ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ মুসলিম চিন্তাবিদের বই নিষিদ্ধের অভিযোগ


মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ মুসলিম চিন্তাবিদের বই নিষিদ্ধের অভিযোগ

সৌদি আরবের মদিনা ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১০০ জন মুসলিম লেখক, গবেষক ও চিন্তাবিদের বই নিষিদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি তালিকা মুসলিম বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণা মহলে আলোচনা এবং সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।

সৌদি গবেষক এবং মানবাধিকারকর্মী আবদুল্লাহ আল-ওদাহ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত নিষিদ্ধ লেখকদের একটি নথি প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেছেন, নথিটি মদিনা ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি ইউনিটের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে প্রায় ১০০ জন লেখক ও চিন্তাবিদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাদের বই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তালিকায় ভারতীয় উপমহাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের পরিচিত বেশ কয়েকজন ইসলামি চিন্তাবিদের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আবুল হাসান আলী নদভী, আবুল আ'লা মওদুদী, মালেক বেন্নাবী, ইউসুফ আল-কারদাওয়ি, মুহাম্মদ আল-গাজালি, মুস্তাফা আল-সিবাই, আবদুল ওয়াহহাব খাল্লাফ এবং আবদুল আজিজ আল-তারিফী।

আরও পড়ুন: মিশিগানের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র হতে চলেছেন মুহিত মাহমুদ

তবে, এসব লেখকের বই নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও প্রকাশিত নথির সত্যতা কিংবা কথিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিষেধাজ্ঞার কারণ নিয়ে প্রশ্ন

তালিকাটি প্রকাশিত হওয়ার পর এর অন্তর্ভুক্তি ও বাছাইয়ের মানদণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কোন বিবেচনায় এসব লেখকের বই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এছাড়া, নিষেধাজ্ঞার আওতা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে। তালিকাভুক্ত লেখকদের সব বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নাকি তাদের নির্দিষ্ট কিছু প্রকাশনার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর—তা জানা যায়নি। একইভাবে, বইগুলো গ্রন্থাগারের সংগ্রহ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, নাকি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের পড়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠালেন

আলোচনায় উপমহাদেশের প্রভাবশালী চিন্তাবিদরা

তালিকায় থাকা আবুল হাসান আলী নদভী ও আবুল আ'লা মওদুদী ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামি চিন্তাজগতে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তাদের লেখা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দেশের পাঠক, গবেষক এবং ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পঠিত ও আলোচিত হয়ে আসছে।

একইভাবে, মালেক বেন্নাবী, ইউসুফ আল-কারদাওয়ি এবং মুহাম্মদ আল-গাজালির মতো চিন্তাবিদদের রচনা মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মীয় আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

এ কারণে এতসংখ্যক পরিচিত লেখকের নাম একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের বইয়ের প্রবেশাধিকার সীমিত করার পেছনে কী ধরনের নীতিগত বা প্রশাসনিক বিবেচনা কাজ করেছে, তা জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: হঠাৎ সৌদি আরবের নিষেধাজ্ঞা, কেনিয়ায় ভ্রমণে দেবে না ভিসাও

শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমালোচকদের উদ্বেগ, কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই লেখকদের বই পাঠের সুযোগ সীমিত করা হলে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বিকল্প চিন্তাধারা জানার পরিসর সংকুচিত হতে পারে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মত, দর্শন ও তাত্ত্বিক অবস্থান সম্পর্কে পড়াশোনা এবং সেগুলোর তুলনামূলক মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।

অবশ্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব গ্রন্থাগার নীতিমালা, পাঠ্যক্রম এবং বই নির্বাচনের বিধান থাকতে পারে। তবে কোনো লেখকের বই সংগ্রহ বা পাঠের সুযোগ সীমিত করার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

মদিনা ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিম বিশ্বের পরিচিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পৃক্ততা থাকায় কথিত এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিসরেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: জেডি ভ্যান্সের সংলাপ প্রস্তাবকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বললেন আব্বাস আরাঘচি

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত নথির সত্যতা, নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত পরিধি এবং এর পেছনের কারণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

সূত্র: হাওজা নিউজ

এআরবি

আরও পড়ুন: ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার তেল শোধনাগারে, ক্ষোভ প্রকাশ ট্রাম্পের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
আল-জাজিরার মতামত

পুরো ইসরাইলের ওপরই যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত: ক্লাইভ লুইস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ পি.এম


পুরো ইসরাইলের ওপরই যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত: ক্লাইভ লুইস

যুক্তরাজ্যের নরিচ সাউথের লেবার পার্টির এমপি ক্লাইভ লুইস একটি নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, ইসরাইলের বিতর্কিত বসতি স্থাপনকারীদের (সেটলার) পাশাপাশি পুরো ইসরাইল রাষ্ট্রের ওপর ব্রিটিশ সরকারের তাৎক্ষণিক ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। মতামত নিবন্ধে তিনি জানান, ইসরাইলি বাহিনী একটি প্রতিনিধি দলকে অবৈধভাবে দখলকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে না দিয়ে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রেখে ফেরত পাঠিয়েছে।

প্রতিনিধি দলের উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা সহিংসতা ও নিপীড়নের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে তদন্ত করা। এমপি ক্লাইভ লুইস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের সাথে ঘটে যাওয়া অসৌজন্যমূলক আচরণ ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের চরম বাস্তবতার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। গাজায় চরম নৃশংসতার পর বর্তমানে পশ্চিম তীরেও ধীরগতির জাতিগত নিধন চলছে, যা সাধারণ অপরাধ নয় বরং সরাসরি ইসরাইলি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ।

বর্তমান ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ সম্প্রতি গাজার মতো পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন। এর পরপরই ফিলিস্তিনিদের প্রধান জীবিকা হিসেবে পরিচিত জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে অমানবিক আক্রমণের ঘটনা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দলটি উদ্যোগী হয়। লুইস অভিযোগ করেন, বিশ্ব যেন ইসরাইলের এসব অপরাধের সাক্ষী হতে না পারে, সেজন্য প্রতিনিধি দল এবং সাংবাদিকদের নিয়মিত বাধা দেওয়া হচ্ছে। গত দেড় বছরে যুক্তরাজ্যের দুটি এমপি প্রতিনিধি দলকে ফেরত পাঠানো ছাড়াও তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গাজা সংঘাতে দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল জাস্টিস নাউয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন যুক্তরাজ্য সম্প্রতি পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে। তবে ক্লাইভ লুইস সতর্ক করে বলেন, কিছু নির্দিষ্ট উগ্র সেটলারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যথেষ্ট নয়, কারণ তাদের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে ইসরাইল সরকার। অবৈধ বসতিগুলোর অর্থনীতি সম্পূর্ণ অচল করে দিতে ব্যাংকিং, বিমা ও নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।

লুইস আরও উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ সরকার ইসরাইলে অস্ত্র বিক্রিতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করলেও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টস সরবরাহ এখনও পুরোপুরি বন্ধ করেনি, যা দিয়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই আইনি ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করে সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করার দাবি জানান। গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে ত্রাণ সরবরাহে বাধা সৃষ্টিকারী ইসরাইলি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন এই ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ইসরাইলের এই অবৈধ দখলদারিত্ব ও বর্ণবাদী নীতি বন্ধে যুক্তরাজ্যকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে পুলিশের কাছ থেকে হত্যা মামলার আসামি নিজাম উদ্দিন ছিনতাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ পি.এম


নোয়াখালীতে পুলিশের কাছ থেকে হত্যা মামলার আসামি নিজাম উদ্দিন ছিনতাই

নোয়াখালীর হাতিয়ায় পুলিশের কাছ থেকে হত্যা মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশের হাতকড়াও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রামচরণ বাজারে এই ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুখচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালালেও ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পালিয়ে যাওয়া আসামি হলেন উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের চর আমান উল্যাহ গ্রামের মৃত ছায়েদল হকের ছেলে নিজাম উদ্দিন (৫৫)। তিনি ২০২৫ সালে হাতিয়া থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে থানায় আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হাতিয়া থানার এসআই বারিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে আটক করতে রামচরণ বাজারে যান। পুলিশ তাকে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে থেকে আটক করার সময় তার স্বজনরা পুলিশের গতিরোধ করেন। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেন।

এই ঘটনার পরপরই হাতিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল রামচরণ বাজারে যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা পালিয়ে যাওয়া আসামির সন্ধানে সুখচর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান। তবে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, পালিয়ে যাওয়া আসামি নিজাম উদ্দিন বর্তমানে সুখচর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য। তিনি একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে এনসিপির সক্রিয় নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, ঘটনার কিছু সময় পর আসামি নিজাম উদ্দিনের স্বজনরা পুলিশের হাতকড়া ফিরিয়ে দেন। তবে রাতে পুলিশ সবাইকে বাজার থেকে চলে যেতে বাধ্য করে। এতে সেখানে একধরনের ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের পরপরই উৎসুক জনতা ভিড় করে। এ সুযোগে তিনি পালিয়ে যান। তবে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩০ লাখ টাকা দিয়েও দালালদের হাত থেকে তাকে বাঁচানো যায়নি, এখন...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ পি.এম


৩০ লাখ টাকা দিয়েও দালালদের হাত থেকে তাকে বাঁচানো যায়নি, এখন...

লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের হাতে নির্যাতনের ফলে গত বছর (২০২৫) ফরিদপুরের ভাঙ্গার হাবি মাতুব্বর প্রাণ হারান। ৩০ লাখ টাকা দিয়েও তাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম ফরিদপুর মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

আদালত মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসকে নির্দেশ দেয়। পরে মুক্তিপণ নেওয়া ব্যক্তিকে মামলাটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে বাদী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

নিহত হাবি ভাঙ্গার জাঙ্গালপাশা গ্রামের মৃত আবদুস সালাম মাতুব্বরের সন্তান। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্বামী নিহত হওয়ার পর থেকে তাসলিমা সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য আসলাম মাতুব্বরের মাধ্যমে হাবির পরিচয় হয়। তাকে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চক্রের প্রধান মুরাদ ব্যাপারী ও তার সহযোগী বকুল মাতুব্বরসহ ছয়জনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে ২০ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার চুক্তি হয়। প্রথম দফায় ১০ লাখ টাকা ধারদেনা ও জমি বন্ধক রেখে হাবি চক্রটির হাতে দেন। ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট তিনি ইতালির উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ২ সেপ্টেম্বর অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা বকুলসহ তিনজনের হাতে দেওয়া হয়।

হাবিকে বন্দিদের সঙ্গে একটি বদ্ধঘরে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। সেই নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে বকুলের কাছে পাঠানো হয় এবং হাবির স্ত্রীকে দেখানো হয়। হাবিকে বাঁচানোর জন্য আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের বসবাসের ঘর বন্ধক রেখে, স্বজনদের থেকে ধার ও সুদে ১০ লাখ টাকা জোগাড় করে দালালদের প্রদান করেন।

তাসলিমা জানান, মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন থামেনি। এক মাস পর মুরাদ আবারও ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ওই টাকা দিতে ব্যর্থ হলে নির্যাতন বেড়ে যায় এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অপর বন্দিদের মাধ্যমে স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পান তিনি। হাবির মৃত্যুর ঘটনায় জানালা ভেঙে অন্তত ১১ জন আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার মাধ্যমে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন।

এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন তাসলিমা। মামলায় ২৬ অক্টোবর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক ষষ্ঠীপদ রায়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘তিন নম্বর আসামি হিসেবে বকুল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।’

এ বিষয়ে তাসলিমা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, পাওনাদারদের ভয়ে তিন সন্তান নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি, কখনো না খেয়েও থাকছি। বকুল নিজেই আমার বাড়িতে এসে টাকাগুলো নিয়েছে, তাকেই শুরুতে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমি বিচার পাব কোথায়? আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই, আমার সন্তানদের নিয়ে বাঁচতে চাই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে বকুলের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কর্মকর্তা ষষ্ঠীপদ রায় বলেন, মামলার বাদী তাসলিমা বকুলের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি। প্রমাণ ছাড়া একজনকে অভিযুক্ত করা যায় না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈয়দপুরে মসজিদের পেছনের দেয়াল কেটে মালামাল চুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ পি.এম


সৈয়দপুরে মসজিদের পেছনের দেয়াল কেটে মালামাল চুরি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে মসজিদের পেছনের দেয়াল কেটে (সিঁধ কেটে) চুরির একটি ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে কামারপুকুর ইউনিয়নের কুজিপুকুর নাজিমুদ্দিনপাড়া বাইতুর রহমত জামে মসজিদে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

দুর্বৃত্তরা মসজিদ থেকে নতুন আইপিএস, মাইকের মেশিন ও ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।

মসজিদ কমিটির সদস্য নাঈম জানান, বৃহস্পতিবার এশার নামাজ আদায়ের পর রাত ২টা পর্যন্ত মসজিদের আশপাশে লোকজনের উপস্থিতি ছিল। কিন্তু শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ফজরের নামাজ আদায় করতে এসে তারা মসজিদের পেছনের অংশে সিঁধ কাটা দেখতে পান। পরে তারা মসজিদের নতুন আইপিএস, মাইকের মেশিন ও ব্যাটারি খুঁজে পাননি।

মসজিদের সভাপতি আহমদ আলী সরকার বলেন, মসজিদটি টিনশেডের এবং এটি মহল্লাবাসীর দান ও সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। এলাকার মানুষ অনেক কষ্ট করে অর্থ সংগ্রহ করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে নতুন আইপিএস, ব্যাটারি ও মাইকের মেশিন কিনেছিলেন। কিন্তু রাতের আঁধারে সবকিছু চুরি হয়ে গেছে। তিনি দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. মোরসালিন মন্তব্য করেন, “একটি মসজিদের জন্য আইপিএস, ব্যাটারি ও মাইকের সরঞ্জাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%