প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিয়া মির্জার জন্য অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক হওয়ার পথ মোটেও সহজ ছিল না। স্বপ্নের ছবি নির্মাণের জন্য তাকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি নিজের প্রথম কেনা বাড়ি বন্ধক রাখতে হয়েছিল। ২০১৪ সালে নির্মিত নারীপ্রধান ছবি ‘ববি জাসুস’ নিয়ে সম্প্রতি এই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
২০০১ সালে ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে তার যাত্রা শুরু হয়। ছবির সাফল্যের পর তিনি অভিনয়ে নিজের স্থান তৈরি করেন। প্রায় এক দশক পর প্রযোজনায় আসার সিদ্ধান্ত নেন দিয়া। ২০১৪ সালে নারীপ্রধান গল্প নিয়ে ‘ববি জাসুস’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন।
ছবির গল্প লেখা হয়ে গিয়েছিল এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিদ্যা বালান রাজি ছিলেন। গোটা টিমও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু শুটিং শুরুর আগেই বিনিয়োগকারীরা একে একে সরে দাঁড়ান। ফলে পুরো প্রজেক্ট অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায়।
এক সাক্ষাৎকারে দিয়া জানান, নারী প্রযোজক হওয়ার কারণে তাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। প্রযোজনায় আসার পর তাকে বলা হয়েছিল, অভিনেত্রী হিসেবে আর কাজ পাবেন না। শেষ পর্যন্ত কাজও কমে গিয়েছিল তার হাতে।
সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে দিয়া বলেন, “আমি আমার প্রথম কেনা বাড়িটি বন্ধক রেখেছিলাম। যে গল্পটা বলতে চেয়েছিলাম, সেটি লেখা হয়ে গিয়েছিল। বিদ্যা বালানের মতো অসাধারণ একজন শিল্পী ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হয়েছিলেন। গোটা টিমও তৈরি ছিল। কিন্তু হঠাৎ বিনিয়োগকারীরা সরে গেলেন।”
ছবিটি বন্ধ হতে দিতে চাননি দিয়া। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নিজের বাড়ি বন্ধক রেখে শুরু করেন ‘ববি জাসুস’-এর কাজ। তবে আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি একটি জায়গায় আপস করেননি, বিদ্যা বালানের পারিশ্রমিক।
দিয়া জানান, তিনি বিদ্যাকে পারিশ্রমিক কমানোর অনুরোধ করেননি। বরং চুক্তি অনুযায়ী পুরো অর্থই পরিশোধ করেছিলেন। তার কথায়, “আমি বিদ্যাকে পারিশ্রমিক কমাতে বলিনি। পুরো টাকা দিয়েছিলাম। মনে হয়, তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারিশ্রমিকটা আমিই দিয়েছিলাম। এটা নিয়ে আমি গর্বিত।”
দিয়ার মতে, একই ধরনের কাজ কোনো পুরুষ অভিনেতা করলে তাকে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। তাই নারী অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রেও সমান সম্মান ও পারিশ্রমিক থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
যদিও বক্স অফিসে ‘ববি জাসুস’ প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি, পরে ধীরে ধীরে আর্থিক ক্ষতি সামলে ওঠেন দিয়া। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি নিজের বাড়ির বন্ধকও ছাড়িয়ে নেন তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষায়, “ছবিটি ঠিক যেভাবে বানাতে চেয়েছিলাম, সেই ভাবেই বানিয়েছিলাম। ক্রমশ আমি ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ করতে পেরেছি এবং বাড়ির বন্ধকও ছাড়াতে পেরেছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন