শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৪৭ পি.এম
রাশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে কোনো পক্ষই বিজয়ী হবে না বলে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, সেটি অর্জনে তারা সফল হয়নি। তিনি মনে করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মস্কোয় রাশিয়া-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে কোনো পক্ষেরই বিজয়ী হওয়ার সুযোগ থাকবে না।"
পুতিন আরও বলেন, "আর পরিস্থিতি যদি অনেক দূর গড়ায়, তাহলে কেউই বিজয়ী হবে না। কেউ যেন বিষয়টি ভুলে না যায়।"
রুশ প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, পশ্চিমারা রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করার যে উদ্দেশ্য নিয়েছিল, তা বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। তথ্যসূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় মাঝ আকাশে দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষের ফলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে ম্যাকমিনভিল মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের কাছেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন টেক্সাসের ২২ বছর বয়সী ফ্লাইট প্রশিক্ষক ম্যাডি আসবো, ওরেগনের ৩৮ বছর বয়সী পাইলট টাইলার স্টারডিভ্যান্ট এবং যুক্তরাজ্যের এক শিক্ষানবিশ পাইলট। ইয়ামহিল কাউন্টির শেরিফ স্যাম এলিয়ট এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি হেলিকপ্টারে প্রশিক্ষক ও শিক্ষানবিশ পাইলট ছিলেন, অন্যটিতে ছিলেন একমাত্র পাইলট স্টারডিভ্যান্ট। সংঘর্ষের পর উভয় হেলিকপ্টার একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমিতে বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনার ফলে লাল ও সবুজ রঙের দুটি হেলিকপ্টারই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় কাছের হাইওয়ে ২৩৩-এর প্রায় এক মাইল অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও (এফএএ) এই তদন্তে যুক্ত হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনায় জড়িত একটি হেলিকপ্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জেরি ট্রিম্বল হেলিকপ্টারস জানিয়েছে, তারা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
সূত্র: সিএনএন
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্কের আরারাত পর্বতের নিকটবর্তী দুরুপিনার গঠনে নুহ নবীর নৌকার ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার বিষয়ে নতুন দাবি করেছেন একদল গবেষক। তাদের বক্তব্য, সেখানে কাঠকয়লার মতো পোড়া কাঠের পাশাপাশি ভূগর্ভে প্রায় ৩০ ফুট গভীরে অক্ষত কাঠের সন্ধানও পাওয়া গেছে। তবে, এই নমুনাগুলি সত্যিই নুহ নবীর নৌকার অংশ কিনা, তা বৈজ্ঞানিকভাবে এখনও প্রমাণিত হয়নি।
‘নোয়াস আর্ক স্ক্যানস’ নামে পরিচিত গবেষক দলের সদস্যরা কয়েক সপ্তাহ ধরে দুরুপিনার গঠনে বিভিন্ন ধরনের স্ক্যান পরিচালনা করছেন। প্রায় ৫১৫ ফুট দীর্ঘ কাঠামোর ভেতরে অনুসন্ধানের জন্য তারা ড্রোনও ব্যবহার করেছেন।
দলটির প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু জোনস সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, অনুসন্ধানে তারা নুহ নবীর নৌকার পোড়া অবশিষ্টাংশের সন্ধান পেয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কাঠ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাটির প্রায় ৩০ ফুট নিচে অক্ষত কাঠের নমুনাও পাওয়া গেছে।
জোনসের ধারণা, কয়েক শতাব্দী আগে কোনো রাখাল কাঠামোটিকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করার সময় সেখানে আগুন জ্বালিয়ে থাকতে পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বজ্রপাত কিংবা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে কাঠ পুড়ে যেতে পারে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোনস বিশ্বাস করেন যে, উদ্ধার হওয়া কাঠ নুহ নবীর নৌকার অংশ। তার যুক্তি হলো, নৌকাটিকে পানিরোধী করতে আলকাতরার মতো দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তাই কোনো একসময় এতে আগুন ধরে থাকতে পারে।
এখন পর্যন্ত দুরুপিনার গঠন নিয়ে গবেষক দলের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে তারা কাঠামোটিকে মানুষের তৈরি বলে দাবি করে এবং সেখানে ড্রিল করে পচে যাওয়া কাঠের সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়ার কথাও জানায়।
গবেষকরা আরও দাবি করেছেন যে, খননকাজের সময় একটি ড্রিল মেশিন কাঠামোর ভেতরে শক্ত কোনো বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে ভেঙে যায়। তাদের ধারণা, বস্তুটি পাথরে পরিণত হওয়া কাঠ হতে পারে।
জোনসের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের সংগৃহীত তথ্য দুরুপিনার গঠনকে প্রাকৃতিক শিলাস্তর হিসেবে বিবেচনার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রাথমিক রাডার স্ক্যানেও কাঠামোটির ভেতরে একটানা ও সমজাতীয় কঠিন শিলার বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
তবে, গবেষকদের এসব দাবি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। দুরুপিনার গঠনকে নুহ নবীর নৌকার ধ্বংসাবশেষ হিসেবে শনাক্ত করার পক্ষে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে এখন পর্যন্ত স্বীকৃত কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র: উইয়ন নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ ৩৫ বছরের বিরতি ভেঙে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে এর ভবিষ্যৎ। বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের জন্য কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সদ্য সাবেক রাকসুর নেতারা, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ক্যাম্পাসের ছাত্র সংগঠনগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই মাসে রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ভোটগ্রহণের তারিখ সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারণ করা হলেও, কয়েক দফা পরিবর্তনের পর ১৬ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। প্যানেলটির ২৪ দফা ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল রাকসু নির্বাচনকে ক্যালেন্ডারভুক্ত করা। তবে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
রাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে এক বছর। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান।
তিনি বলেন, "এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে উপাচার্যের ওপর। তিনি যখন মনে করবেন, তখনই নির্বাচন হবে।" উপাচার্য আমাকে আগের নির্বাচনের অবস্থা, কারা দায়িত্বে ছিলেন এবং কী কী সমস্যা ছিল সেসব তথ্যসহ একটি ফাইল দিতে বলেছিলেন। আমি সে অনুযায়ী তাকে ফাইল দিয়েছি।
সেতাউর রহমান বলেন, "তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, শিক্ষার্থীরা নির্বাচন আয়োজনের জন্য চাপ দিচ্ছেন।" সেই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আলোচনার মধ্যে রাখার অংশ হিসেবে হয়তো এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তার কিছুই এখনো দৃশ্যমান নয়।
তবে রাকসুর বর্তমান নেতাদের দাবি, নির্বাচন আয়োজনের জন্য তারা প্রশাসনের কাছে নিয়মিত দাবি জানিয়ে আসছেন।
রাকসুর সাবেক এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, "পরবর্তী রাকসু যাতে ধারাবাহিকভাবে চালু থাকে, সেটি আমাদের ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল।" এ লক্ষ্যে তৃতীয় অধিবেশন থেকেই উপাচার্যকে বিষয়টি জানিয়ে আসছি। সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত অধিবেশনে উপাচার্য বর্তমান কোষাধ্যক্ষকে নির্বাচনের তফসিল প্রণয়ন ও গঠনতন্ত্র সংস্কারের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ দুটি বিষয়ে দ্রুত তাকে হালনাগাদ তথ্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, "কোষাধ্যক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর পরবর্তী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তফসিল ও গঠনতন্ত্র সংস্কারের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।" আমরা কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি, শিগগিরই এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য জানাতে পারব।
রাকসুর সাবেক জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, "রাকসু আদায় করে নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।" আমার ইশতেহারেও রাকসু সচল রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
রাকসুর সাবেক ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, "রাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছি এবং প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছি।" তবে আমাদের মনে হচ্ছে, প্রশাসন দলীয় সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি বলেন, "প্রশাসন অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দিলেও রাকসু নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।" নির্বাচনের তিন মাস আগে প্রস্তুতি শুরু করার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তুতি নেই। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তারা জানায় ছাত্ররা চাইলে নির্বাচন হবে।
জাহিদ আরো বলেন, "ছাত্ররা যে নির্বাচন চায়, সেটি তো গত নির্বাচনেই স্পষ্ট হয়েছে।" আমাদের আশঙ্কা, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রশাসন নির্বাচন না দেওয়ার পথ তৈরি করছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, "নির্বাচন নিয়ে আমরা অবশ্যই ভাবছি।" আমরা সব সময়ই চাই ছাত্র সংসদ থাকুক ও নির্বাচন হোক। তবে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। শুধু সময় হলেই নির্বাচন করা সম্ভব নয়, সামগ্রিক পরিবেশ ও পরিস্থিতিও অনুকূলে থাকতে হয়। যখন রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি হবে, তখনই নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি
রাকসুর নির্বাচন ও কার্যক্রম ধারাবাহিক রাখার দাবি জানিয়েছেন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারাও। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে ছাত্র সংসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব বলেন, "রাকসু ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা অক্ষুণ্ণ রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।" শিক্ষার্থীদের লিগ্যাল প্ল্যাটফর্ম বলা যায়। প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যে সেতুবন্ধন, সেটির জন্যও রাকসু গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে চাই, রাকসু নির্বাচন অব্যাহত থাকুক।
তিনি আরো বলেন, "রাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে।" তাই অনতিবিলম্বে পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা উচিত। প্রশাসন পরিবেশ-পরিস্থিতির কথা বলছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে এমন কোনো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি, যার কারণে রাকসু নির্বাচন দিলে পরিবেশ ঘোলাটে হবে। আমরা স্মারকলিপির মাধ্যমে আবারও দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি জানাব।
শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, "স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচন তথা ছাত্র সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে রাজনৈতিক সহাবস্থান জরুরি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরের অপর নাম ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এটি শুধু ছাত্রদল নয়, প্রতিটি সংগঠনের কাছেই জনপ্রিয় দাবি। আমরা বরাবরই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী। রাকসুর এই ধারা অব্যাহত থাকুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, "এবারের রাকসু প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাকসুর প্রয়োজন রয়েছে।" আগামীতে শিক্ষার্থীরা সচেতনভাবে প্রতিনিধি নির্বাচন করলে এর মাধ্যমে ভালো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান, আপনারা রাকসুর দাবিতে সোচ্চার হোন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাকির হোসেন হত্যার চার বছর অতিবাহিত হলেও তার পরিবার মামলা করতে পারছে না। তারা বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সূত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের ফলে জাকির হোসেনের মৃত্যু ঘটে। ওই দিন ভোরে মোকাম এলাকার নিজ বাড়ির পাশে তার লাশ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। মৃত জাকির হোসেন ছিলেন মোকাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি।
ঘটনার সময় বুড়িচং থানার ওসি ছিলেন আবুল হাসনাত খন্দকার। তিনি তখন দাবি করেছিলেন, পুলিশ জাকিরকে না পেয়েই ফিরে এসেছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তোলা হত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একই বক্তব্য দিয়েছিলেন তৎকালীন পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান।
তবে পরিবারের অভিযোগ, সদর সার্কেলের তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন, ওসি আবুল হাসনাত খন্দকার, বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাবেদ এবং এসআই রাজীবের নেতৃত্বে ওই অভিযান পরিচালিত হয়। তাদের নেতৃত্বেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ সময় স্থানীয় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের সহযোগিতা করেছিল।
বুড়িচং দেবপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ জাবেদ উল ইসলাম পুলিশের অভিযানের সত্যতা স্বীকার করে বলেছিলেন, রাতে জাকিরের বাড়িতে পুলিশের একটি দল গিয়েছিল, তবে তাকে না পেয়ে ফিরে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, জাকিরের হাতে হাতকড়ার দাগ ছিল এবং অণ্ডকোষ নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। তার চেহারা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাকির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে প্রতিবেশী শাকিব হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, যে স্থানে জাকির হোসেনের মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছিল, সেখানে মিজান কাকা নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় দেখেন জাকির মাটিতে পড়ে আছেন। তখন তিনি সবাইকে ডাকাডাকি করেন। আমরা সবাই মিলে তাকে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান তিনি বেঁচে নেই। ঘটনার তিন বছর অতিবাহিত হলেও জাকিরের পরিবার এখনো কোনো বিচার পায়নি।
যে ঘরটির পাশে জাকিরকে ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই ঘরের মালিক মাজেদা খাতুন ভয় ও আতঙ্কে বলেন, তখন পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ভয়ে জাকির নিচে লুকিয়ে থাকত। আমি কতবার তাকে এই অবস্থায় দেখেছি। কিন্তু যেদিন তাকে মেরে ফেলে রেখে যায়, সেদিন আমরা কোনো শব্দ শুনতে পাইনি। ফজরের সময় শুধু চিৎকার শুনতে পাই যে জাকিরকে মেরে ফেলে রাখা হয়েছে।
জাকির হোসেনের শাশুড়ি আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে সরেজমিনে কথা হয়। তিনি বলেন, মামলা করে কী হবে? আল্লাহ বিচার করবেন। আমার মেয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এখন মামলা করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার মেয়ে ও নাতিদের মেরে ফেলবে। বিএনপিও আমার মেয়ে এবং নাতিদের কোনো খোঁজখবর রাখছে না। তারা একটি ভাঙা ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
জাকির হোসেনের স্ত্রী আকলিমা আক্তার পলি বলেন, কেন তারা মামলা করছেন না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, যখন তার স্বামীকে হত্যা করা হয়, তখন তিনি মামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অনেকেই বলেছেন, মামলা করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে ছাড়বে না, কারণ তার একটি ছোট ছেলে ও মেয়ে আছে। এই ভয়ে তিনি তখন মামলা করতে পারেননি। তিন বছর হয়ে গেছে, এখন মামলা করে আর কী হবে?
তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী বিএনপির রাজনীতি করতেন। তিন বছর ধরে আমরা পরিবার নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে আছি। ভাঙা একটি টিনের ঘরে বসবাস করছি। শুধু গত দুই ঈদে বিএনপির নেতারা খোঁজ নিয়েছিলেন, এরপর আর কেউ খোঁজ রাখেননি। আমার স্বামী দলের জন্য জীবন দিয়েছেন, অথচ আজ আমরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছি।
উপজেলা মোকাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, জাকির হোসেনকে হত্যার পর তার জানাজায় আমি বক্তব্য দিয়েছিলাম। এর দুই দিনের মাথায় আমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবার কেন এখনো মামলা করতে পারছে না, সে বিষয়ে জাকিরের স্ত্রীই ভালো বলতে পারবে।
বুড়িচং থানার বর্তমান ওসি লুৎফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অনেক দিন আগের। বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। ভুক্তভোগী পরিবার যদি থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়, তবে আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ