০৩:৩৪ পি.এম
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিলের অনুমতি প্রশাসন প্রদান করেনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকাল থেকে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে এই মাহফিল শুরু হওয়ার কথা ছিল।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রশাসন থেকে মাহফিল বন্ধের মৌখিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে অতিথিদের ফোন করে না আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, আয়োজকরা গত কয়েকদিন ধরে আশপাশের এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। বড় প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আমির হামজার এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে সাংবাদিক এম এ মোতালিবের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ১
মানব কল্যাণ পরিষদ নামের সংগঠনের উদ্যোগে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান মাদানী সভাপতিত্বে এই মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।
স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহকেও মাহফিলে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে ব্যানার পোস্টারে মুফতি আমির হামজা এমপির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি গোদাগাড়ীর মাহফিলে উপস্থিত থাকতে সম্মতিও দিয়েছিলেন।
আয়োজকরা জানান, প্রশাসনের অনুমতির জন্য গত ১৩ অক্টোবর তারা গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ওসি বরাবর আবেদন করেন। সেই আলোকে শনিবার সকালে আয়োজকরা ইউএনওর কাছে অনুমতি নিতে যান। কিন্তু পুলিশের প্রতিবেদন না আসায় ইউএনও অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি আয়োজকদের জানান, পুলিশি প্রতিবেদন ছাড়া অনুমতি প্রদান সম্ভব নয়।
আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক রোববার দুপুরে বলেন, শনিবার সকালে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি আমাদের জানান, মাহফিলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। পুলিশ প্রতিবেদন না এলে তিনি অনুমতি দিতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে আমরা ধরে নিয়েছি প্রশাসন আমাদের মাহফিলের অনুমতি প্রদান করবে না। শেষ পর্যন্ত অতিথিদের ফোন করে ক্ষমা চেয়েছি এবং প্যান্ডেল গুটিয়ে ফেলেছি।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় লালন সাঁইয়ের আখড়া বাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার
এই বিষয়ে ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া এই ধরনের সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার নিয়ম নেই, যেখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়। আমরা পুলিশের প্রতিবেদন জন্য লিখেছি। প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, মুফতি আমির হামজা এমপির তাফসির মাহফিলের বিষয়ে পুলিশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অর রশিদ রোববার দুপুরে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। যদি উপজেলা বা জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশের কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন