ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দাবানলের ধোঁয়ার জন্য কানাডাকে দায়ী করলেন ট্রাম্প, শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারি


দাবানলের ধোঁয়ার জন্য কানাডাকে দায়ী করলেন ট্রাম্প, শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারি

কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, এ দূষণ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের যে বিপুল ব্যয় হচ্ছে, তা কানাডার পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের (ট্যারিফ) সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কানাডা তাদের বনভূমির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে দূষিত, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা বাতাসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এটি ইচ্ছাকৃত অবহেলা। প্রতিবছর এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। এই দূষণের হিসাব কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কের সঙ্গে যোগ করা উচিত।

আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কানাডার শত শত দাবানলের ধোঁয়ায় গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। পরিস্থিতির কারণে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ট্রাম্প জানান, তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলবেন এবং এ ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইবেন।

তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বনভূমি আরও শুষ্ক হয়ে পড়ছে এবং দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার থম্পসন রিভার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইক ফ্ল্যানিগান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গরম, শুষ্ক ও ঝোড়ো আবহাওয়া বাড়ছে, ফলে দাবানলও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে কানাডার অন্টারিও প্রদেশে চলতি বছর প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার একর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওর কলিন্স ফার্স্ট নেশন সম্প্রদায়ের পুরো বসতি আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

অন্যদিকে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড দাবানল মোকাবিলায় ১১টি নতুন বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রেও গড়ের চেয়ে বেশি দাবানল হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩৭ লাখ একর ভূমি পুড়ে গেছে, যা গত ১০ বছরের গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উগান্ডায় বাস দুর্ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীসহ প্রাণ গেল ২১ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ এম


উগান্ডায় বাস দুর্ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীসহ প্রাণ গেল ২১ জনের

উগান্ডার পূর্বাঞ্চলে শিক্ষাসফর শেষে ফেরার পথে ঘটে যাওয়া একটি বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২০ জনই স্কুলশিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার উগান্ডা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজধানী কাম্পালার কিং ডেভিড জুনিয়র স্কুলের শিক্ষার্থীরা কাপচোরওয়া জেলার সিপি ফলস এলাকায় শিক্ষাসফর শেষ করে ফিরছিলেন। পথে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি বড় পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এর ফলে ঘটনাস্থলেই ২০ শিক্ষার্থী ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হন।

দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং প্রাপ্তবয়স্ককে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের সময় পুলিশের ধারণা, চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি উপস্থিত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর বাসটির দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ছবি উগান্ডা পুলিশ প্রকাশ করেছে। এসব ছবি দেশটির সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির দুর্বল দিকটি আবারও সামনে এনেছে।

পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় সড়ক দুর্ঘটনাবিষয়ক একটি বড় সমস্যা রয়েছে। অপর্যাপ্ত সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।

গত বছরের অক্টোবরে দেশটির একটি মহাসড়কে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। আর ২০২৪ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই বছর উগান্ডায় ৪ হাজার ৪৩৪টি প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ১৪৪ জনের মৃত্যু ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমরা আমাদের‘কোচকে জয়ের মাধ্যমে প্রতিদান দিতে চাই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ এম


আমরা আমাদের‘কোচকে জয়ের মাধ্যমে প্রতিদান দিতে চাই’

গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেললেও, এবার সেমি-ফাইনালের বাধা পার করতে পারে না ফ্রান্স। ফলে তাদের পথচলা শেষ চারে থেমে গেছে। তবে দলটি টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি বিদায়ও হয়নি। কারণ তাদের দেশে ফেরার আগে খেলতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।

মায়ামি স্টেডিয়ামে, বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ৩টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ আরেক সেমি-ফাইনালে হেরে যাওয়া ইংল্যান্ড। ইংলিশরা আগেই জানিয়েছে, অর্থহীন এই ম্যাচ খেলার তাদের কোন ইচ্ছা নেই।

এবার ফ্রান্সের ফুটবলার-কোচেরও একই মূল্যায়ন করেছে। তারাও বলছে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী নামের এই ম্যাচে মাঠে নামার অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না। শুধু তাই নয়, দলের ডিফেন্ডার ইব্রাহিম কোনাতে এই ম্যাচের নাম দিয়েছেন চকলেট মেডেলের ম্যাচ।

অবশ্য খেলার তেমন ইচ্ছা না থাকলেও, কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্য এই ম্যাচটি জিততে চায় ফ্রান্স। কারণ, ফ্রান্সের ডাগআউটে দেশমের দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে এই ম্যাচ দিয়েই। এরপর আর জাতীয় দলের সঙ্গে দেখা যাবে এক কিংবদন্তি কোচকে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোচের জন্য জয়ের লক্ষ্য কোনাতের। তিনি বলেন, “আমরা কেউই তৃতীয় স্থানের জন্য ম্যাচটি খেলতে চাইনি, কিন্তু আমাদের কোনো উপায় নেই। আমরা আমাদের কোচকে প্রতিদান দিতে চাই। তিনি ফ্রান্স দলের জন্য অনেক কিছু করেছেন। আমাদের অবশ্যই তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে এবং এই ম্যাচটি জেতার জন্য আমাদের সবকিছু করতে হবে... এই চকলেট মেডেল, এই ব্রোঞ্জ মেডেলটি পাওয়ার জন্য।”

কোনাতের মতো দেশমও বলেছেন, এই ম্যাচ খেলার কোনো ইচ্ছা নেই তার। তাই মনকে বাধ্য করে আগামী শনিবার দলকে মাঠে নামাবেন তিনি।

“এই ম্যাচটির জন্য আমার একটি দায়িত্ব আছে। এটি কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়। এটি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। খেলোয়াড়, স্টাফ ও আমার দায়িত্ব হলো এই শেষ লক্ষ্যটি অর্জন করা। যদিও এটি ফাইনালের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ড এই ম্যাচটি খেলতে চায় না, আমরাও চাই না। তবুও আমরা এখানে।”

নিজের বিদায়ী ম্যাচের আবেগ যেন কাউকে ছুঁয়ে না যায় সে ব্যাপারে দেশম আগেভাগেই সতর্ক করলেন।

“আমাদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে যেন তৃতীয় স্থান অর্জন করতে পারি এবং এই শেষ লক্ষ্যটিকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি। এই জার্সি গায়ে থাকলে আমাদের এই দায়িত্ব পালন করতেই হয়। আমার মনে আমি জানি যে, এটি আমার শেষ ম্যাচ। আমি চাই না কেউ কাঁদুক। শেষ ঘনিয়ে এসেছে, কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে আরও ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ এম


বাংলাদেশে আরও ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে সৃষ্ট ধাক্কার ফলে বাংলাদেশে নতুনভাবে অন্তত ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) এক বিশ্লেষণ গত বৃহস্পতিবার এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে।

"দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব" শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির গতিবিধি পাল্টে দিয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি পড়েছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি, মাছ ও মুরগির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ার ফলে নিম্নআয়ের ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোতে আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনভাবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে যে, এই চাপ অনেককেই নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলছে।

বিশ্বব্যাপী ১৬৭টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদন দেখাচ্ছে কিভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী আমদানি-রপ্তানি ব্যয়ের বৃদ্ধি ঘটছে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো বাহ্যিক ধাক্কায় অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সংকটের তীব্রতা এখানে বেশি হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ইউনিসেফ সতর্ক করে জানিয়েছে, এই সংঘাতের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এশিয়া ও আফ্রিকার দরিদ্র পরিবারগুলো।

এই এলাকায় চলতি বছরের শেষে অতিরিক্ত দুই কোটি ৩৪ লাখ শিশু তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এই বিষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূরের দেশের সাধারণ মানুষ ও শিশুরা আজ এই সংঘাতের ফল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য ও শিক্ষার খরচ দিতে পারছে না। ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এটি তাদের পুরো জীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেতে ইউনিসেফ বাংলাদেশসহ বিশ্বনেতাদের কাছে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে, দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য নগদ অর্থ সহায়তা বৃদ্ধি করার এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব দেশ ঋণের বোঝা বহন করছে, তাদের ঋণ পরিশোধ সাময়িকভাবে স্থগিত করে সেই অর্থ মানবতার মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে বিগত কয়েক দশকের কষ্টার্জিত উন্নয়ন অগ্রগতি সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে যাবে যা লাখ লাখ শিশুর ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন বছর ধরে অচল কক্সবাজারের ডপলার রাডার, হুমকিতে সমুদ্র ও আকাশপথের নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ এম


তিন বছর ধরে অচল কক্সবাজারের ডপলার রাডার, হুমকিতে সমুদ্র ও আকাশপথের নিরাপত্তা

মাছ ধরতে প্রতিদিন সমুদ্রসৈকতে প্রবাহিত হন শত শত জেলে; এবং সেখানে হাজারো পর্যটকও নেমে আসেন। আকাশে নিয়মিত উড়ান দেয় বিমান। কিন্তু কক্সবাজারের ডপলার আবহাওয়া রাডার, যা প্রাণ এবং সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, গত তিন বছর ধরে অচল হয়ে আছে। ফলে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৪০০ কিলোমিটার এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, বজ্রঝড়, ভারি বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার গতিপ্রকৃতি আগে থেকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে দুর্যোগের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে জেলে, ট্রলার মালিক, পর্যটক ও উপকূলের মানুষের উদ্বেগও বৃদ্ধি পেয়েছে।

কক্সবাজার একটি অত্যন্ত দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় জেলা। প্রতিদিন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান শত শত জেলে; সৈকতে ভিড় করেন হাজার হাজার পর্যটক এবং বিমানবন্দর দিয়ে নিয়মিত উড্ডয়ন ও অবতরণ করে বিমান। অথচ পুরো উপকূলের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা কক্সবাজার ডপলার রাডার তিন বছরের বেশি সময় ধরে অচল।

এই রাডারটি ঘূর্ণিঝড়, বজ্রঝড়, ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার গতিপ্রকৃতি দ্রুত শনাক্ত করে ঢাকায় তথ্য পাঠাত। কিন্তু যন্ত্রাংশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে এটি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এর ফলে উপকূলীয় এলাকার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, রাডারের ভূমিকাটি উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস ও মেঘের সৃষ্টি এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। কক্সবাজারের বিমানবন্দর থাকায় রাডার তথ্য বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণেও বিশেষভাবে সহায়ক। অল্প সময়ে তৈরি হওয়া মেঘের অবস্থান, প্রকৃতি এবং গতিপথ নির্ধারণে এর গুরুত্ব অসীম। রাডার থেকে প্রাপ্ত তথ্য ঢাকায় পাঠান হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞগণ সেগুলি বিশ্লেষণ করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করেন। কিন্তু রাডার অচল থাকায় এখন সরাসরি এই তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিমানবন্দরের জন্য আবহাওয়ার তথ্য সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, প্রতি ঘণ্টায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের মাধ্যমে পাইলটদের বিভিন্ন তথ্য যেমন তাপমাত্রা, শিশিরাঙ্ক (ডিউ পয়েন্ট), আর্দ্রতা, কিউএনএইচ (বায়ুচাপ), দৃশ্যমানতা, বাতাসের গতি ও দিকসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা হয়। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে, যেমন বজ্রঝড় বা ঘন মেঘের সময়, প্রত্যেকে প্রতি আধা ঘণ্টা পর পর তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্যাটেলাইটসহ অন্যান্য প্রযুক্তি দিয়ে পূর্বাভাস পাওয়া গেলেও কক্সবাজারের স্থানীয় পর্যায়ে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। গভীর সমুদ্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে, জেলেদের একমাত্র ভরসা হচ্ছে রেডিও। তাই হঠাৎ দুর্যোগের প্রতিরোধের জন্য ডপলার রাডার ছিল সবচেয়ে কার্যকর প্রযুক্তি। এটা শুধু জেলেদের জন্য নয়, বরং সমুদ্রসৈকতে থাকা পর্যটক এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলে বাদশা মিয়া বলেন, যখন তারা সমুদ্রে কিছু দূরে চলে যান, তখন অনেক সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। তখন আবহাওয়া খারাপ হলে অভিভাবকরা জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না। এতে তাদের পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

এফবি গালিব ট্রলারের মাঝি শামশুল আলম বলেন, কক্সবাজার উপকূল থেকে ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে গেলেই মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। অথচ তারা অনেক সময় ২০০ থেকে ২২৪ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। ফলে ঝড় বা ঘূর্ণিঝড়ের আগাম তথ্য জানার সুযোগ থাকে না। নির্ভরযোগ্য আবহাওয়ার তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে অনেক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, রাডার স্টেশন অকার্যকর থাকার কারণে সময়মতো সমুদ্রের আবহাওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে হাজারো জেলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মাছ ধরা একটি ট্রলারে কোটি টাকার বিনিয়োগ থাকে। দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির পাশাপাশি বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়। তাই দ্রুত রাডার সচল করা প্রয়োজন।

সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাডার অকার্যকর থাকার কারণে প্রয়োজনীয় সময়ে নির্ভুল আবহাওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। কক্সবাজার ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকা হওয়ায় আগাম তথ্য পাওয়ার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আরও কার্যকর প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হবে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যাবে।

২০২৩ সালে কক্সবাজারের রাডার সচল করতে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার কাছে কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাড়া না পাওয়ায় সরকার নিজস্ব অর্থায়নে রাডার আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৪ সালে জাপানি বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে ভবনটি ব্যবহারযোগ্য বলে মত দিয়েছে তবে নতুন যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কাজ শুরু করা হয়নি।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, কক্সবাজারের রাডারটি ২০০৭ সাল থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। পরবর্তী সময়ে যন্ত্রাংশের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় এবং এটি বন্ধ হয়ে যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা কয়েক দফা চেষ্টা করেও এটিকে সচল করতে সক্ষম হননি। কক্সবাজার ছাড়া পটুয়াখালীর খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের রাডারও একইভাবে আধুনিকীকরণের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। এ জন্য একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইও সম্পন্ন হয়েছে। জাপানের প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, বর্তমান ভবন ও অবকাঠামো ব্যবহারযোগ্য, তবে পুরানো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন করতে হবে। প্রকল্পটি এখনো মন্ত্রণালয়ে রয়েছে এবং প্রতি মাসেই এ বিষয়ে ঢাকার দফতর থেকে চিঠি আসে কিন্তু প্রকল্প অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেয়া হয়নি।

কক্সবাজারকে ‘মাল্টি হ্যাজার্ড’ জেলা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এখানে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা, ভূমিধস ও ভারি বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি বেশি। ২০২৪ সালে এক দিনেই ৫৫০ মিলিমিটার এবং সাত দিনে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। এ ধরনের দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কতায় আধুনিক আবহাওয়া রাডারের বিকল্প নেই। দ্রুত নতুন রাডার স্থাপন করা গেলে জনগণকে আরও কার্যকর আবহাওয়া সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

আবহাওয়া অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, কক্সবাজার অফিস মূলত একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। সেখানে সরাসরি পূর্বাভাস তৈরি করা হয় না। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বাতাসের গতি ও দিকসহ নানা তথ্য সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। বেলুনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বাকাশের তথ্যও পাঠানো হয়। পরে কেন্দ্রীয়ভাবে পূর্বাভাস তৈরি করে তা গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়। রাডার অচল থাকায় বর্তমানে পর্যবেক্ষণ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ ও ঢাকায় পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আ. মান্নান জানান, বিষয়টি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় অবগত রয়েছে এবং এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার শহরের সার্কিট হাউস-সংলগ্ন পাহাড়ের চূড়ায়, সমতল থেকে ১৬০ ফুট উপরে অবস্থিত এই রাডার স্টেশনটি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৭ সালে জাপানের সহায়তায় এটিকে আধুনিক ডপলার আবহাওয়া রাডারে উন্নীত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%