ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে একাধিক পরিবর্তনের আভাস


মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে একাধিক পরিবর্তনের আভাস

রাউন্ড অব ১৬-এ মিশরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনা শিবিরে একাদশ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। কোচ লিওনেল স্কালোনি বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটবেন, এমন সম্ভাবনা খুব কম। তবে রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণ এই তিন বিভাগেই একটি করে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এই তথ্য জানিয়েছে।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের কঠিন জয়ের পর আর্জেন্টিনা বর্তমানে পুরো মনোযোগ দিয়েছে নকআউট পর্বে। প্রতিকূল আবহাওয়ার ফলে শনিবারের অনুশীলন বাতিল করতে হলেও দলের প্রস্তুতিতে তেমন প্রভাব পড়েনি। আটলান্টায় রওনা হওয়ার আগে রোববারের অনুশীলনের পর স্কালোনি তার চূড়ান্ত একাদশ নির্ধারণ করবেন বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে আক্রমণভাগ নিয়ে। অধিনায়ক লিওনেল মেসির পাশে কে খেলবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কোচিং স্টাফের পরিকল্পনা ছিল নকআউট পর্ব থেকেই হুলিয়ান আলভারেজকে আবার শুরুর একাদশে ফেরানো। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগে বাঁ গোড়ালিতে চোট পাওয়ার কারণে তিনি এখনো পুরোপুরি ম্যাচ-ফিট নন। যে কারণে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকে খেলেন লাউতারো মার্টিনেজ। জর্ডানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল করার পর তিনি একাদশে জায়গা ধরে রাখলেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে ছিলেন না। যদিও ম্যাচে একটি দারুণ ওয়ান-টু পাসে মেসির জন্য গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে সেই সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আলভারেজ কিছুটা গতি আনলেও তিনিও উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেননি। ফলে মিশরের বিপক্ষে মেসির সঙ্গী হিসেবে শেষ পর্যন্ত লাউতারোই থাকবেন, নাকি আলভারেজ ফিরবেন, এই সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঝুলে থাকতে পারে।

রক্ষণভাগেও রয়েছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে বাম-ব্যাক পজিশনে স্কালোনির সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে। প্রথম দুটি ম্যাচে ভালো খেললেও পরের ম্যাচে সুযোগ পান ফাকুন্দো মেদিনা। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিয়মিত একাদশের সদস্য নিকোলাস তাগলিয়াফিকো আবারও নিজের জায়গা ফিরে পেতে পারেন। মেদিনার শারীরিক অবস্থাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলতে গিয়েই তার পেশিতে টান লাগে। মঙ্গলবারের ম্যাচের আগে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে না পারলে তাগলিয়াফিকোর ফেরার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে।

মাঝমাঠেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দলের সৃজনশীলতা ও ভারসাম্য বাড়াতে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে। তিনি খেললে ডিপ-লাইং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় থাকবেন, ফলে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার আরও সামনে উঠে আক্রমণভাগে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন। অন্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছেন নিকোলাস গঞ্জালেস। যদি তিনি সুযোগ পান তবে ফরমেশনে বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও আক্রমণে আরও সরাসরি ও গতিময় ফুটবল খেলতে পারবে আর্জেন্টিনা। এই দুজনের মধ্যে যিনিই একাদশে জায়গা পান না কেন, শুরুর একাদশ থেকে থিয়াগো আলমাদার বাদ পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সব মিলিয়ে স্কালোনির কাছ থেকে বড় কোনো চমক আসার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও শেষ মুহূর্তে তিনি অপ্রত্যাশিত কোনো সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন, তবু বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে কেপ ভার্দের বিপক্ষে যে দলটি খেলেছিল, সেটিকেই তিনি মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। তাই যদি মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন আসে, সেটি হবে সীমিত মাত্রায়। দলের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখেই নকআউটের কঠিন পরীক্ষায় নামতে চান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচ।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রকল্প, ৫৩৯ তালিকা যাচাইয়ের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রকল্প, ৫৩৯ তালিকা যাচাইয়ের উদ্যোগ

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার জন্য একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

এ লক্ষ্যে ৬৪ জেলার ৪৮৮টি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১১টি সিটি কর্পোরেশনের ৫১টি নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৫৩৯টি বিদ্যালয়ের তালিকার সঠিকতা যাচাই করে প্রত্যয়নপত্র পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, ‘বিদ্যমান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়গুলো নির্বাচন করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের মধ্যে দেশের ৬৪ জেলার বিদ্যমান ৪৮৮টি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য ইন্টিাগ্রেটেড প্রাইমারি এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এছাড়া, ১১টি সিটি কর্পোরেশন এলাকার আরও ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে প্রকল্পের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অফিস আদেশে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, প্রকল্পের কার্যক্রম চূড়ান্ত করার আগে নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলোর তালিকা নির্ভুল এবং হালনাগাদ হওয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এজন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিজ নিজ জেলার বিদ্যালয়গুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করে নির্ধারিত ছকে প্রত্যয়নপত্র প্রস্তুত করতে হবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রত্যয়নপত্রে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকতে হবে এবং তা আগামী ৫ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে পাঠাতে হবে।

নির্দেশনার সঙ্গে ১১টি সিটি কর্পোরেশন এলাকার নির্বাচিত বিদ্যালয়ের তালিকা এবং প্রত্যয়নপত্রের নমুনা সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে জেলা পর্যায়ে যাচাই কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিল, এনডিসি স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ভবন, শ্রেণিকক্ষ, স্যানিটেশন, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য শিক্ষা-সহায়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

এর ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নিরাপদ, আধুনিক এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ন্যাটো সম্মেলনের আগে পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ এম


ন্যাটো সম্মেলনের আগে পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ট্রাম্প

ঢাকা, ৫ জুলাই, ২০২৬ : ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার আলাদা ভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। ইউক্রেন যুদ্ধ সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার খবর রয়েছে, যা ক্রেমলিন এবং জেলেনস্কির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দুই পক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের অংশ হিসেবে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাণিজ্যিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, রুশ বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তির উদ্ধৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, ‘দুই প্রেসিডেন্ট ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অংশগ্রহণের বিষয়টি আলোচনা করার সময় গুরুত্ব লাভ করেছে।’

তিনি আরও জানান, প্রায় ৮৫ মিনিটের ফোনালাপে দুই নেতা ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এর আগে শনিবার, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ট্রাম্পের সাথে তারও ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি এ ফোনালাপকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ অভিহিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জেলেনস্কি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও আমি যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছি। এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে এ আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছি।’

আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পসহ ৩২টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং প্রতিনিধিদল আঙ্কারায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, পুতিন ট্রাম্পকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, রুশ বাহিনী সেখানে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে।

তবে বাস্তবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সম্মুখ যুদ্ধে রুশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। মূলত ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ভারী সামরিক যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং উভয় পক্ষই বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এদিকে, কূটনৈতিক পর্যায়েও আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। মস্কো পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে, তবে কিয়েভ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তামিলনাড়ুতে আটক ৫০ ‘বাংলাদেশি’, পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০০ এম


তামিলনাড়ুতে আটক ৫০ ‘বাংলাদেশি’, পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে অবস্থান করার অভিযোগে আটক ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনি এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল-হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামিলনাড়ু পুলিশ যে অভিযানে এসব ব্যক্তিকে আটক করেছে, তারা প্রথমে সালেম জেলার আট্টুর মহকুমা কমপ্লেক্সে অবস্থিত একটি বিশেষ হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়। তাদের পরিচয় যাচাই এবং আইনি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাদের বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ জারি করা হয়।

গত ৩ জুলাই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনটি বিশেষ পুলিশ ভ্যানে করে আটক ব্যক্তিদের তিরুচিরাপল্লি রেলস্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীকালে সেখান থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে পাঠানো হয়। নির্ধারিত একটি কোচে তাদের পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশ্যে প্রেরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জানানো হয়েছে, পুলিশি পাহারায় পুরো যাত্রাপথ সম্পন্ন হচ্ছে।

তামিলনাড়ু পুলিশের তথ্যমতে, আটক ৫০ জনের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী রয়েছেন। তাদের সবকিছুর পর পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এরপর বিএসএফ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রচলিত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের পরিচয় যাচাই করবে। যখন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত হয়ে যাবে, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তি শনাক্তকরণ, হোল্ডিং সেন্টারে রাখা এবং পরবর্তীতে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি অনুসরণ করা উচিত। যদিও তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন; রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের সরকার প্রশাসনিকভাবে কেন্দ্রীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আটক ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন, দ্য ইকোনমিক টাইমস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইঞ্জিন সংকটে রেলের শিডিউল বিপর্যয়, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৩ এম


ইঞ্জিন সংকটে রেলের শিডিউল বিপর্যয়, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

রেলওয়ের চাকা ঘুরছে ‘জোড়াতালি’ পদ্ধতিতে। স্বাধীনতার আগে ১৯৬৯ সালে যেখানে রেলের বহরে সচল ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) ছিল ৪৮৬টি, বিগত সাড়ে পাঁচ দশক পরে এখন সেটি কমে গিয়েছে মাত্র ২৬৫টিতে। অর্থাৎ, বর্তমান সংখ্যা অর্ধেকের কাছাকাছি চলে এসেছে। অথচ এই সময়ে ট্রেনের সংখ্যা ও যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ। এর পাশাপাশি সচল ইঞ্জিনের ৬৬ শতাংশের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল বা মেয়াদ পেরিয়ে গেছে বহু আগে। চরম এই ইঞ্জিন সংকটের মাশুল সাধারণ যাত্রীদের দিতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে শিডিউল বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা, যার ফলে ট্রেনের গতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত নতুন ইঞ্জিন কেনা না হলে অচিরেই দেশের সার্বিক রেল ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে।

গত ১৪ জুনের দৃশ্যপটটি বাংলাদেশের রেল খাতের বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থার সত্যিকারের প্রতিফলন। ওই দিন উত্তরবঙ্গের ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’, ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’, ‘একতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রাজশাহী এক্সপ্রেস’ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিলম্বে যাত্রা করেছে। পূর্বাঞ্চলের ‘চট্টলা’ ও ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ও তীব্র শিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে অপেক্ষা করতে গিয়ে হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

কমলাপুর স্টেশনে অপেক্ষা করা এক ক্ষুব্ধ যাত্রী বলেন, ‘তিন ঘণ্টা ধরে বসে আছি, ট্রেনের কোনো খবর নেই। কখন আসবে তা-ও কেউ বলতে পারছে না।’ রংপুর থেকে আসা আরেক যাত্রী জানান, মাত্র কয়েক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকা পৌঁছাতে তার সময় লেগেছে সাড়ে ১৬ ঘণ্টা! প্রতিদিনের এই ভোগান্তি এখন যাত্রীদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানের সময় মূল খলনায়ক হিসেবে উঠে এসেছে ইঞ্জিন সংকট। কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার কবীর উদ্দীন অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘মিটার গেজ ইঞ্জিনের তীব্র সংকটের কারণে ট্রেনগুলোর শিডিউল ধরে রাখা আমাদের জন্য চরম কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’

রেলের কর্মশালাগুলোতে গেলে দেখা যায় একটি করুণ দৃশ্যের অবতারনা। ৫০-৬০ বছরের পুরোনো ইঞ্জিনগুলো মেরামত করে কোনোক্রমে লাইনে ধরে রাখা হচ্ছে। মেকানিকরা জানিয়েছেন, এত পুরোনো ইঞ্জিনের আসল যন্ত্রপাতি (স্পেয়ার পার্টস) বর্তমানে আর বাজারে পাওয়াই যায় না। ফলে একটি নষ্ট ইঞ্জিন থেকে পার্টস খুলে অন্য ইঞ্জিনে লাগিয়ে, অর্থাৎ ‘জোড়াতালি’ দিয়ে ট্রেন সচল রাখা হচ্ছে।

এক ট্রেন চালক (লোকোমাস্টার) আক্ষেপ করে বলেন, ‘৫০-৬০ বছর ধরে একই ইঞ্জিন চালাতে হচ্ছে। কখন যে মাঝপথে বিকল হয়ে যায়, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রেল খাতকে বছরের পর বছর অবহেলা করার মাশুল এখন দিতে হচ্ছে। এর ফলে রেল কেবল বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং এটি পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যোগাযোগ ও রেল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেছেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে তো রেল এরই মধ্যে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়বে এবং যাত্রীসেবা সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে পুরো রেল পরিচালনা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

এখন, এই সংকটের মেঘের মাঝে কিছুটা আশাব্যঞ্জক খবর এসেছে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, দ্রুতই এই সংকট কাটানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপাতত ৩০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) পাইপলাইনে আছে। আগামী ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে এগুলো আমাদের রেল বহরে যুক্ত হবে। এছাড়া নতুন কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা একটি মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হব।’

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে বর্তমানে ৬টি আলাদা প্রকল্পের আওতায় মোট ১৬৬টি নতুন ইঞ্জিন কেনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যদিও সাধারণ যাত্রী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনাগুলো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়িত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%