০৬:৪৩ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান পাল্টাপাল্টি অবস্থানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ উঠলে হরমুজ পুরোপুরি খুলবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। যদি শর্ত না মানা হয়, তবে যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়বে এবং বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণেও পরিবর্তন আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন প্রয়োজন হলে ইরানের বন্দরগুলোতে অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রণালিতে আবুধাবির দুটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। একদিকে, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারি শোনা যাচ্ছে, অন্যদিকে অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানে সামরিক সংঘাত বাড়ছে এবং বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের জানিয়েছেন, তেহরানের শর্ত না মানা হলে যুদ্ধ আরও বাড়তে পারে, যা বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলে দেবে। তিনি দাবি করেছেন, পারস্য উপসাগরে মিত্রদের নিরাপত্তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা ব্যর্থ হয়েছে, তাই মার্কিন সামরিক নিশ্চয়তার বাইরে হরমুজকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিতে চায় ইরান।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন, ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ধরনের ভুল হিসাব করার জন্য। তিনি দাবি করছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভুলের কারণে ওয়াশিংটন আরও আগে বড় ভুল করেছে, যেমন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ।
এবার হরমুজ নিয়ে আরও বড় ভুলের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরুর বিষয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে অনির্দিষ্টকাল ধরে। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী নৌবাহিনীর জাহাজ বদল করে দীর্ঘ সময় এই অবরোধ বজায় রাখতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যখন সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি ও পরিবেশ নিরাপত্তাতেও। ওমানের উপকূলে ক্ষতিগ্রস্ত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনকারী রুশ জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি ট্যাংকারটি ডুবে যায় বা ভেঙে যায়, তাহলে এর পুরো তেল ছড়িয়ে পড়ে নজিরবিহীন পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন