রামগতি-কমলনগর লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
০৬:৪০ পি.এম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা জাহেরা খাতুনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় সুত্রে জানানো হয়, কমলনগরে মোট আনসার সদস্যের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে সরকারের ভাতাভুক্ত আনসার সদস্যের সংখ্যা ৩৮ জন। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রিত একটি সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে। ওই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ভিডিপি সদস্যরা। আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা জাহেরা খাতুন এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই তিনি অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিতে উৎকোচ গ্রহণ করা, ভুয়া নামের তালিকা তৈরি করে ভাতা আত্মসাৎ করা, নির্বাচনের সময়ে কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনের জন্য আনসার নিয়োগে অবৈধ সুবিধা নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের কমলনগর উপজেলার ৫৫ টি ভোট কেন্দ্রে ১৩ জন করে মোট ৭১৫ জন সদস্য নিয়োগ দিতে দলনেতা ও ইউনিয়ন আনসার কমান্ডারদের মাধ্যমে জনপ্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা নিয়ে থাকেন কর্মকর্তা। তামান্না আক্তার নামের এক আনসার সদস্য বলেন, নির্বাচনের ডিউটি দিতে তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ টাকা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার জন্য এবং ৫০০ টাকা কাগজপত্র ঠিক করার জন্য।
নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ২ দিনের জন্য ৭১৫ জন সদস্যের প্রতিদিন খাবারের জন্য ২৫০ টাকা করে ২ দিনে ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কর্মকর্তা সর্বোচ্চ দিনে তিন বেলায় ১৫০ টাকা করে দুই দিনে ৩০০ টাকার নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করেন। এর মধ্যে কিছু কিছু কেন্দ্রে সদস্যগণ দুই দিনের মধ্যে কোন খাবার পায়নি বলে অভিযোগ করেন।
নির্বাচনকালীন ৬ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আরিফ হোসেন রিপন, শামিম হোসেন সুজন, এমরান হোসেন, জিহাদ হোসেন, মেহরাজ হোসেন ও সালাহ উদ্দীন নামে ৬ জন আনসার সদস্য জনপ্রতি ৪৫ হাজার টাকা বেতনে উপজেলা নির্বাচন অফিস পাহারা দেওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মাত্র ২ জন সদস্য দিয়ে নির্বাচন অফিসের নিরাপত্তার ডিউটি করান। এতে ৬ জন সদস্যের মোট বেতনভাতা ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার স্থলে ২ জনকে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে বাকী ৪ জনের ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়। এছাড়া নির্বাচন কমিশন থেকে জনপ্রতি ২৮ কেজি চাল, আটা, ৮ কেজি ডাল, ৫ কেজি চিনি ও তেল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা আত্মসাৎ করা হয়। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হাসেমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রথম কয়েকদিন মোটামুটি ডিউটি করলেও পরে আর তাদেরকে দেখিনি।
এব্যাপারে আনসার সদস্য শামিম হোসেন সুজন বলেন, আমি ও এমরান দিনে ৮ ঘন্টা করে দুই মাস একা একা ডিউটি করেছি। আমাদের সাথে আর কেউ ছিল না।
সালাহ উদ্দিন নামের আরেক আনসার সদস্যের কাছে জানতে চাইলে তিনি সঠিক উত্তর দিতে না পেরে ফোন কেটে দেন।
তবে আরিফ হোসেন রিপন নামে একটি আনসার সদস্য বলেন, ঘটনা সঠিক। কাজ করলে একটু ভুলভ্রান্তি হবেই। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে এ প্রতিবেদককে নানা সুবিধার প্রলোভন দেখান।
এদিকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতার দিবসের দিন প্যারেডের জন্য মনিহারি ভাতাসহ জনপ্রতি ৯০০ টাকা সম্মানীতে ৩২ জন আনসার সদস্য দিয়ে বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডের কুচকাওয়াজ করার কথা থাকলে জাহেরা খাতুন ১০ থেকে ১২ জন আনসার সদস্য দিয়ে প্যারেড করান। বাকী আনসার সদস্যদের নাম দিয়ে মাস্টাররোল তৈরী করে ৩২ জনের নামে বিল তোলা হয়। এতে প্রত্যেক দিবসে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা করে মোট ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন করে দুটি দিবসের দায়িত্বপালনকারীদের মধ্যে ১৫ হাজার টাকা বিতরণ করেন। বাকী ৪২ হাজার ৬০০ টাকা শেখ ফরিদকে নিয়ে আত্মসাৎ করেন এই কর্মকর্তা। বিষয়টি জাহেরা খাতুন নিজেই স্বীকার করেছেন এই প্রতিবেদকের কাছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই জন আনসার সদস্য বলেন, এ কর্মকর্তার কাছে উপজেলার আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা একধরনের জিম্মি হয়ে পড়েছে। অনেকেই তার ভয়ে মুখ খোলার সাহসও পাচ্ছেন না।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা জাহেরা খাতুন বলেন, একটি মহল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। উত্থাপিত সব অভিযোগ সঠিক নয়। কিছু নিয়ম-অনিয়ম মেনেই অফিস চালাতে হয়। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে বিশেষ অনুরোধ করেন তিনি।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা কমান্ড্যান্ট অফিসার মোঃ রেজাউল হোসেন বলেন, তিনি এ জেলায় নতুন এসেছেন। বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগগুলো মাত্র শুনেছেন। তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ভূমিসেবায় সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা নির্দেশিকা’ জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
এই নির্দেশিকার লক্ষ্য হল ডিজিটাল ভূমিসেবায় তথ্যের গোপনীয়তা, অখণ্ডতা এবং নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা। নির্দেশিকার মধ্যে তথ্য ব্যবস্থাপনা, সাইবার হামলা প্রতিরোধ, তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ বাধ্যতামূলক নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জারি করা নির্দেশিকা ভূমি মন্ত্রণালয়, এর অধীনস্থ সব দপ্তর-সংস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট ভেন্ডর ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।
বিভিন্ন আইন ও বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্দেশিকাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ এবং ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬’-এর সঙ্গে এটি সমন্বিত।
নির্দেশিকা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশিকা অনুসারে, ডিজিটাল ভূমিসেবায় সংরক্ষিত তথ্যের গোপনীয়তা (Confidentiality), অখণ্ডতা (Integrity) এবং প্রয়োজনের সময় তথ্যের প্রাপ্যতা (Availability) নিশ্চিত করাই উদ্দেশ্য। সাইবার হামলা, তথ্য চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং তথ্য বিকৃতির ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়েও এখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিবের নেতৃত্বে ‘ইনফরমেশন সিকিউরিটি গভর্ন্যান্স কমিটি’ গঠন করা হবে।
তথ্যের নিরাপত্তা কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য একজন চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার (সিসো) নিয়োগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, তথ্যের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে তথ্যকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। এগুলো হলো, সাধারণ, অভ্যন্তরীণ ব্যবহার, গোপনীয় এবং অতি সংরক্ষিত।
জাতীয় ভূমি ডাটাবেজ, প্রশাসনিক প্রবেশাধিকার (অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ক্রেডেনশিয়াল) এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে ‘অতি সংরক্ষিত’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এসব তথ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তথ্যে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে ‘লিস্ট প্রিভিলেজ’ (Least Privilege) নীতি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারী তার দায়িত্ব পালনের জন্য যতটুকু তথ্য প্রয়োজন, কেবল ততটুকুতেই প্রবেশাধিকার পাবেন।
এতে অপ্রয়োজনীয় তথ্যপ্রাপ্তি এবং তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
ব্যবহারকারী শনাক্তকরণ ও অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সব অ্যাকাউন্টে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অর্থাৎ পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ওটিপি বা অন্য অতিরিক্ত পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে অন্তত ১২ অক্ষরের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য সংরক্ষণে অঊঝ-২৫৬ এনক্রিপশন এবং তথ্য আদান-প্রদানে ঞখঝ ১.২ বা তার উচ্চতর নিরাপত্তা প্রোটোকল ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।
নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ারওয়াল, ইনট্রুশন ডিটেকশন অ্যান্ড প্রিভেনশন সিস্টেম (আইডিএস/আইপিএস) এবং নিয়মিত ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড পেনিট্রেশন টেস্টিং (ভিএপিটি) পরিচালনার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সিকিউরিটি ইনফরমেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট (সিম) প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নজরদারি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল ভূমিসেবার কার্যক্রম চালু রাখা এবং নিরাপত্তা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য বিজনেস কন্টিনিউিটি অ্যান্ড ডিজাস্টার রিকভারি (বিসিডিআর) পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নিয়মিত ব্যাকআপ সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার সক্ষমতা যাচাই এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প সেবা চালুর প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং এবং ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এসব প্রযুক্তি চালুর আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ডিজিটাল ভূমিসেবায় নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নির্দেশিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভূমি প্রশাসনে সুশাসন, তথ্যের নিরাপদ ব্যবহার এবং নাগরিক আস্থা বৃদ্ধিতেও এটি কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর শহরে খাদ্যপণ্যে বিষাক্ত রং ও কেওড়া জল ব্যবহারের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে দুটি বিরিয়ানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে।
বুধবার, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের পশ্চিম খাবাসপুর মেডিকেল বাজারের বটতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার পাল এবং সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ প্রতিম।
অভিযান চলাকালে দুইটি পাশাপাশি অবস্থিত হাজি বিরিয়ানি প্রতিষ্ঠানে খাদ্যপণ্যে বিষাক্ত রং ও কেওড়া জল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে নিরাপদ খাদ্য-সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। জরিমানার অর্থ পরে তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউশন অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. বজলুর রশীদ খান।
জেলা প্রশাসন জানায়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও ভেজালবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসার কারণে সংঘর্ষের সময় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আবু হানিফ ওরফে অপুকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এই গ্রেফতারের সময় কুমিল্লা শহরে সংঘর্ষের জন্য ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ছয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুন রাত থেকে কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় 'অপু গ্রুপ' ও 'সাব্বির গ্রুপ'-এর মাঝে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর ফলস্বরূপ ২৫ জুন দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময় সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি নাটকীয়ভাবে দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি করলে পুলিশ সুপারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও থানা পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান শুরু করে।
এর আগে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার মূলহোতা আবু হানিফ ওরফে অপু আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেফতার করতে কিছুটা সময় লাগে।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লক্ষীপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে বুধবার ভোরে প্রায় ৩টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা নগরীর জগন্নাথপুর এলাকা থেকে সংঘর্ষে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুটো ম্যাগাজিন এবং ছয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল আলম জানান, আবু হানিফ ওরফে অপুর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক সহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৫টি মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথক অস্ত্র মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ইথান গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনার মাত্র ৩ দিনের মাথায় খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ হিসেবে শুধুমাত্র ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হলেও ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভেতরে-বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, ডিবি হেফাজতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলমান থাকায় এই বদলিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উত্থিত হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে ২৯ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে ফরিদপুর জেলা পুলিশে কর্মরত বিভাগীয় পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে প্রশাসনিক কারণে খুলনা রেঞ্জে বদলির আদেশ দেয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ছাড়পত্র গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় ৯ জুলাই থেকে তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে।
জানা গেছে, রাকিবুল ইসলাম ১৫ জুন ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙামাটি থেকে ফরিদপুর জেলা পুলিশে যোগদান করেন। এরপর ২৫ জুন ডিবির তৎকালীন ওসি আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তী দিন ২৬ জুন তাকে ডিবির ওসি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া যায়। তবে, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৩ দিনের মাথায় তাকে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে।
এই আকস্মিক বদলির পেছনে আদৌ প্রশাসনিক কারণ রয়েছে, নাকি চলমান তদন্তের প্রভাব রয়েছে, এই বিষয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। প্রসঙ্গত, ২৩ জুন ফরিদপুরের মধুখালী থানার একটি ঘটনায় ইসতিয়াক আহমদ প্রান্ত নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তী দিন ২৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর পর ২৫ জুন, তৎকালীন ডিবি ওসি আলমগীর হোসেনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়, পরে রাকিবুল ইসলামকে ডিবির ওসি করা হয়।
বর্তমানে তদন্তটি পরিচালনা করছে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ তদন্ত দল। পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, যখন তদন্তকারী দল ফরিদপুরে আসে, তখন রাকিবুল ইসলাম সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং এই বিষয়টি সম্ভবত যথাযথভাবে বিবেচনায় আসেনি। ফলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মূল্যায়নে কোন ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বদলির বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, ফরিদপুরে যোগদানের পর থেকে বদলির আগ পর্যন্ত তিনি মাত্র কয়েকটি কর্মদিবস দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে তিনি কোনো অভিযান পরিচালনা করেননি এবং কোনো অবৈধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত ছিল না। তাই প্রশাসনিক কারণে তার বদলি হওয়া নিয়ে বিষয়টি তিনি নিজেই বুঝতে পারছেন না। তিনি আরও জানান, গত দুই বছরে তাকে ৫ বার বদলি করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জ থেকে বরিশাল রেঞ্জ, পরে আবার ঢাকা রেঞ্জ, এরপর ট্যুরিস্ট পুলিশ, পুনরায় ঢাকা রেঞ্জ এবং সর্বশেষ খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। বারবার বদলির ফলে তিনি ও তার পরিবার চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের। বদলির কারণ সম্পর্কে তারা ভালো বলতে পারবেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ