বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:৪০ পি.এম
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশে রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খলেভনয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে তারা সাক্ষাৎ করেন।
মতবিনিময় সভার অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও রাশিয়ান হাউসের মধ্যে দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কারিগরি সহযোগিতাসহ পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক পর্যায়ে একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
বৈঠকটিতে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় দক্ষতা-ভিত্তিক ও টেকনিক্যাল এডুকেশনে রাশিয়া আমাদের সহযোগিতা করতে পারে।
তিনি এই বিষয়েও বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে।
ড. আমানুল্লাহ আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এই ব্যাপারে রাশিয়ার শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খলেভনয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করার বিষয়েও আলোচনা করেন।
বৈঠকের মধ্যে দুই পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, একাডেমিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশে রাশিয়ান দূতাবাসের কালচারাল প্রোগ্রাম বিভাগের প্রধান প্রশান্ত কুমার বর্মন, সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেম, কমিউনিকেশনস এক্সপার্ট গৌতম বড়ুয়া, মাল্টি-ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউটের কোঅর্ডিনেটর মো. সাইফুল ইসলাম শাহীন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের মনোনীত স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. আইরিন জুবাইদা খান।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তারা সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান ও অর্জনসমূহ যথাযথভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদান উপলক্ষে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের কার্যক্রম ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচি যথাযথভাবে তুলে ধরার বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মিডিয়া ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
ড. আইরিন খান বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
সাক্ষাৎকালে উভয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়াকে বড়ো চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এ ধরনের অপপ্রচার মোকাবিলায় কার্যকর যোগাযোগ কৌশল, দ্রুত তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা, সঠিক তথ্য তুলে ধরা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে করণীয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তথ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কার্যক্রমসমূহ তুলে ধরেন। তিনি অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কার্যকর মোকাবিলায় সরকার, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) মাধ্যমে সরকারি খরচে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৯২১ জনকে আইনি পরামর্শ সেবা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইড-এর মাধ্যমে আইনি সহায়তার বিস্তারিত তথ্য আসছে এই প্রতিবেদনে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয় যে, সংস্থার অধীনে সরকারি খরচে এই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ২৭ হাজার ৫৮০ জন, দেশের ৬৪ জেলার লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৩ লাখ ৫১ হাজার ২৫৩ জন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনি সহায়তা সেলের মাধ্যমে ২২ হাজার ৩২৭ জনকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি আইনি সহায়তায় জাতীয় হেল্পলাইন কলসেন্টারের (টোল ফ্রি-‘১৬৬৯৯’) মাধ্যমে ২ লাখ ১২ হাজার ৫২০ জনকে আইনি পরামর্শ সেবা দেয়া হয়েছে। অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে আইনি পরামর্শ (ফেসবুক মেসেঞ্জার) পেয়েছেন ২৪১ জন।
দেশে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসমর্থ বিচার প্রার্থী জনগণকে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের’ অধীনে সরকারি খরচে এসব সেবা দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারে পাচারের সময় নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৭৬০ বস্তা সার জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। এই অভিযানে একটি বোটসহ ৫ পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃত আটকদের মধ্যে হাতিয়া বাজার এলাকার আব্দুল ওহাব (১৯), হানিফ (২৬), আবুল মোর্শেদ (২৭), চৌরুঙ্গী আল আমিন সমাজের পারভেজ উদ্দিন (২৬) এবং গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর খাজা মার্কেট এলাকার পলাশ (১৮) রয়েছেন।
কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১২ আগস্ট) গভীর রাতে হাতিয়ার বাংলা বাজার খেয়াঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি বোটের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটির গতিরোধ করা হয় এবং পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বিএডিসি সিল দেওয়া ৭৬০ বস্তা সার জব্দ করা হয়, যার বাজার মূল্য ৮ লাখ টাকা। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় বোটটিসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন নিশ্চিত করেছেন যে, আটকদের বিরুদ্ধে পণ্য পাচারের ঘটনায় মামলা করে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বন্দরে একটি ‘বে টার্মিনাল’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। এই বিষয়ক প্রাথমিক আলোচনা দুটি পক্ষের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এমন তথ্য তুলে ধরেন।
সিঙ্গাপুর সফর শেষ করে ঢাকায় ফিরে আসার পর শামা ওবায়েদ জানান, দেশটিতে আরও অধিক দক্ষ জনশক্তির রপ্তানি, ব্যবসায়িক ঘাটতি কমানো এবং বড় ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে সিঙ্গাপুরে প্রায় দেড় লাখ থেকে দুই লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন। আগামীতে দেশটিতে আরও বেশি দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির জন্য সিঙ্গাপুরের শ্রমমন্ত্রীর সাথে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ থেকে কীভাবে রপ্তানি বৃদ্ধি করা যায়, সেই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে বলে তিনি অবগত করেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, দীর্ঘদিনের শক্তিশালী সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় সিংগাপুর সরকার চট্টগ্রাম বন্দরে একটি ‘বে টার্মিনাল’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া সিঙ্গাপুরের বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের আধুনিক প্রকল্পও পরিদর্শন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে, তিনি জানান, সম্প্রতি জাপানের জ্যেষ্ঠ উপমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্পন্ন হয়েছে।
জাপান বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি বড় মেগা প্রকল্পে জাপানের অংশীদারিত্ব রয়েছে।
শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের কাছে জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকায় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ