০২:০৩ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ জেলার দিরাইয়ে বিএনপির দুটি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে পৌর এলাকায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
গত বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, উপজেলা বিএনপির আয়োজনে থানা পয়েন্টে একটি দলীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী এবং তার কর্মী-সমর্থকরা। প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য দেন।
এরপর শনিবার, পাল্টা সমাবেশের ডাক দেন দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক এবং দিরাই পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। শনিবার সকালে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মিছিল শুরু হলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জনসাধারণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা স্থায়ী রাখতে শনিবার, ৮ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সনজীব সরকারের সই করা আদেশ অনুযায়ী, দিরাই পৌর এলাকার বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার, থানা পয়েন্ট, দিরাই বাজার, দিরাই কলেজ রোড এবং দিরাইয়ের অন্যান্য এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে।
আদেশে আরও বলা হয় যে, উল্লিখিত সময়ে এই স্থানগুলোতে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এইসাথে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান কিংবা চলাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এক পক্ষ সমাবেশ শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাত্র পাঁচ মাসে একটি সরকার ব্যর্থ হতে পারে না। ব্যর্থ হওয়ার জন্যও সময় লাগে, এই মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (৮ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইনগত ও রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে দেশের মানুষের অর্জন ভুলে গিয়েছিল এবং মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নিজেদের মনে করে চলেছিল।
এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সময়কালকে রাজনৈতিকভাবে ‘ক্রান্তিকাল’ বলা যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন হলো দীর্ঘ ১৭ বছরের টানা আন্দোলনের ফসল। কেউ যদি মনে করে যে শুধুমাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফলেই এই পরিবর্তন এসেছে, তবে তা তাদের রাজনৈতিক অপরিপক্বতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে আর চেতনা বিক্রির রাজনীতি চলবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দলটির ভাগ্য আদালতে নির্ধারিত হবে। এটি নিষিদ্ধ হবে কি না, তা-ও আদালতই ঠিক করবেন। বর্তমানে এ সংক্রান্ত নানা আইনগত বিচার-বিশ্লেষণ চলছে এবং খুব শিগগিরই এর সমাধান আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভবিষ্যতে যাতে আর ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন বা পুনর্বাসন না ঘটে, সে ধরনের চর্চা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের চা-শিল্পে নতুন একটি মাইলফলক স্থাপন করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)। সম্প্রতি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চা-নিলামে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত চা ইতিহাসের সর্বোচ্চ গড় দামে বিক্রি হয়েছে।
এছাড়া চলতি মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় আয় ও উৎপাদন—দুটি ক্ষেত্রেই নতুন সাফল্যের মুখ দেখছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক চা-নিলামে এনটিসির অধীনস্থ ১২টি চা-বাগানের মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। নিলামে প্রতি কেজি চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ২৮০ টাকা ৫৯ পয়সা, যা এনটিসির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। সরকার নির্ধারিত ২৪৫ টাকার ভিত্তিমূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্য বেশি দামে চা বিক্রি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা।
নিলামে অংশ নেওয়া বাগানগুলোর মধ্যে রয়েছে—হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া, চুনারুঘাটের চণ্ডীছড়া, পারকুল এবং মৌলভীবাজারের ও সিলেট জেলার পাত্রখোলা, কুর্মা, চম্পারাই, মদনমোহনপুর, লাক্কাতুরা, মাধবপুর প্রেমনগর ও বিজয়া চা-বাগান। এসব বাগানে উৎপাদিত উন্নতমানের অর্থোডক্স ও সিটিসি চায়ের বেশ কয়েকটি লট নিলামে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।
তাছাড়া, হালুয়াঘাটে সড়কের নিচের অংশ ভেঙে ২ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন জানিয়েছেন, চায়ের গুণগত মান বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাগান পর্যায়ে নিবিড় তদারকি ও ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ চয়ন নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করায় কাঁচা পাতার গুণগত মান বহুগুণ বেড়েছে।
ফলে উৎপাদিত চায়ের রং, ঘ্রাণ ও স্বাদে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা নিলামের বাজারে প্রতি কেজির দর বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রেখেছে।
এনটিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের চা-উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও আমরা সার্বিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। একই সাথে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারখানায় মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলেই উৎপাদন ও বিক্রয়—উভয় ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি ও সার্বিক উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের চা শিল্প এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। এমন অবস্থায় রাষ্ট্রায়ত্ত এনটিসির এই ঘুরে দাঁড়ানোর খবর পুরো চা খাতের জন্যই আশাব্যাঞ্জক বার্তা বহন করছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান বলেছেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বাগান শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ আমাদের বাগানগুলো ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নের যে বিশেষ কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি, তার সুফল এখন দৃশ্যমান। চলতি আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মৌসুমের বাকি সময়গুলোতে আরো ভালো উৎপাদন ও ভালো বিক্রয়ের প্রত্যাশা করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য এনটিসি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের চারা রোপণ, কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এনটিসিকে আন্তর্জাতিকভাবে আরো লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে যাতে মানুষের বসতবাড়ি ডুবে না যায়, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বাঁশখালীবাসীদের বন্যা মোকাবিলা করতে না হয়, সেজন্য বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তিনি ঢাকার বলেন, এ অঞ্চলের খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব বিলোপের পথে রয়েছে। ফলে, স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেই খালের দুই কূল ছাপিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়।
এ জন্য খালগুলো খনন ও পুনঃখনন করে পানিপ্রবাহের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে দ্রুত পানি নেমে যেতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের বসতবাড়ি পাহাড়ি ঢলের পানিতে যাতে ডুবে না যায়, সেজন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর আগামী রবিবার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম আসছেন। তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণ, ত্রাণ বিতরণসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পরে মন্ত্রী উপজেলার বাহারছড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ