মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৭ পি.এম
কুড়িগ্রামের উলিপুরে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রীন ভয়েস’-এর উপজেলা শাখার সভাপতি ও জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী সারফারাজ ইসলাম সৌরভের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মণ্ডলহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত সৌরভকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে সার কেনার জন্য মণ্ডলহাট বাজারে যান সৌরভ। এ সময় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মাসুম বিল্লাহ ও তার সহযোগীরা পেছন থেকে এসে তাকে মারধর করেন। এ সময় তাকে উদ্দেশ্য করে ‘বড় ছাত্রলীগবিরোধী হয়ে গেছিস’ এমন কথা বলা হয় বলেও অভিযোগ করেন সৌরভ।
অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের জয়কালী গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল আজিজ সরদারের নাতি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং সম্প্রতি এলাকায় ফিরেছেন এমন দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সৌরভের অভিযোগ, হামলার সময় স্থানীয় বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও পল্লী চিকিৎসক আব্দুল কাদের শামীম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে বিষয়টি তাকে জানালে তিনি হামলাকারী মাসুমকে নিজের ফুফাতো ভাই হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি ভুলে যাওয়ার কথা বলেন বলে দাবি করেন সৌরভ।
তবে আব্দুল কাদের শামীম এ বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন, তিনি হামলার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না; ঘটনার পর সেখানে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, হামলাকারী মাসুম তার ফুফাতো ভাই। তিনি আরও বলেন, সত্যিই যদি সে ফ্যাসিস্ট হয়, তবে আমি নিজেই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেব।
হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গ্রীন ভয়েস উলিপুর উপজেলা শাখা। সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান কবির বলেন, ‘সৌরভ শুধু একজন নিবেদিতপ্রাণ পরিবেশকর্মী নন, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন সামনের সারির কর্মী। তার ওপর এই হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দ্রুত থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো অবগত নই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষা, গবেষণা এবং পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (ICMAB)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভাকক্ষে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী। বেরোবি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ নুর আলম সিদ্দিক এবং
আইসিএমএবি-এর সহ-সভাপতি এস. এম. জহির উদ্দিন হায়দার এফসিএমএ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা প্রসারে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের আইসিএমএবি কোর্স ওয়েভারসহ বিভিন্ন পেশাগত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আইসিএমএবি-এর সুযোগ-সুবিধা ও পেশাগত দিকগুলো আরও গভীরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভাকক্ষে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর নিজস্ব পেমেন্ট গেটওয়ে 'JanataPay'-এর মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার ফি ও বেতন সহজে আদায় করা।t অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়-এর মহাব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ মফিজুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে খুব সহজেই 'JanataPay' পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে তাদের সেমিস্টার ফি, বেতন এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেন প্রক্রিয়া আরও অধিক স্বচ্ছ, আধুনিক, গতিশীল এবং ঝামেলামুক্ত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিহারের জামুইয়ে কোচিং থেকে ফেরার সময় দশম শ্রেণির এক নাবালিকা এবং তার সহপাঠীকে আটকে মারধর ও যৌন হেনস্তার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন, "এই ধরনের জঘন্য আচরণ করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।" তিনি আরও বলেন, নারীদের ওপর অন্যায় নিয়ন্ত্রণকে সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করলে দুষ্কৃতিকারীরা নিজেদের আইন মনে করতে শুরু করে। তিনি এটিকে অন্ধ পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ বলেও উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি ঘটে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জামুইয়ের মাদওয়া পাহাড় এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোচিং শেষে স্কুটারে করে ওই এলাকায় গিয়েছিল দশম শ্রেণির দুই সহপাঠী। ফেরার পথে একটি যুবকের দল তাদের পথ আটকায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নাবালক ছাত্রটির সঙ্গে মারধর এবং নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হচ্ছে। ভিডিওতে তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতেও দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জামুই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ইতিমধ্যে তিন নাবালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনাটির তদন্তে জামুইয়ের উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। একইসঙ্গে নাবালকদের মুখ ও পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৩টি ফেসবুক, ১২টি ইনস্টাগ্রাম এবং ৭টি এক্স অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ভিডিও সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাবালকের পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়ানো আইনত অপরাধ। ঘটনাটি কেন্দ্র করে বিহারে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
নাবালিকা ও তার সহপাঠীর পরিচয় গোপন রেখেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিয়া মির্জার জন্য অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক হওয়ার পথ মোটেও সহজ ছিল না। স্বপ্নের ছবি নির্মাণের জন্য তাকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি নিজের প্রথম কেনা বাড়ি বন্ধক রাখতে হয়েছিল। ২০১৪ সালে নির্মিত নারীপ্রধান ছবি ‘ববি জাসুস’ নিয়ে সম্প্রতি এই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
২০০১ সালে ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে তার যাত্রা শুরু হয়। ছবির সাফল্যের পর তিনি অভিনয়ে নিজের স্থান তৈরি করেন। প্রায় এক দশক পর প্রযোজনায় আসার সিদ্ধান্ত নেন দিয়া। ২০১৪ সালে নারীপ্রধান গল্প নিয়ে ‘ববি জাসুস’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন।
ছবির গল্প লেখা হয়ে গিয়েছিল এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিদ্যা বালান রাজি ছিলেন। গোটা টিমও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু শুটিং শুরুর আগেই বিনিয়োগকারীরা একে একে সরে দাঁড়ান। ফলে পুরো প্রজেক্ট অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায়।
এক সাক্ষাৎকারে দিয়া জানান, নারী প্রযোজক হওয়ার কারণে তাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। প্রযোজনায় আসার পর তাকে বলা হয়েছিল, অভিনেত্রী হিসেবে আর কাজ পাবেন না। শেষ পর্যন্ত কাজও কমে গিয়েছিল তার হাতে।
সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে দিয়া বলেন, “আমি আমার প্রথম কেনা বাড়িটি বন্ধক রেখেছিলাম। যে গল্পটা বলতে চেয়েছিলাম, সেটি লেখা হয়ে গিয়েছিল। বিদ্যা বালানের মতো অসাধারণ একজন শিল্পী ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হয়েছিলেন। গোটা টিমও তৈরি ছিল। কিন্তু হঠাৎ বিনিয়োগকারীরা সরে গেলেন।”
ছবিটি বন্ধ হতে দিতে চাননি দিয়া। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নিজের বাড়ি বন্ধক রেখে শুরু করেন ‘ববি জাসুস’-এর কাজ। তবে আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি একটি জায়গায় আপস করেননি, বিদ্যা বালানের পারিশ্রমিক।
দিয়া জানান, তিনি বিদ্যাকে পারিশ্রমিক কমানোর অনুরোধ করেননি। বরং চুক্তি অনুযায়ী পুরো অর্থই পরিশোধ করেছিলেন। তার কথায়, “আমি বিদ্যাকে পারিশ্রমিক কমাতে বলিনি। পুরো টাকা দিয়েছিলাম। মনে হয়, তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারিশ্রমিকটা আমিই দিয়েছিলাম। এটা নিয়ে আমি গর্বিত।”
দিয়ার মতে, একই ধরনের কাজ কোনো পুরুষ অভিনেতা করলে তাকে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। তাই নারী অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রেও সমান সম্মান ও পারিশ্রমিক থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
যদিও বক্স অফিসে ‘ববি জাসুস’ প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি, পরে ধীরে ধীরে আর্থিক ক্ষতি সামলে ওঠেন দিয়া। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি নিজের বাড়ির বন্ধকও ছাড়িয়ে নেন তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষায়, “ছবিটি ঠিক যেভাবে বানাতে চেয়েছিলাম, সেই ভাবেই বানিয়েছিলাম। ক্রমশ আমি ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ করতে পেরেছি এবং বাড়ির বন্ধকও ছাড়াতে পেরেছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ