আরমান খাঁন ছামির, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
১১:২৭ পি.এম
ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার ফরম ফিলাপ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিভিন্ন খাতে ফি বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম ফিলাপ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। তবে ফি কাঠামো নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর যৌক্তিকতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি সেমিস্টারে বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হলেও বাস্তবে এসব ফি-এর বিপরীতে কী ধরনের সেবা বা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা স্বচ্ছ হিসাব শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয় না। অনেক কার্যক্রমই বাস্তবে সীমিত বা দৃশ্যমান নয় বলে তারা দাবি করছেন।
অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার (ক্লাস টেস্ট ও কুইজ টেস্ট) জন্য নির্ধারিত ফি, রোভার স্কাউট, অভিভাবক দিবস, নিরাপত্তা, আইসিটিসি, মসজিদ উন্নয়ন, ধর্মীয় তহবিল, সাইকেল গ্যারেজ, বিবিধ, ম্যাগাজিন এবং বিএনসিসি ফি এসব খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব খাতের অনেক কার্যক্রম বাস্তবে যথাযথভাবে দৃশ্যমান নয়। উদাহরণ হিসেবে ক্লাস টেস্টের ক্ষেত্রে আলাদা প্রশ্নপত্র না থাকা, শিক্ষার্থীদের নিজস্ব খাতা ব্যবহার এবং কিছু ক্ষেত্রে সীমিত অবকাঠামোগত সুবিধার কথাও তারা তুলে ধরেন।
এছাড়া রোভার স্কাউট ও বিএনসিসি ফি সকল শিক্ষার্থীর ওপর আরোপ করা হলেও সবাই এসব কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে মসজিদ উন্নয়ন, ধর্মীয় তহবিল ও সাইকেল গ্যারেজ ফি নিয়েও শিক্ষার্থীরা এর ব্যবহার ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শিক্ষার্থীদের মতে, প্রতি সেমিস্টারে প্রায় ১ কোটি টাকার মতো অর্থ বিভিন্ন খাতে আদায় করা হলেও এর নিরীক্ষিত ও বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হয় না। ফলে অর্থের ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতি খাতে আদায়কৃত অর্থের পূর্ণাঙ্গ ও নিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশ, অপ্রয়োজনীয় ও বিতর্কিত ফি পুনর্বিবেচনা, এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিশ্রুত সেবা ও সুবিধা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও কার্যকর পদক্ষেপ চান। তাদের দাবি, কোন খাতে কত টাকা আদায় করা হচ্ছে এবং তা কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে এর পূর্ণাঙ্গ ও নিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশ করা হোক।
এ বিষয়ে ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ী জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আফরোজা পারভীন বালিয়াকান্দি উপজেলা ভূমি অফিস ও ইসলামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বালিয়াকান্দি উপজেলার উপজেলা ভূমি অফিসে তিনি পরিদর্শন করেন, যেখানে তিনি রেকর্ড রুমের নবনির্মিত সম্প্রসারিত অংশের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
তিনি ভূমি অফিসের সার্বিক দাপ্তরিক কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও রেজিস্টার সংরক্ষণ পদ্ধতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এই সময়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক ভূমি সেবার মানোন্নয়ন ও সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত এবং সহজে সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পরবর্তীতে তিনি ইসলামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করে জনসাধারণের জন্য ভূমি সেবা আরও সহজ ও গতিশীল করার আহ্বান জানান।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ইসলামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করার পর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর সাবরি লামুশি কোচের দায়িত্ব হারিয়েছেন। দেশটির নতুন প্রধান কোচ হিসেবে হার্ভে রেনার্ডেকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে কোচ পরিবর্তনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বিভিন্ন দলের খারাপ পারফরম্যান্সের দরুণ এর আগেও কোচ পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৫৪ সাল থেকে শুরু করে বিশ্বমঞ্চে কোচদের এমন নাটকীয় বিদায়ের ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:
অ্যান্ডি বিটি (স্কটল্যান্ড, ১৯৫৪): ১৯৫৪ সালে নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল স্কটল্যান্ড। সেবার স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কোচ অ্যান্ডি বিটিকে মাত্র ১৩ জনের একটি ছোট স্কোয়ার্ড নিয়ে সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি দেয়। সীমাবদ্ধতার মাঝেও প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রিয়ার কাছে তারা মাত্র ১-০ গোলে হেরেছিল। তবে আসল বিপর্যয় ঘটে পরের ম্যাচে। সুইজারল্যান্ডের তীব্র গরমের মধ্যে উলের তৈরি ভারী জার্সি পরে উরুগুয়ের মুখোমুখি হয় স্কটিশরা। প্রতিকূল আবহাওয়া আর জার্সির অস্বস্তিতে তারা উরুগুয়ের কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এই ঐতিহাসিক ও লজ্জাজনক হারের পরেই কোচের পদ থেকে ইস্তফা দেন অ্যান্ডি বিটি।
কার্লোস আলবার্তো (সৌদি আরব, ১৯৯৮): ১৯৯৪ বিশ্বকাপে দারুণ চমক দেখানো সৌদি আরব ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে বড় আশা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তবে প্রথম ম্যাচেই ডেনমার্কের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় তারা। পরের ম্যাচে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই সৌদি ফুটবল প্রশাসন কোচ কার্লোস আলবার্তোকে বরখাস্ত করে।
চা বুম-কুন (দক্ষিণ কোরিয়া, ১৯৯৮): ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে মেক্সিকো ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে ৮টি গোল হজম করে টুর্নামেন্ট থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ছিটকে যায়। এই ভরাডুবির জেরে তাৎক্ষণিকভাবে কোচ চা বুম-কুনকে বরখাস্ত করা হয়।
হেনরিক ক্যাসপারজাক (তিউনিসিয়া, ১৯৯৮): ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দায়িত্ব হারিয়েছিল তিউনিসিয়ার কোচ। সেবার ২০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা তিউনিসিয়া প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আসর থেকে বিদায় নেয়। ইংল্যান্ডের কাছে ২-০ গোলে হারার সেই ম্যাচটি মাঠের বাইরের সহিংসতার জন্য বেশি আলোচিত ছিল। আর দ্বিতীয় ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে লড়েও ১-০ গোলে হেরে যায় তিউনিসিয়া। এই টানা দুই পরাজয়ের পর কোচ হেনরিক ক্যাসপারজাককে বরখাস্ত করতে ফুটবল বোর্ড এক মুহূর্তও ভাবেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশিক রুবাইয়াত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ের (আইন ও বিচার বিভাগের) সচিব বরাবর তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে আশিক রুবাইয়াত উল্লেখ করেছেন, 'আমাকে এ পদে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে আমার পক্ষে এ পদে কাজ করা আর সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় আমি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ হতে আজ পদত্যাগ করছি।'
এদিকে, আশিক রুবাইয়াতের পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) বলেছেন, 'তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। এ বিষয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি তার সদুত্তর দিতে পারেননি। এমন প্রেক্ষাপটে তিনি তার পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ‘কেমব্রিজ প্রিন্সিপালস মিট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার, রাজধানীর উত্তরাস্থ গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫০ জনের বেশি অধ্যক্ষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষাবিদ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের গ্লোবাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর রড স্মিথ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণ রাজামানি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এসটিএস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মানাস সিং বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থবহ শেখার পরিবেশ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি যোগ করেন, মতবিনিময়ের এই পরিবেশ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ করে তুলবে।
মূল অধিবেশনে দেশে কেমব্রিজ শিক্ষাধারার সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, পূর্ণাঙ্গ কেমব্রিজ শিক্ষাধারা অনুসরণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি প্রদান এবং অনুমোদিত ও মৌলিক শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে ভূমিকা রাখা স্কুলগুলোর প্রশংসা করা হয়।
বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক সেশনে শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা আরও অর্থবহ করতে আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি ও কার্যকর শিক্ষণ কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। কেমব্রিজ ইংলিশ প্রোগ্রামের বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে দেখানো হয়, কীভাবে এসব কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে এবং বাস্তব জীবনে ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব আরও উন্নত করার বিষয়েও প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন। এ সময় শিক্ষকদের আত্মমূল্যায়ন ও পেশাগত উন্নয়নে ‘কেমব্রিজ প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কোয়ালিফিকেশনস’ (পিডিকিউ) কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্রমের মানোন্নয়নে শিক্ষাবিদদের মধ্যে ধারাবাহিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সমাপ্তি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ