বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:০৫ এম
রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি গুজব প্রতিরোধে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল তিনটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সভাটি召开 হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভাটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সবুর আলী। সভায় রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসএ শাখা) অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত শাখা এবং ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখা) বোরহান উদ্দিন অন্তর, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি সকলকে বলেছেন যে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করার প্রয়োজন নেই। তাই গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক তথ্য জেনে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। জেলা প্রশাসক আরো জানান, অযৌক্তিকভাবে জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করা হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে হবে। সভায় জ্বালানি তেলের বর্তমান সরবরাহব্যবস্থা, বাজার পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন। সভা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার, সঠিক তথ্য জানার এবং অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ না করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলারও আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলায় কৃষক স্মার্ট কার্ড তথ্য সংগ্রহের কাজ বর্তমানে চলছে। এর ধারাবাহিকতা হিসেবে মোহনপুরে কৃষক স্মার্ট কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) আমরাইল ব্লকের কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং ডিজিটাল এন্টি করার কাজ চলছে।
মোহনপুর উপজেলার আমরাইল ব্লকে কৃষক স্মার্ট কার্ড তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো: আজিজুর রহমান, রাজশাহী জেলার উপ-পরিচালক মো: নাসির উদ্দিন, পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার আব্দুল লতিফ, উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুল মতিন এবং শুভ ভৌমিক, কৃষি তথ্য সার্ভিসের রাজশাহীর আঞ্চলিক তথ্য অফিসার ফরিদা ইয়াসমিন।
আমরাইল ব্লকে এখন পর্যন্ত ১৪০৭ জন কৃষক পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি মোট লক্ষ্যমাত্রার ৭৪.২৫%। উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কৃষক ও কৃষানীর স্বামী-স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের মূল কপি, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর এবং জমির মালিকানা কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। স্মার্ট কার্ডধারীরা সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং ডিজিটাল কৃষি পরামর্শ পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংস অস্বাভাবিক রঙ পরিবর্তিত হয়েছে। বুধবারের (২২ জুলাই) এই ঘটনাটি এলাকার মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাইকগাছা পৌর বাজারের একজন মাংস ব্যবসায়ী থেকে ফ্রিজে সংরক্ষিত গরুর মাংস কিনেন স্থানীয় মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা। পিকনিক আয়োজনের জন্য তারা মোট তিন কেজি ৯০০ গ্রাম গরুর মাংস ক্রয় করেন। যখন রান্নার প্রক্রিয়া চলছিল, তখন হঠাৎ করে মাংসের রং সবুজ হয়ে যায় এবং তারা বিষয়টি এলাকার লোকজনকে জানিয়ে দেন। এর পর সেই মাংস পাইকগাছা থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশ তা জব্দ করে এবং থানার হেফাজতে রাখে।
মাংস বিক্রেতা ইসমাইল কসাই ঘটনার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, বুধবার সকালে তার কাছে আরো অনেক ক্রেতা একই মাংস কিনেছেন, কিন্তু মডার্ন বেকারির কর্মচারী ব্যতীত অন্য কোনো ক্রেতার সূত্রে অভিযোগ তিনি পাননি। তিনি আরও জানান, গত ১৫ বছর ধরে তার ব্যবসা সুনামের সাথে চলে আসছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, রান্নার সময় যদি মাংসের সাথে কোনো রং অথবা রাসায়নিক ভুলবশত মিশে গিয়ে এমনটি ঘটে, সেটাও একটি সম্ভাবনা।
পাইকগাছা থানার ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী জানান, ঘটনার সত্যতা তদন্তের জন্য নিশ্চিত করেছেন। মাংসের নমুনা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর কি কারণে রং পরিবর্তন ঘটেছে এবং কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ভেজাল রয়েছে কিনা তা স্পষ্ট হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সদরপুরে মাদক সেবন করে এলাকাবাসীর সাথে অশোভন আচরণ করায় আমিনুল কাজী (৩১) এবং আজিজুল শেখ (২৮) নামে দুই তরুণকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত ৮টার সময় উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া এলাকার রাজার চর ওয়াজ হাওলাদার কান্দি এলাকায় সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আমিনুল কাজী ঐ উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের মো. আশরাফ কাজীর ছেলে; আর আজিজুল শেখ একই গ্রামের খলিল শেখের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আমিনুল কাজী (৩১) ও আজিজুল শেখ (২৮) প্রায়ই মাদক সেবন করেন এবং পরিবারসহ এলাকার আশপাশের লোকজনের সাথে উচ্ছৃঙ্খল ও অপ্রীতিকর আচরণ করে থাকেন। এরই প্রেক্ষিতে বুধবারও তারা মাদক ক্রয় করার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হাতেনাতে আটক হন। তল্লাশির সময় তাদের কাছে ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি, জব্দকৃত ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন সদরপুর থানার একদল পুলিশ সদস্য।
সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন যে, সরকার কৃষির আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিক বিপ্লবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।
তিনি বুধবার (২২ জুলাই) রাতে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর উদ্যোগে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, শিক্ষিত যুবসমাজকে কৃষিতে আকৃষ্ট করা প্রয়োজন। দেশের শতকরা ৮০ ভাগের বেশি মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘ভাতে মাছে বাঙালি’ প্রবাদটির অস্তিত্ব রাখতে হলে ধানের ফলন বৃদ্ধি অপরিহার্য।
তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছে শিক্ষিত যুব সমাজ। আধুনিক প্যান্ট-শার্ট পরা তরুণদের কৃষিতে আকৃষ্ট করতে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকীকরণের ওপর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
তিনি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের প্রশংসা করে বলেন যে, যন্ত্রটির মাধ্যমে মাত্র ৪০ সেকেন্ডে চার সারি চারা রোপণ হচ্ছে, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেই। এটি ফলন বৃদ্ধিতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। আমরা বিদেশ থেকে চাল আমদানি না করে, বরং ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে চাল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই।
কৃষক কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রকৃত ভূমিহীন, হতদরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার। কোনো অবস্থাতেই সচ্ছল ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নামে এসব কার্ড ইস্যু করা যাবে না।
তিনি খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের শেষে, সরকারি ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ প্রকল্পের আওতায় লেংগুরা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তিনশো শিক্ষার্থীর মাঝে নিম, পেয়ারা ও মেহগনি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার নিজে লেংগুরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ