১১:০০ এম
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে অবস্থান করার অভিযোগে আটক ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনি এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল-হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তামিলনাড়ু পুলিশ যে অভিযানে এসব ব্যক্তিকে আটক করেছে, তারা প্রথমে সালেম জেলার আট্টুর মহকুমা কমপ্লেক্সে অবস্থিত একটি বিশেষ হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়। তাদের পরিচয় যাচাই এবং আইনি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাদের বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ জারি করা হয়।
গত ৩ জুলাই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনটি বিশেষ পুলিশ ভ্যানে করে আটক ব্যক্তিদের তিরুচিরাপল্লি রেলস্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীকালে সেখান থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে পাঠানো হয়। নির্ধারিত একটি কোচে তাদের পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশ্যে প্রেরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জানানো হয়েছে, পুলিশি পাহারায় পুরো যাত্রাপথ সম্পন্ন হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শেনজেন ভিসার আবেদন বন্ধ করেছে সুইডিশ দূতাবাস
তামিলনাড়ু পুলিশের তথ্যমতে, আটক ৫০ জনের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী রয়েছেন। তাদের সবকিছুর পর পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এরপর বিএসএফ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রচলিত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের পরিচয় যাচাই করবে। যখন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত হয়ে যাবে, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তি শনাক্তকরণ, হোল্ডিং সেন্টারে রাখা এবং পরবর্তীতে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি অনুসরণ করা উচিত। যদিও তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন; রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের সরকার প্রশাসনিকভাবে কেন্দ্রীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আটক ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্য-ডানপন্থীদের প্রাইমারিতে অংশ নেবেন না এদুয়ার ফিলিপ
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন, দ্য ইকোনমিক টাইমস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন