প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে সৃষ্ট ধাক্কার ফলে বাংলাদেশে নতুনভাবে অন্তত ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) এক বিশ্লেষণ গত বৃহস্পতিবার এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে।
"দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব" শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির গতিবিধি পাল্টে দিয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি পড়েছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি, মাছ ও মুরগির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ার ফলে নিম্নআয়ের ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোতে আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনভাবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে যে, এই চাপ অনেককেই নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলছে।
বিশ্বব্যাপী ১৬৭টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদন দেখাচ্ছে কিভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী আমদানি-রপ্তানি ব্যয়ের বৃদ্ধি ঘটছে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো বাহ্যিক ধাক্কায় অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সংকটের তীব্রতা এখানে বেশি হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ইউনিসেফ সতর্ক করে জানিয়েছে, এই সংঘাতের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এশিয়া ও আফ্রিকার দরিদ্র পরিবারগুলো।
এই এলাকায় চলতি বছরের শেষে অতিরিক্ত দুই কোটি ৩৪ লাখ শিশু তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এই বিষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূরের দেশের সাধারণ মানুষ ও শিশুরা আজ এই সংঘাতের ফল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য ও শিক্ষার খরচ দিতে পারছে না। ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এটি তাদের পুরো জীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেতে ইউনিসেফ বাংলাদেশসহ বিশ্বনেতাদের কাছে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে, দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য নগদ অর্থ সহায়তা বৃদ্ধি করার এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব দেশ ঋণের বোঝা বহন করছে, তাদের ঋণ পরিশোধ সাময়িকভাবে স্থগিত করে সেই অর্থ মানবতার মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে, যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে বিগত কয়েক দশকের কষ্টার্জিত উন্নয়ন অগ্রগতি সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে যাবে যা লাখ লাখ শিশুর ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন