প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের হাতে নির্যাতনের ফলে গত বছর (২০২৫) ফরিদপুরের ভাঙ্গার হাবি মাতুব্বর প্রাণ হারান। ৩০ লাখ টাকা দিয়েও তাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম ফরিদপুর মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসকে নির্দেশ দেয়। পরে মুক্তিপণ নেওয়া ব্যক্তিকে মামলাটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে বাদী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নিহত হাবি ভাঙ্গার জাঙ্গালপাশা গ্রামের মৃত আবদুস সালাম মাতুব্বরের সন্তান। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্বামী নিহত হওয়ার পর থেকে তাসলিমা সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য আসলাম মাতুব্বরের মাধ্যমে হাবির পরিচয় হয়। তাকে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চক্রের প্রধান মুরাদ ব্যাপারী ও তার সহযোগী বকুল মাতুব্বরসহ ছয়জনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে ২০ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার চুক্তি হয়। প্রথম দফায় ১০ লাখ টাকা ধারদেনা ও জমি বন্ধক রেখে হাবি চক্রটির হাতে দেন। ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট তিনি ইতালির উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ২ সেপ্টেম্বর অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা বকুলসহ তিনজনের হাতে দেওয়া হয়।
হাবিকে বন্দিদের সঙ্গে একটি বদ্ধঘরে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। সেই নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে বকুলের কাছে পাঠানো হয় এবং হাবির স্ত্রীকে দেখানো হয়। হাবিকে বাঁচানোর জন্য আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের বসবাসের ঘর বন্ধক রেখে, স্বজনদের থেকে ধার ও সুদে ১০ লাখ টাকা জোগাড় করে দালালদের প্রদান করেন।
তাসলিমা জানান, মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন থামেনি। এক মাস পর মুরাদ আবারও ১০ লাখ টাকা দাবি করে। ওই টাকা দিতে ব্যর্থ হলে নির্যাতন বেড়ে যায় এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অপর বন্দিদের মাধ্যমে স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পান তিনি। হাবির মৃত্যুর ঘটনায় জানালা ভেঙে অন্তত ১১ জন আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার মাধ্যমে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন।
এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন তাসলিমা। মামলায় ২৬ অক্টোবর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক ষষ্ঠীপদ রায়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘তিন নম্বর আসামি হিসেবে বকুল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে তাসলিমা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, পাওনাদারদের ভয়ে তিন সন্তান নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি, কখনো না খেয়েও থাকছি। বকুল নিজেই আমার বাড়িতে এসে টাকাগুলো নিয়েছে, তাকেই শুরুতে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমি বিচার পাব কোথায়? আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই, আমার সন্তানদের নিয়ে বাঁচতে চাই।
বিষয়টি নিয়ে জানতে বকুলের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কর্মকর্তা ষষ্ঠীপদ রায় বলেন, মামলার বাদী তাসলিমা বকুলের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি। প্রমাণ ছাড়া একজনকে অভিযুক্ত করা যায় না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন