ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন


‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

 

মু্হূর্তটি প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর থেকে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রস্তাবিত ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ (সিএমবিসি) নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই করিডোর চীন, মিয়ানমান ও বাংলাদেশের মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, বাংলাদেশকে এর অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে এর চূড়ান্ত সম্মতি দেওয়ার আগে।

গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’-এর প্রস্তাবটি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ওই সফরের সময় ঢাকা ও নিজেদের তৃতীয় যৌথ ইশতেহার জারি করে বেইজিং। আলোচনা থেকেই উঠে আসে মূল বিষয়টি, এই অর্থনৈতিক করিডোর। প্রকল্পটির মূল পরিকল্পনা হলো— সড়ক ও রেলযোগাযোগের মাধ্যমে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের সঙ্গে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর সংযোগ স্থাপন।

আরও পড়ুন: সৈয়দপুরে পৌঁছেছেন দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

চীনের জন্য এই করিডোর অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। কারণ এর মাধ্যমে মালাক্কা প্রণালীর ওপর কৌশলগতভাবে নির্ভরশীলতা কমাতে এবং সরাসরি ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর একটি সংক্ষিপ্ত পথ দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশও এই করিডোরের মাধ্যমে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বর্ধিত বিনিয়োগ, বাণিজ্যের প্রসার এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।

কিন্তু এই উদ্যোগটি একেবারেই নতুন নয়। ১৯৯৯ সালে প্রস্তাবিত 'বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার' (বিসিআইএম) করিডোরের পরিবর্তিত রূপ এটি। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) এবং অঞ্চলে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত এই প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। ফলে ভারতকে ছাড়াই এখন মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে নিয়ে এই করিডোর এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে চীন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই করিডোরের প্রস্তাব বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ এনেছে। আবার একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশকে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে চলার কঠিন সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

চীন এই প্রকল্প এগিয়ে নিতে বেশ তৎপর। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, চীনা কর্মকর্তারা এই করিডোরের একটি কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) তৈরি করছেন। সেইসঙ্গে, মিয়ানমারে নিজেদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দেশটির বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বেইজিং।

আরও পড়ুন: সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে

বাণিজ্য ঘাটতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা বলতে গিয়ে দেখা যায়, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেশ জোরালো হলেও দুই দেশের বাণিজ্য চিত্র মারাত্মকভাবে ভারসাম্যহীন। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে প্রায় ২২.৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। অপরদিকে, চীনে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ মাত্র ১.২ বিলিয়ন ডলার। ফলে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২১.৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পারবে না। বাংলাদেশ যদি নিজস্ব শিল্প সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি পণ্য বাড়াতে না পারে, তাহলে এই করিডোর ব্যবহার করে বাংলাদেশ উল্টো আরও বেশি চীনা পণ্যের বাজারে পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যোগাযোগ অবকাঠামো অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি অংশ মাত্র। বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর মতো বড় বড় প্রকল্পের মাধ্যমে অবকাঠামো খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি করেছে। তবে পণ্য পরিবহন, লজিস্টিকস সাপোর্ট, গুদামজাতকরণ, কাস্টমস প্রক্রিয়া এবং বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থার (মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট) মতো খাতগুলোয় এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে। এই অভ্যন্তরীণ প্রতিবন্ধকতাগুলো অবিলম্বে দূর করা না গেলে, বাংলাদেশ আঞ্চলিক উৎপাদন বা বাণিজ্য কেন্দ্র হওয়ার বদলে কেবল একটি ‘ট্রানজিট রুট’ বা পারাপারের পথ হিসাবেই রয়ে যাবে।

আর্থিক সংশ্লেষের বিষয়টিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখার প্রয়োজন। বড় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য বিপুল বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়া জরুরী। অর্থনীতিবিদদের মতে, যেকোনো বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বন্দর আধুনিকীকরণ, রফতানি অবকাঠামো, জলবায়ু সহনশীলতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শিল্প উন্নয়নের মতো জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোকে আগে বিবেচনার মধ্যে আনা উচিত।

আরও পড়ুন: স্পেনে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু

প্রস্তাবিত এই করিডোর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এই করিডোরের প্রস্তাবিত রুটটি মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যের ওপর দিয়ে যাবে। সেখানে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে। বর্তমানে করিডোরের প্রস্তাবিত অঞ্চলের একটি বড় অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে বা প্রভাবে রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি কোনো অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য একটি বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

অতিরিক্তভাবে, রোহিঙ্গা সংকটও যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক যোগাযোগের যেকোনো উদ্যোগে যেন রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াটি যেকোনোভাবে বাধাগ্রস্ত বা উপেক্ষিত না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের ভেতর দিয়ে অবকাঠামো তৈরি হলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্য আয়ের নতুন উৎস তৈরি হতে পারে, যা তাদের পরোক্ষভাবে আরও শক্তিশালী করবে। তাই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটি ব্যাপকভিত্তিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন আবশ্যক।

ভূরাজনীতির সমীকরণের দিক থেকে, এই করিডোরের সঙ্গে জটিল ভূরাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে। কারণ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সংবেদনশীল সীমান্ত এবং কৌশলগত ‘শিলিগুড়ি করিডোর’-এর কাছাকাছি চীনের এই উপস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লি উদ্বিগ্ন। এর সঙ্গে, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি ঢাকাকে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।

আরও পড়ুন: মঙ্গলবার জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত

বিশ্লেষকদের পরামর্শ হলো, বাংলাদেশের উচিত কোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ না হয়ে কেবল নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তির ওপর এই প্রস্তাবের লাভ-ক্ষতির বিচার করা। লাওস-চীন রেলওয়ে, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপেক) অথবা শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের মতো প্রকল্পগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। এসব উদাহরণ দেখায় যে, কেবল অবকাঠামো তৈরি করলেই অর্থনৈতিক সাফল্য আসে না। অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য স্বচ্ছ অর্থায়ন, নিখুঁত সম্ভাব্যতা যাচাই, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি থাকা সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভালো পথ কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশের উচিত একবারে বড় ঝুঁকিতে না গিয়ে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া। আপাতত ছোট ও বাস্তবসম্মত যোগাযোগ প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে চীনের প্রস্তাবিত এই করিডোরটিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে রাখতে হবে। একই সঙ্গে কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না করে, বাংলাদেশে রফতানিমুখী চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া, ঋণ স্থায়িত্ব (ডেট সাসটেইনেবিলিটি), পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমের মান এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব একটি সুস্পষ্ট জাতীয় নীতিমালা থাকা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো যোগাযোগ প্রকল্প দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।

সব মিলিয়ে, এই করিডোর আঞ্চলিক যোগাযোগে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সম্ভাবনা বেড়ে গেলে যে বিষয়টির ওপর মূলত হয়তো নির্ভর করবে, তা হলো বাংলাদেশ নিজের অর্থনীতিকে কতটা শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক এবং স্থিতিস্থাপক করে গড়ে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন: গ্রাহকের বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম, ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বিল নামলো ১১৮২ টাকায়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ভারতের কর্ণাটক

যাত্রীবেশে বাসে মন্ত্রী, ভাঙতি না থাকায় নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


যাত্রীবেশে বাসে মন্ত্রী, ভাঙতি না থাকায় নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর

ভারতের কর্ণাটকের পরিবহন মন্ত্রী বাইরাথি সুরেশ ছদ্মবেশে গণপরিবহন পরিদর্শনে গিয়ে যাত্রীদের নিত্যদিনের ভোগান্তির বাস্তব চিত্রের মুখোমুখি হয়েছেন।

১০০ রুপির নোটের ভাঙতি না থাকায় এক বাস কন্ডাক্টর তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেন।

রোববার (১২ জুলাই) টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বেঙ্গালুরুর বাসসেবা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মুখে মাস্ক পরে সাধারণ যাত্রীর বেশে হেব্বাল থেকে নাগাশেট্টিহাল্লিগামী একটি বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিএমটিসি) বাসে ওঠেন সুরেশ। তিনি কন্ডাক্টরকে একটি ১০০ রুপির নোট দিয়ে দুটি টিকিট চান।

কন্ডাক্টর তার কাছে ভাঙতি চাইলে মন্ত্রী জানান, তার কাছে খুচরা রুপি নেই। তখন কন্ডাক্টর নিজের রুপি ব্যাগ দেখিয়ে বলেন, তার কাছে যথেষ্ট ভাঙতি নেই। এরপর ভাঙতি দিতে না পারলে মন্ত্রীকে বাস থেকে নেমে যেতে বলেন ওই কন্ডাক্টর। মুখে মাস্ক থাকায় কন্ডাক্টর বুঝতে পারেননি যে যাত্রীটি রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী। কোনো উত্তর না দিয়েই মন্ত্রী বাস থেকে নেমে যান।

সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত তিনি জয়মহল, টিভি টাওয়ার, আরটি নগর, সিবিআই রোড, হেব্বাল, মান্যতা টেক পার্ক, নাগাওয়ারা, হেন্নুর, হেন্নুর বান্দে, বায়রাথি বান্দে ও গেদ্দালাহাল্লি রুটে গণপরিবহন সেবা পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় রাজ্যটির পরিবহন মন্ত্রী অল্প দূরত্বের জন্য একটি অটোরিকশাতেও ভ্রমণ করেন। নাগাশেট্টিহাল্লি এলাকায় যাত্রা শেষে মিটারে ভাড়া ৩০ রুপি দেখালেও চালক তার কাছে ৩৬ রুপি দাবি করেন। কারণ জানতে চাইলে চালক বলেন, মিটারটি পুনরায় ক্যালিব্রেট করা হবে। শেষ পর্যন্ত পরিবহনমন্ত্রী চালককে ৪০ রুপি পরিশোধ করে অটোরিকশা থেকে নেমে যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসডিজি ও আইসিপিডির অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


এসডিজি ও আইসিপিডির অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং আন্তর্জাতিক জনসংখ্যা ও উন্নয়ন সম্মেলনের (আইসিপিডি) অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রয়োজন আরও কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত ভূমিকা পালন করা। এ লক্ষ্যে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় কাজে লাগিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত ‘পার্লামেন্টস রোল ইন রিয়ালাইজিং এসডিজি’স এন্ড আইসিপিডি (SDGs and ICPD) কমিটমেন্টস’ শীর্ষক অবহিতকরণ কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, তিনি আজকের কর্মশালায় কেবল ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নয়, একজন সংসদ সদস্য হিসেবেও অংশগ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, কর্মশালাকে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর আলোচনার বিষয়গুলো বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার দিকে মনোযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ নিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অবিলম্বে তুলে ধরেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টি, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্পৃক্তকরণ এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

ডেপুটি স্পিকার মন্তব্য করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় ও হাওর অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও জীবিকার ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা মোকাবিলায় স্থানীয় বাস্তবতা ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। অতিবৃষ্টি, বন্যা, জলাবদ্ধতা, নদী ও হাওরে পলি জমাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পকে অবহিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্কুলভিত্তিক গণসচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করা সম্ভব। সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এসব উদ্যোগকে আরও কার্যকর করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কর্মশালার সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসডিজি ও আইসিপিডির অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণ এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

এ কর্মশালায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রধান অতিথি, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি বিশেষ অতিথি এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।

এসময় হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ইউএনএফপিএ-এর প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন মাস না পেরোতেই ধসে গেল নতুন সংযোগ সড়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


তিন মাস না পেরোতেই ধসে গেল নতুন সংযোগ সড়ক

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের সুরিয়া নদীর ওপর নির্মাণের তিন মাসের মধ্যে একটি গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে। রবিবার এই ছবি তোলা হয়েছে। ২৫ লক্ষাধিক টাকার নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে গত দুই দিন ধরে (গতকাল শনিবার এবং আজ রবিবার) সড়কটি ধসে পড়েছে। গত মার্চ মাসে অচিন্তপুর ইউনিয়নে সুরিয়া নদীর ওপর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়মের জন্যই সংযোগ সড়কটি ধসে পড়েছে। ৯৭ লাখ ৩৮ হাজার ৫৩০ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। রবিবার (১২ জুলাই) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সংযোগ সড়কের একটি বড় অংশ ধসে সুরিয়া নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে নবনির্মিত সেতুর মাধ্যমে যানবাহন চলাচল হয়ে পড়েছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময়েই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তারা জানান, মাটির বদলে বালু ব্যবহারের কারণে বৃষ্টিতে সড়কটি ধসে যেতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষ কোন গুরুত্ব দেয়নি। অবশেষে চলমান টানা বৃষ্টিতে সেই আশঙ্কা সত্য হলো। এদিকে, সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী সহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। তবে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক, অটোরিকশা কিংবা কৃষিপণ্যবাহী যানবাহন একেবারে চলাচল করছে না। ফলে, কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতেও অক্ষম হচ্ছেন। সংযোগ সড়কটি দ্রুত টেকসই সংস্কারের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। এ সম্পর্কে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন জানান, ‘এই মুহূর্তে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হবে।’ গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা জানান, ‘ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য পিআইওকে পাঠানো হচ্ছে। পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ মাউশির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


সরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ মাউশির

দেশের সকল সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর) কর্তৃক একটি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যাতে তারা নিজেদের কর্মস্থলে নিয়মিত যথাসময়ে উপস্থিত থাকেন।

মাউশির কলেজ শাখার একটি নোটিশে এ নির্দেশনার বিস্তারিত বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সকল সরকারি কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে নিয়মিত যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে হবে।

এই নির্দেশনার অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরসহ মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে প্রদান করা হয়েছে এবং তাদেরকে তাদের আওতাধীন সকল সরকারি কলেজে এই নির্দেশনার প্রতিপালন নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%