ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী


হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আসিয়ান অঞ্চলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারে।

এটি যা ভবিষ্যতে দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন: জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবতার অসাধারণ দৃষ্টান্ত: ডা. জুবাইদা রহমান

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘আসিয়ান অঞ্চলে হালাল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে হালাল অর্থনীতিকে খাদ্য ও পানীয় খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। বর্তমানে এটি খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, মোডেস্ট ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘রপ্তানি বাড়াতে হলে প্রথমেই উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পরিবেশও নিশ্চিত করা জরুরি।’

এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যেন বাংলাদেশের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পায়।

আরও পড়ুন: শেখ মুজিবের ম্যুরাল নির্মাণে ৬.৬৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ, দুদকের মামলা হাছান-ইনুর বিরুদ্ধে

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক হালাল বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে দেশের জন্য একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণ সহজ হবে।

বক্তারা সেমিনারে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পকেন্দ্রিক ছিল, তবে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্যে টিকে থাকতে পণ্য ও বাজার উভয় ক্ষেত্রেই বহুমুখীকরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে হালাল অর্থনীতি নতুন সম্ভাবনার একটি বড় ক্ষেত্র হতে পারে।

তারা জানান, বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। খাদ্যের পাশাপাশি ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, পর্যটন এবং জীবনধারাভিত্তিক বিভিন্ন পণ্যে হালাল মানের গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাজারে কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে হলে সমন্বিত উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনায় মালয়েশিয়ার হালাল ইকোসিস্টেমকে বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া হালালকে কেবল একটি পণ্য বা সনদ হিসেবে দেখেনি; বরং এটি উৎপাদন, গবেষণা, সার্টিফিকেশন, বিপণন ও রপ্তানিকে সমন্বিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপ দিয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে থাকছে নানা কর্মসূচি

বক্তাদের মতে, বাংলাদেশের রয়েছে বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, শক্তিশালী কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ওষুধ শিল্প, চামড়া শিল্প এবং পোশাক খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এসব সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক হালাল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হতে পারে।

সেমিনারে বাংলাদেশের হালাল খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য উপযোগী করতে পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো গড়ে তোলা, আধুনিক পরীক্ষাগার ও উন্নত লজিস্টিক সুবিধাসহ বিশেষায়িত হালাল শিল্প ক্লাস্টার প্রতিষ্ঠা, বিদ্যমান উৎপাদন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, এসএমই ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ড’কে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠা করা।

বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রেদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সার্টিফিকেশন (লাইভস্টক) বিভাগের উপপরিচালক আকতার হোসেন এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উপপরিচালক (হালাল সার্টিফিকেশন) এস এম আবু সাঈদ।

আরও পড়ুন: এখন থেকে জোর করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারবে না: হুইপ নিজান

বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি পণ্যের মান, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক আস্থা নিশ্চিত করা গেলে হালাল অর্থনীতি বাংলাদেশের রপ্তানির নতুন ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। ইস জন্য প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ, বেসরকারি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং একটি কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু হালাল পণ্য রপ্তানিকারক নয়, বৈশ্বিক হালাল বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় শিশুসহ ৯ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় শিশুসহ ৯ জন নিহত

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী নভোরোসিস্কে এক শিশু নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আরো আটজন আহত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বুধবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।

নভোরোসিস্কের মেয়র আন্দ্রেই ক্রাভচেঙ্কো জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে সংঘটিত হামলায় শহরের চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ২০টিরও বেশি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে, এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলের অন্য একটি এলাকায় হামলায় আরো একজন নিহত হয়েছেন। সে ঘটনার ফলে কয়েকজন আহত হয়েছেন। নভোরোসিস্ক ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর।

নভোরোসিস্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের ক্যাপাসিটি সম্পর্কে জানা যায় যে, এই শহর দিয়ে তেল ও শস্যসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। রাশিয়ার জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় এই বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোলের আকাশে ৩০টির অধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছেন শহরটির গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ। তিনি বলেছেন, ড্রোন হামলায় কিছু বাড়ির ক্ষতি হয়েছে, তবে এতে কোনো আহত হয়নি।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রাতভর দেশে নানা অঞ্চলে ইউক্রেনের ৫০২টি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে রাশিয়ার এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলায় একটি বিপণিবিতানে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, হামলার পর প্রায় ১ হাজার ২০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাশিয়া শহরের সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দর ওদেসাতেও হামলা চালিয়েছে। শহরটির সামরিক প্রশাসনের প্রধান সেরহি লাইসাক জানিয়েছেন, হামলায় বন্দর এলাকার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেন সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগায় এমন সম্পদ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। তবে কৃষ্ণসাগরে তেল পরিবহন নিয়ে ইউক্রেনের হামলার পরিমাণ কিছুটা কমেছে বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে। বুধবার, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অনুরোধের পর নভোরোসিস্ক বন্দর ব্যবহারকারী কিছু তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা বন্ধ রেখেছে কিয়েভ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হামলার কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন কয়েকটি কোম্পানিও ক্ষতির মুখে পড়েছে, কারণ হামলার লক্ষ্য ছিল কাজাখস্তান থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে নভোরোসিস্কের ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের টার্মিনালে যাওয়া তেলবাহী জাহাজ। ইউক্রেন ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের অবকাঠামো এবং রাশিয়ার মালিকানাধীন নয় এমন জাহাজে হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। এসব জাহাজের ওপর ইউক্রেনের নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকতে হবে এবং জাহাজগুলোতে রাশিয়ার তেল বা অন্য কোনো রুশ পণ্য পরিবহন করা যাবে না।

কৃষ্ণসাগরে হামলার প্রভাব শুধু রাশিয়া या ইউক্রেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং এর প্রভাব পড়ে আঞ্চলিক জ্বালানি বাজারেও। চারটি সূত্র জানিয়েছে, জুলাই মাসে কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলার কারণে ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে তেল রপ্তানির পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে কাজাখস্তানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে শেভরন ও এক্সন মোবিলের মতো পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে। কাজাখস্তান অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ড্রোন হামলার প্রভাবের মধ্যে জুনের তুলনায় জুলাইয়ে দেশটির তেল উৎপাদন ১৪ শতাংশ কমে গেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কিয়েভ যখন কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে, তখন দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরো তীব্র হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে কিয়েভ। এর মধ্যে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের নতুন হামলা এবং ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ হামলা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিম্বাবুয়েতে ফেরি ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


জিম্বাবুয়েতে ফেরি ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ২৭

জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি ডুবে অন্তত ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই ঘটনায় এখনও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য প্রকাশ করে।

উত্তরাঞ্চলীয় শহর কারিবা থেকে কয়েকটি দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পে যাত্রী পরিবহনকারী ফেরিটি মঙ্গলবার প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় উল্টে যায়।

জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর ঘোষণা করেছে।

জিম্বাবুয়ের সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) এক বিবৃতিতে উল্লেখ করে, ফেরিটিতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, পাঁচজন ক্রু সদস্য এবং কয়েকজন শিশু ছিলেন। কিন্তু ফেরিটির ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ৯০ জন।

নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সিপিইউ জানায়, ‘এ পর্যন্ত মাতুসাদোনহা উদ্ধারকারী দল ও অন্যরা ৭৭ জন যাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।’ সংস্থাটি আরও জানায়, ‘১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

মরদেহগুলো সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দুটি ফিউনারেল পার্লারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এখনও প্রায় ২৭ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সিপিইউ আরও জানায়, নিখোঁজদের সন্ধানে সহায়তার জন্য একটি বিশেষায়িত জলযান উদ্ধারকারী ইউনিটকে বিমানযোগে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

কারিবা হ্রদটি জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত। রাজধানী হারারে থেকে হ্রদটির দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারের বেশি উত্তর-পূর্বে।

আয়তন নয়, জলধারণ ক্ষমতার দিক থেকে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ হিসেবে পরিচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূজার প্রিয় মানুষের স্বপ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৩ পি.এম


পূজার প্রিয় মানুষের স্বপ্ন

নায়িকা পূজা চেরীর প্রিয় মানুষ ছিলেন ‘মা’। গত বছর মাকে হারানোর ফলে তিনি বেশ দুঃখিত। পূজা বলেন, তাঁর মায়ের একটি স্বপ্ন ছিল, সেটি হলো মেয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা পাক। তিনি দারুণ সব চলচ্চিত্রের অংশ হোক, এই আশা ছিল তাঁর মায়ের। অসাধারণ সব চরিত্রে অভিনয় করে যেন পূজা মানুষের মনে স্থায়ী আসন গড়তে পারেন, এমনটাই চেয়েছিলেন তাঁর মা। তাই মায়ের রেখে যাওয়া উপদেশকে মাথায় নিয়ে পূজা জানান, তিনি নিজেকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।

এই অভিনেত্রী বলেন, মা সব সময়ই বলতেন, ‘পূজা, তুমি শক্ত মনের মানুষ। তোমার পথে যত বাধাই আসুক, তুমি কাটিয়ে উঠতে পারবে, সেই বিশ্বাস আমার আছে।’ মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পূজা জানান, সামনে আরও কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়ের কথা চূড়ান্ত হয়েছে। সিনেমাগুলো মুক্তি পেলে তাঁর ক্যারিয়ার নতুন গতি পাবে। পূজা চেরীর বাবা একজন ব্যবসায়ী এবং মা ছিলেন গৃহিণী।

শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করার পর তিনি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও নজর কাড়েন। এর পরবর্তী সময়ে জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত সিনেমা ‘নূর জাহান’, ‘পোড়ামন ২’ ও ‘দহন’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পড়াশোনার ব্যাপারেও বাবা-মায়ের প্রত্যাশা ছিল, এবং বিষয়টি পূজা জানালেন।

তিনি বলেন, ‘বাবা-মা চেয়েছেন, আমি যেন পড়াশোনায় ফাঁকি না দিই। এখনো পর্যন্ত আমাকে নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।’ সেই প্রচেষ্টায় তিনি কোনো ফাঁক রাখতে চান না।

পূজা চেরীর বিনোদন অঙ্গনে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু হয়। নাচে পারদর্শী পূজা ছোটবেলায় বিজ্ঞাপনচিত্র ও চলচ্চিত্রে সমানতালে কাজ করেন। ছয় বছর আগে নায়িকা হিসেবে তাঁর সিনেমায় যাত্রা শুরু করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একাদশে ভর্তির সময়সূচি নিয়ে যা বলছে শিক্ষা বোর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৫ পি.এম


একাদশে ভর্তির সময়সূচি নিয়ে যা বলছে শিক্ষা বোর্ড

এসএসসির ফলাফল পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত। এর একটি ছবি কালের কণ্ঠে দেখা গেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি সম্পন্ন করার নির্দেশনা মন্ত্রণালয় দিয়েছে, যা ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে করতে হবে। ভর্তি আবেদনের তারিখ আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সূত্র অনুযায়ী, সোমবারের মধ্যে এই তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসির ফল প্রকাশীত হয় শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক। উক্ত সময় জানানো হয়, নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

গত ১৯ বছরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। ফলে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু গত বছর সেই পাসের হারে পতন দেখা গেছে। আর এ বছর সেখান থেকে পাসের হার আরও কমেছে।

এর ফলে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ আসন থাকা সত্ত্বেও এই বছর ১৭ লাখ আসন খালি থাকবে। কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীর জন্য হাহাকার পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আন্ত শিক্ষা বোর্ডের সূত্র জানাচ্ছে, দেশে সাধারণ কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানসহ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মোট ৯ হাজার ৩১৪টি। এতে আসন রয়েছে প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ। তবে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আট হাজার ৭১টি কলেজ ও মাদরাসা রয়েছে।

এখানে একাদশ শ্রেণির আসনসংখ্যা ২৫ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৭টি। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এক হাজারের বেশি কারিগরি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে আসনসংখ্যা দেড় লাখের ওপরে।

গত সোমবার চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। তবে গত বছরগুলোর হিসাবে দেখা গেছে, পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ থেকে ১০ শতাংশ কলেজে ভর্তি হয় না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%