০৯:০১ পি.এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যমূল্যের ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় ৪ দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রক্তিমা’।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
এসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিতে সংগঠনটি ৪ দফা দাবি তুলে ধরে।
আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
দাবিগুলো হল— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, ক্যাম্পাসজুড়ে দৃশ্যমান স্থানে ‘No Smoking Zone’ সাইনবোর্ড স্থাপন করা এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা পার্থেনিয়াম আগাছা দ্রুত নিধন ও নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম চালু করা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যাম্পাসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ক্যাম্পাসকে ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা এবং তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পার্থেনিয়াম আগাছার বিস্তার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
এটি আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ১০০ মিটার পরিসীমার মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ। তাছাড়া, পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান করলে জরিমানার বিধান রয়েছে। আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পরিণত করা সময়ের দাবি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ধূমপান কোনভাবেই ধূমপায়ীর জন্যই কেবল ক্ষতিকর নয়, বরং এটি আশপাশের মানুষের জন্যও সমানভাবে ক্ষতিকর। প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ফলে ক্যান্সার, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে, পার্থেনিয়াম আগাছা ত্বকের রোগ, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে, এটি পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্যও নষ্ট করে।
আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। প্রশাসন এমনকি সহজেই ধূমপানমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করতে পারে। কিন্তু, এটি সুস্পষ্টভাবে সদিচ্ছার অভাবের বিষয়। আইন তো তাদের হাতের মধ্যে রয়েছে। শিক্ষিত শ্রেণির সদস্যদের নিয়ে ধূমপানের নেশা চলতে পারে না।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান সাংবাদিকদের সামনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দাবিগুলো অনেক প্রাসঙ্গিক। তবে, দীর্ঘ সময়ের অভ্যাস হিসেবে ধূমপান একেবারে বন্ধ করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। তোমরা এ বিষয়ে ক্যাম্পেইন করে সচেতনতা তৈরি করতে সক্ষম।
আইনি কঠোরতার পাশাপাশি সচেতনতার মাধ্যমে এ সমস্যার সামাধানের কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ক্যাম্পাসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তোমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।
আরও পড়ুন: মাদরাসা বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র একীভূত করার পরিকল্পনা সরকারের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন