্রামে স্বামী-স্ত्री মিলে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন।

এমন সংবাদ পাওয়ার পর রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ডিবি পুলিশের টিমটি আসামি সাইদুর রহমানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে পুলিশদের উপস্থিতি টের পেয়ে সাইদুর তার হাতে থাকা একটি কালো পলিথিন ব্যাগ ফেলে দিয়ে দৌড়ে পাশের বিলের মধ্যে পালিয়ে যান।

পরে পুলিশ ওই ফেলে যাওয়া পলিথিন ব্যাগ তল্লাশি করে ৪০০ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করে। এক্ষণে সাইদুরের স্ত্রী রাশেদা বেগমও পালানোর চেষ্টা করেন। তবে নারী পুলিশের সহায়তায় তাকে ঘটনাস্থলেই গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে রাশেদা বেগমের ঘর তল্লাশি করা হলে তিনি যে চাবি দেন, দিয়ে ঘরের ভেতরে থাকা ট্রাংকের তালা খুললে সেখান থেকে আরও ২৬৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার হয়।

অভিযানে সর্বমোট ৬৬৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৩ হাজার ৩২০ টাকা পুলিশ জব্দ করে।

ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই স্বামী-স্ত্রী উভয়েই দীর্ঘদিন ধরে মান্দা থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, আজ মঙ্গলবার জব্দকৃত আলামতসহ আসামিদের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক স্বামী সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের এই কঠোর ও বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে। মাদকমুক্ত নওগাঁ গড়তে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিকেএসপি পরিদর্শনে জাইমা রহমান, নারী ফুটবলারদের সঙ্গে খেলায় অংশগ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৬ এম


বিকেএসপি পরিদর্শনে জাইমা রহমান, নারী ফুটবলারদের সঙ্গে খেলায় অংশগ্রহণ

গতকাল (সোমবার) জাইমা রহমানের ফুটবল খেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে ফুটবলের প্রতি জাইমার অনুরাগের প্রশংসায় ভেসে যাচ্ছেন নেটিজেনরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, বিশ্বকাপের এই সময়ে জাইমা রহমানের ভিডিওতে ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশিদের ভালোবাসা যেনো গভীরভাবে ফুটে উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘বিকেএসপি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে গেছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি মূলত ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে সেখানে যান। পরে তিনি বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং ক্রীড়া প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, গোলবারের সামনে ‘ডি’ বক্সের কাছে থাকা এক নারী ফুটবলকে প্রথমে বল পাস করেন তিনি। এরপর অত্যন্ত চমৎকার দক্ষতায় বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে আবারও পাসের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যান। এক পর্যায়ে ডি বক্সের ভেতরে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জোরালো শটে বল জাল স্পর্শ করান জাইমা রহমান। ফুটবলপ্রেমীরা বলের ওপর তাঁর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এবং দৃষ্টিনন্দন গোল করা দেখে মুগ্ধ হন।

গতকাল সকাল ১০টায় ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নিতে সাভারের শিমুলিয়ায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছান জাইমা রহমান। তিনি বিকেল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন।

এসময় জাইমা রহমান বিভিন্ন ক্রীড়া ভেন্যু ঘুরে দেখেন এবং বিকেএসপির কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি মিনি কনফারেন্স কক্ষ পরিদর্শন করেন এবং জিমনেসিয়ামে ক্রীড়া প্রদর্শনী উপভোগ করেন।

জাইমা রহমান ক্রিকেট ইনডোর সুবিধা, ক্রিকেট মাঠ এবং ফুটবল ভেন্যুর কৃত্রিম টার্ফ, বেইলম্যান হ্যাঙ্গার ও শুটিং ভেন্যু পরিদর্শন করেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ও করেন।

এসময় এমপি ফরিদা ইয়াসমিন, বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ, পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল গোলাম মাবুদ হাসান, প্রিন্সিপ্যাল লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ইমরান হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্সের অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা, সাবেক জাতীয় টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনুসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের রাজনীতিতে হঠাৎ এনসিপি ঝড়, নতুন সমীকরণে জোর আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৮ এম


ভারতের রাজনীতিতে হঠাৎ এনসিপি ঝড়, নতুন সমীকরণে জোর আলোচনা

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্ররা ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি-এনসিপি নামে একটি দল গঠন করে, সাধারণ্যে যা জাতীয় নাগরিক পার্টি হিসেবে পরিচিত। জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট বেধে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬টি আসন লাভ করে এনসিপি। আসন সংখ্যা যাই হোক এনসিপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত, ভারতেও যে এনসিপি নামে একটি দল বিদ্যমান, সেই তথ্য নিয়ে অধিকাংশ মানুষই অবগত ছিলেন না। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সদস্যের এক যোগে এনসিপিতে যোগ দেয়ার ঘোষণায় ভারতের রাজনীতিতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন ঝড় তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতর-বাহির তছনছ হয়ে গেছে। একযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সংসদ সদস্যের এনসিপিতে যোগ দেয়ার ঘটনা সেই টালমাটাল পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।

সাংসদদের কেনাবেচা বন্ধে জাতীয় সংসদে দলবদল বা ফ্লোর ক্রসিং ঠেকাতে বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদে বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। ৭০ অনুচ্ছে অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত কোনো ব্যক্তি যদি দল থেকে পদত্যাগ করে অথবা দলের বিপক্ষে ভোট দেয়, তবে সংসদে তার আসন শূন্য হয়ে যায়। সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে ভারতের সংবিধানের দশম তফশীলেও বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মতো দলত্যাগ বিরোধী আইন রয়েছে। বাংলাদেশের মত ভারতেও, যদি কাউকে দল থেকে পদত্যাগ করতে হয় অথবা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেয়, তবে তার সদস্যপদ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। তবে, এই আইনের ভিতরেও একটি ফাঁক রয়েছে; কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যৌথ সিদ্ধান্তে চাইলে অন্য কোনো দলে একীভূত হতে পারে। ছোট্ট ফাঁক গলে লখিন্দরের বাসর ঘরে যেমন সাপ ঢুকেছিল, আইনের এই ফাঁক গলে কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পার্থ ভৌমিকরাও এখন মূল তৃণমূলের ধরনে টান দিয়েছেন। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা ২৮। দুটি তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ১৯ জন হলেই তারা অন্য দলের সঙ্গে একীভূত হতে পারতেন। সেখানে তাদের দলে একজন বেশিই সদস্য আছে।

কাগজে-কলমে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া-এনসিপিআই’তে যোগ দিলেও তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতা। কেন্দ্রে না হলেও, এতদিন রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল। গত নির্বাচনে ভরাডুবির পর কাকলী ঘোষদের মনে হয়েছে, ‘ক্ষমতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়’। কিছুটা আইনী ঝুঁকি থাকার পরও তারা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে পারতেন। বিজেপিতে না গিয়ে এনসিপিআইতে কেন যোগ দিলেন, এটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে রাজনীতির কূটচাল এবং কূটকৌশলের খেলা লুকিয়ে আছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ এবং বিজেপি মিলে যে এনসিপিআই গঠন করেছে, তা এখন একেবারে একটি শিশুও বোঝে।

সরাসরি বিজেপিতে না গেলেও, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা এনসিপিআই নিয়ে বিজেপির পাশেই, অর্থাৎ ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটেই থাকার ঘোষণা দিয়েছে। সরাসরি যোগ দিলে তারা আসলে বিজেপির বিশাল সমুদ্রে বিলীন হয়ে যেতেন। আলাদাভাবে যেন নিজেদের একটি পরিচয় থাকে, সেজন্য তারা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে তৃণমূলকে একীভূত করেছে। দুই-তৃতীয়াংশের যৌথ সিদ্ধান্তে অন্য দলের সাথে একীভূত হওয়ার সুযোগ আছে। তবে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে মূল রাজনৈতিক দল এবং সংসদীয় দলকে আলাদা স্বত্তা হিসেবে খুব পরিচ্ছন্নভাবে অভিহিত করা হয়েছে। যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য গড়তে পারলেও, অন্য দলের সঙ্গে একীভূত হতে হলে মূল দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মমতা-অভিষেক নিশ্চয়ই দলের ভাঙার অনুমতি দেবেন না। সুতরাং, বিজেপিতে যোগ দিলে এটি নিছক দলবদল হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ইতিমধ্যে লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লাকে দেয়া চিঠিতে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এনসিপিআইতে যাওয়ার একটি বড় সুবিধা হলো, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হলেও এনসিপিআইতে কোনো মাতব্বর নেই। এনসিপি মূলত ত্রিপুরাভিত্তিক একটি পারিবারিক দল। একসময় শিউলি কুন্ডু দলটির প্রধান ছিলেন, বর্তমানে তার স্বামী উত্তীয় কুন্ডু দল আছেন। দল ভাড়া দিতে পেরেই নিশ্চয়ই তারা খুশি থাকবেন। তাই কাকলী ঘোষরা এখানে নিজেদের মত ছড়ি ঘোড়াতে পারবেন, সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং এমনকি নিজেদের আসল তৃণমূল দাবিও করতে সক্ষম হতে পারেন। গত নির্বাচনে ত্রিপুরার দুটি আসনে নির্বাচন করে যে দলটি সাকুল্যে ৮৮২ ভোট পেয়েছিল, তারা এখন এনডিএ জোটে বিজেপির পর সবচেয়ে বড় দল হয়ে উঠেছে। ৮৭০ জন অনুসারীর ফেসবুক পেজ এবং হাওড়ায় জনমানবহীন ভুতুড়ে অফিস ছাড়া যাদের কিছু ছিল না, তারা এখন লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় দল। সত্যি বলতে, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই!

এনসিপিআই কাকলী ঘোষদের জন্য ডেসটিনেশন নয়, বরং ট্রানজিট মাত্র। তাদের আসল লক্ষ্য হলো তৃণমূলকে দখল করা। সরাসরি বিজেপিতে গেলে সেই সুযোগ আর থাকতো না। একীভূত হওয়ার পর তারা এখন নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করবে এবং তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক ’জোড়া ফুল’ কেড়ে নিতে চাইবে, তৃণমূলের অফিস দখল করতে চাইবে। বিজেপির সাহায্যের কারণে তাদের জন্য কিছুই অসম্ভব নয়।

সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। তাদের চিহ্নিত করা হত ক্ষমতালোভী এবং বিশ্বাসঘাতক হিসেবে, যার ফলে তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটতে পারতো। এত বড় ডিগবাজি দেয়ার ক্ষমতাও প্রবীণ নেতাদের অনেকের নেই। তাদের লক্ষ্য তো আরও অনেক দূরে। সুতরাং, তারা লম্বা ডিগবাজি দিয়ে হাত-পা ভেঙে এখনই রাজনীতিতে ইতি ঘটানোর ঝুঁকি নিতে চাননি। এছাড়া, এতদিন অসাম্প্রদায়িকতা এবং বাঙালিয়ানার গল্প বলে, এখন সরাসরি বিজেপির কোলে বসলে, তাদের নৈতিকতা প্রশ্নের মুখে পড়তো। তাদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন এখনও উঠছে। তবে চক্ষুলজ্জাটা অন্তত আছে। আর এই চক্ষুলজ্জার খাতিরেই তারা ত্রিপুরাভিত্তিক বাঙালিদের দল এনসিপিআইকে আবিষ্কার করেছে। এখন তারা বলতে পারবেন, আমরা মমতাকে ছেড়েছি, কিন্তু বিজেপিতে তো যাইনি।

তাছাড়া, তৃণমূলের ঘর ভাঙ্গার সাথে বিজেপিকেও নিজেদের ঘরের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। একসঙ্গে তৃণমূলের ২০ জন হেভিওয়েট নেতার যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি শিবিরের মধ্যে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ ছিল। নতুন নেতারা এলে পুরোনো ও ত্যাগী নেতাদের পদপদবী এবং প্রভাব-প্রতিপত্তিতে ভাগ বসাতে হবে। তাই, দূরে থেকে কাছে থাকাই ভালো। সাপ মরে ভুত, কিন্তু লাঠির কিছু হয়নি।

এনসিপিআই আবিষ্কার করে কাকলী ঘোষরা এক ঢিলে অনেক পাখি মারলেন। নিজেদের সদস্যপদের আইনী সুরক্ষা পেলেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে তছনছ করার সুযোগ নিলেন, ভবিষ্যতের রাজনীতির পথ সুগম রাখলেন এবং এনডিএ জোটের সাথে গাঁটছড়া বেধে ক্ষমতার কাছে থাকলেন।

এনসিপিআই এতদিন নিজেদের 'সমাজসেবামূলক দল' হিসেবে দাবি করত। সংগঠনের পুরোনো এক বিবৃতিতে লেখা ছিল, ‘দল বদলানো রাজনৈতিক মুখ নয়; আপনি এগিয়ে আসুন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে’। এখন এনসিপিআই কোথায় মুখ লুকাবে? বিজেপির প্রযোজনায় কাকলী ঘোষ এবং সুদীপ বন্দোপাধ্যায় যে ভাবে সংবিধানকে পাশার বোর্ড বানিয়ে এবং রাজনীতিকে ছেলেখেলার মতো করে ফেলছেন, তার শেষ কোথায়? পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগেও বিজেপি অনেক চালাকি করেছে। তবে এবার চালাকিটা একটু বেশিই হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। এখন অতি চালাকের গলায় দড়ি পড়বে না মমতা-অভিষেককে একেবারে হটিয়ে শুভেন্দু-সুদীপ রাজ করবেন, তা দেখতে একটু অপেক্ষা করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে কমিটি, ২০ কর্মদিবসে খসড়া জমার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২২ এম


স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে কমিটি, ২০ কর্মদিবসে খসড়া জমার নির্দেশ

এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সদস্য হিসেবে এই কমিটিতে রয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও আইন শাখার যুগ্মসচিবগণ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের একজন উপসচিব বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার প্রতিনিধি।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ৮ জুন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকদের উপস্থিতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার যৌথ বিবৃতির আলোকে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া প্রণয়ন, প্রয়োজন অনুযায়ী সদস্য কো-অপ্ট করা এবং বিভিন্ন সংস্থা ও অংশীজনের মতামত গ্রহণ করা।

এছাড়া কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে कि আগামী ২০ কর্মদিবসের মধ্যে আইনের খসড়া প্রস্তুত করে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণীত হলে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি সুসংহত আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%