০৩:৩৬ পি.এম
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের পচানালা খালটি কল-কারখানার বর্জ্যে মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে গেছে। পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে একদিকে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে, অন্যদিকে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকদের মতে, তারা প্রায় ৫০০ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার ব্যাপারে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দপুর শহরের উত্তর অংশের বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কয়া বিল থেকে পচানালাটির উৎপত্তি শুরু হয়। এরপর এটি সৈয়দপুর পৌর এলাকার মধ্য দিয়ে দক্ষিণে ২২ কিলোমিটার ঘুরে রংপুরের বদরগঞ্জের বারাতি নদীতে গিয়ে মিশেছে। এই খালটির গভীরতা ১০ ফুট এবং চওড়া ৩০ ফুট হওয়ার কথা। ১৮২২ সালে তৎকালীন জমিদার পচা সরকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য এই খালটি খনন করেছিলেন।
সৈয়দপুর পৌর এলাকার কিছু কৃষিজমি, বোতলাগাড়ি, কামারপুকুর ও বাঙালিপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ হেক্টর জমি পচানালার মাধ্যমে সেচ সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে খালটির পানি এতটাই দূষিত হয়ে গেছে যে, এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত বরিশালের তরুণ সংগঠক আরিফুর রহমান, এক দশকের কাজের স্বীকৃতি
পাউবো কর্তৃপক্ষ জানায়, পৌরসভার নালা নর্দমা এবং বিসিক শিল্প নগরীর বর্জ্য পচানালায় ফেলা হচ্ছে। এর ফলে পচানালার পানি দূষিত হয়ে যাচ্ছে। এই কারণে প্রতিদিন লাখ লাখ মশার জন্ম হচ্ছে।
সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে পচানালা সেতুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পচা নালার ময়লা আবর্জনা জমে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানকার পানি কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও আশপাশের লোকজন দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এবং ডেঙ্গুর আতঙ্কে রয়েছেন। সৈয়দপুর শহরের রংপুর দিনাজপুর সড়কের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় সেতুর নিচে দুই ধারে প্রধান নালা রয়েছে। এর সংযোগ গিয়ে ঠেকেছে পচানালায়। মিল ইন্ডাস্ট্রির বর্জ্য সেখানে গিয়ে পড়ছে। উপজেলা সড়কের পচানালা সেতুর নিচে শহরের বড় নর্দমা থেকে অব্যাহত নোংরা খালের পানিতে মিশছে।
সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন লুতু জানিয়েছেন, চাষীরা পচানালার পানি তাদের জমিতে সেচ কাজে ব্যবহার করতেন। কিন্তু বর্তমানে পচা নালার পানি দূষিত হয়ে যাওয়ায় পুরো পানি কালো হয়ে গেছে। এই কারণে ওই পানি আর জমিতে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, "পচা নালার পাশেই আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পানির দুর্গন্ধে স্কুল সংলগ্ন মাঠে আমরা খেলতে পারছি না। মশার কামড়ে ক্লাস করতে অসুবিধা হচ্ছে। এই মশাগুলো ডেঙ্গু মশা কি না এ নিয়ে আমরা আতঙ্কে রয়েছি।"
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ৫৬৬ মন্দির-মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়িয়েছে এসআরবি-১৩
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, "ডেঙ্গু নিধনে সরকার বদ্ধপরিকর। কিন্তু পচানালায় মশার বংশ বিস্তার রোধে কারো উদ্যোগ নেই। পচা নালার পানি সেচ কাজে ব্যবহার করা ও মশার উৎপত্তি রোধ করা জরুরি।"
রোববার (১৮ অক্টোবর) সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াসিম বারী জয় বলেন, "বদ্ধ পানিতে সাধারণত মশার বংশ বিস্তার ও রোগজীবাণু বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। আর এসব মশার কামড় ও রোগজীবাণুর কারণে শিশু ও বড়রা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান জানান, "পচানালার পানি নোংরা হওয়ায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।"
পৌর এলাকা ও বিসিক শিল্প নগরীর নোংরা পানি ও বর্জ্যের কারণে প্রতিদিন লাখ লাখ মশার উৎপত্তি হচ্ছে। সৈয়দপুর পৌরসভার নোংরা পানি পচানালায় না ফেলার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করছেন না।
আরও পড়ুন: রংপুরে নেসকোর প্রিপেইড মিটার অপসারণের দাবিতে হরতালের ডাক
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ফারাহ্ ফাতিহা তাকলিমা এ ব্যাপারে জানান, "এ বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন