ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মাদারীপুরে গুচ্ছগ্রামে মানবিক সংকট: ৪০ বছরের জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস


মাদারীপুরে গুচ্ছগ্রামে মানবিক সংকট: ৪০ বছরের জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস

ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে একসময় নির্মাণ করা হয়েছিল গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্প। উদ্দেশ্য ছিল, আশ্রয়হীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়া এবং তাঁদের জীবনমানের উন্নয়ন। কিন্তু নির্মাণের প্রায় ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক ঘরের সংস্কার হয়নি। ফলে জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাসিন্দারা। কোথাও টিনের চালায় মরিচা ধরেছে, কোথাও ভেঙে গেছে বেড়া, আবার কোনো কোনো ঘরের কাঠামো হেলে পড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে চলাচলের পাকা রাস্তা ও সড়কবাতির সংকট। শুধু আবাসন নয়, অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি ঘর ও জমি জোরপূর্বক দখল কিংবা হস্তান্তরের অভিযোগও উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর পাঙ্গাশিয়া গ্রামের গুচ্ছগ্রাম ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। টিনের চালা ও বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অনেক ঘরই এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বাসিন্দারা জানান, নতুন ঘর কিংবা পুরোনো ঘর সংস্কারের জন্য জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার আবেদন করেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি তাঁরা। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁদের দুর্ভোগ কমেনি। গুচ্ছগ্রামে যাতায়াতের জন্য নেই পর্যাপ্ত পাকা রাস্তা। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানিতে চলাচল করতে হয়। অন্যদিকে সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে তৈরি হয় নিরাপত্তাঝুঁকি। স্থানীয়দের দাবি, জেলার অধিকাংশ গুচ্ছগ্রামের চিত্র প্রায় একই রকম।

আরও পড়ুন: স্থানীয় নির্বাচনে সবাইকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী

এদিকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ও জমি নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। মাত্র ২০ হাজার টাকা ধার পরিশোধ করতে না পারায় কালকিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ফজিলা বেগম নামে এক বৃদ্ধার সরকারি ঘর ও জমি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০১০ সালের ওই ঘটনার পর আশ্রয় হারিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকমে জীবনযাপন করছেন তিনি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব জমি বিক্রয় বা হস্তান্তরযোগ্য না হলেও সমঝোতার মাধ্যমে জমি কেনার দাবি করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম হাওলাদার। একইভাবে পাশের বাসিন্দা কবিরের ঘর ও জমিও হায়াত নামে আরেক ব্যক্তি কিনে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১৫টি গুচ্ছগ্রাম রয়েছে। এসব গুচ্ছগ্রামে বসবাস করছে প্রায় এক হাজার পরিবার। ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের আবাসনের জন্য নির্মিত এসব প্রকল্পের ঘর দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সরকারি এই উদ্যোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সুবিধাভোগীরা। নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা চম্পা বেগম বলেন, ‘সরকার প্রায় ৪০ বছর আগে আমাদের একটি টিনশেড ঘর দিয়েছিল। সেই ঘর এখন ভেঙে গেছে, বসবাসের উপযোগী নেই। বৃষ্টি হলে ঘরের সবকিছু ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। ঝড় হলে আতঙ্কে থাকতে হয়। আমরা সবাই নতুন ঘর চাই।’

আরেক বাসিন্দা শিপন বালী বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামে বিয়ে কিংবা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ কারণে মেয়েদের ভালো জায়গায় বিয়ে দিতে সমস্যা হয়। ছেলেদের বিয়ের অনুষ্ঠানও ঠিকমতো করা যায় না। সরকার যদি জমিসহ বড় পরিসরে নতুন ঘরের ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা সবাই উপকৃত হব।’

আরও পড়ুন: শেরপুরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মিছিলের চেষ্টা করেন গ্রেপ্তার ৫ জন

ভুক্তভোগী ফজিলা বেগমের ছোট ছেলে মো. হান্নান সরদার বলেন, ‘আমার মা ২০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হাকিম হাওলাদার সরকারের দেওয়া আমাদের ঘর ও জমি লিখে নেন। তিনি তখন পৌরসভায় চাকরি করতেন। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আমাদের শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের থাকার জায়গা নেই। সরকারের কাছে মায়ের জমি ফেরত চাই এবং এ ঘটনার বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল হাকিম হাওলাদার বলেন, ‘আমি টাকা দিয়ে জমি ও ঘর কিনেছি। এ বিষয় নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। পরে আমি কাগজপত্র ঠিক করেছি। ফজিলা বেগমের ঘর বা জমি জোরপূর্বক দখল কিংবা দলিল করে নিইনি।’

এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘সরকার ভূমিহীন মানুষের বসবাসের জন্য এসব ঘর ও জমি বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু এসব জমি কখনোই বিক্রয় বা হস্তান্তরযোগ্য নয়। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের জমি ফিরিয়ে দেওয়াসহ গুচ্ছগ্রামের সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

ভূমিহীন মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন নিয়ে গড়ে ওঠা গুচ্ছগ্রামগুলো আজ নানা সংকটে জর্জরিত। জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার, নতুন আবাসন নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সরকারি জমি বেদখলমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগই পারে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে।

আরও পড়ুন: টেকনাফে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত, আটক নেই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলায় স্টার বাই পিএনজিও প্রকল্পের ওরিয়েন্টেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


নকলায় স্টার বাই পিএনজিও প্রকল্পের ওরিয়েন্টেশন

শেরপুরের নকলায় স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ‘স্টার বাই পিএনজিও’ প্রকল্পের প্রথম ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে নকলা পৌর শহরের ফেরুষা এলাকাস্থ স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির কার্যালয়ে এই ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫০ জন প্রশিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগন অংশ গ্রহন করেন।

প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মো. নুর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশনে বক্তব্য রাখেন, ব্রাঞ্চ কো-অর্ডিনেটর মাজহারুল ইসলাম চঞ্চল, পিয়ার লিডার সুফিয়া আক্তার সুপ্তি, অভিভাবকদের পক্ষে আব্দুল লতিফ ও প্রেস ক্লাব নকলা’র সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-আমিন প্রমুখ।

বক্তারা স্টার বাই পিএনজিও প্রকল্পে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলেধরে বক্তব্য রাখেন। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রশিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা। এছাড়া প্রশিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশে অভিভাবকদের ভূমিকা ও সহযোগিতার গুরুত্ব উপস্থাপন করেন বক্তারা। এসময় বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভালো আইনজীবী হতে শর্টকাট ভুলে যান : আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


ভালো আইনজীবী হতে শর্টকাট ভুলে যান : আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আদালতে যাওয়ার জন্য আইনজীবীদের মর্যাদা রক্ষায় পড়ালেখা অপরিহার্য। আইনজীবী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শর্টকাটের সুযোগ নেই। ভালো আইনজীবী হতে হলে শর্টকাট পথ ভুলে যেতে হবে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর পুরান ঢাকায় নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, অনেকেই আইনকে অতিক্রম করে ক্ষমতার দম্ভ প্রদর্শন করেন। আমরা চাই এই পরিস্থিতির অবসান ঘটুক।

তিনি উল্লেখ করেন, আইনজীবীদের জন্য কোনো ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা নেই। তাদের অবস্থা মুরগির বাচ্চার মতো। আইনজীবীদের বহুমুখী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেকটি কোম্পানিতে আইনজীবী থাকা বাধ্যতামূলক হতে হবে। প্রয়োজনে কোম্পানি আইন পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আইনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে।

জেলা পর্যায়ে আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এই পেশাকে আরও উন্নত করতে চাই। আইনজীবী সুরক্ষা আইন অবশ্যই প্রয়োজন। ট্রাইব্যুনালগুলোকে আরও কার্যকর করতে হবে। দু'একজন আইনজীবীর কারণে পুরো পেশার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ব্ল্যাক ব্লক’ বিক্ষোভকারীদের তোলপাড় ইউরোপে, কেন তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ পি.এম


‘ব্ল্যাক ব্লক’ বিক্ষোভকারীদের তোলপাড় ইউরোপে, কেন তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে?

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলমান তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ‘ব্ল্যাক ব্লক’ (Black Bloc) নামের রহস্যময় ও আক্রমণাত্মক আন্দোলনকারীরা। ফ্রান্স থেকে শুরু করে আলবেনিয়া পর্যন্ত, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং ভাঙচুরের ঘটনাগুলোর মধ্যে এই গোষ্ঠীর উপস্থিতি এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি আল জাজিরার একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির পরিচয় এবং তাদের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে।

‘ব্ল্যাক ব্লক’ আসলে কারা?

বিশ্লেষকদের মতে, ‘ব্ল্যাক ব্লক’ আসলে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত সংগঠন নয়। এটি একটি কৌশল এবং প্রতিবাদ পদ্ধতি, যা মূলত নৈরাজ্যবাদী (Anarchist) এবং উগ্রপন্থী কর্মীদের দ্বারা বাস্তবায়িত হয়। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত মাথা থেকে পা পর্যন্ত সম্পূর্ণ কালো পোশাকে নিজেদের মুড়ে নেন এবং মুখ ঢেকে রাখেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য হল বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি থেকে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখা এবং পুলিশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি, আবাসন সংকট এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে চলা ব্যাপক গণআন্দোলনের সুযোগ নিয়ে এই গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়ে উঠছে।

কেন তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে?

শান্তিপূর্ণ ছাত্র কিংবা শ্রমিক বিক্ষোভের আড়ালে ‘ব্ল্যাক ব্লক’ সদস্যরা প্রায়শই হিংসাত্মক আচরণ করে। ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানির শাখা, সরকারি স্থাপনা এবং বিলাসবহুল যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনার জন্য তাদের দায়ী করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সরাসরি খণ্ডযুদ্ধ এবং টিয়ারশেল বা ইটের টুকরো ছোঁড়ার ঘটনায় ইউরোপজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রায়শই অবনতির দিকে চলে যায়। সরকারের নীতিনির্ধারক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এই গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে প্রায়শই প্রশ্ন ওঠে—‘কেউ কি তাদের আটকাতে পারবে না?’

বর্তমানে ইউরোপের সামগ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এই নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠীগুলো আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ হতে পারে দেশের অবস্থা : মোবারক হোসাইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ হতে পারে দেশের অবস্থা : মোবারক হোসাইন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন মন্তব্য করেছেন যে, ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে দেশের পরিস্থিতি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য নানা বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, যদি এই আন্দোলন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মোকাবিলা করা না হয়, তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন এবং এর ফলে অর্থনীতি চরম সংকটে পড়বে।

শুক্রবার সকালে বেগনগর কিন্ডারগার্টেন স্কুলের হল রুমে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশ ও জেলা আমিরের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি আরও উল্লেখ করেন, গত ৩১ মার্চের লংমার্চ সারা দুনিয়ায় আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছিল। যদিও চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে লংমার্চ হয়নি, তবুও চুয়াডাঙ্গা জেলা সংগঠন বিশাল জনসমাগম ঘটিয়ে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চুয়াডাঙ্গাকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জেলা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের দুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও আমরা সরকারে নেই, তবুও বিরোধী দল হিসেবে জনগণের কাছে আমাদের অনেক কমিটমেন্ট রয়েছে। দায়িত্বশীলদের তা সততার সঙ্গে পূরণ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত জেলা আমির হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন চুয়াডাঙ্গার সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। প্রধান অতিথি তাঁকে অভিনন্দন ও দোয়া জানিয়ে বলেন, তিনি যেন সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে সব ধরনের আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে থেকে জনশক্তির প্রতি ন্যায়বিচার ও ইনসাফ নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, রুহুল আমিন এর আগে ২০২৩-২০২৪ এবং ২০২৫-২০২৬ সেশনেও জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করেছেন। এটি তাঁর তৃতীয় মেয়াদে জেলা আমির হিসেবে শপথগ্রহণ।

জেলা সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।

অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলতাফ হোসাইন, জেলা ইউনিট সদস্য অ্যাডভোকেট মুসলিম উদ্দিন এবং যুব বিভাগের সভাপতি নূর মোহাম্মদসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল বৃন্দ।

Ñএমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%