বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪২ পি.এম
আবরার ফাহাদ হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি শিশির মনির এবং জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাশেদ খাঁন এক ফেসবুক পোস্টে এসব কথা তুলে ধরেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আবরার ফাহাদকে শিবির তকমা দিয়ে হত্যা করা হলে তার বিচারের দাবিতে সেসময় ঢাবিতে মিছিল বের হয় তৎকালীন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮-২০২৪ পর্যন্ত ভিপি নুর ছিলেন আন্দোলন সংগ্রামের অগ্নিপুরুষ। আর শিশির মনিররা ছিলেন আবরার ফাহাদের খুনি ছাত্রলীগের পক্ষের কাপুরুষ। ছাত্রশিবির তখন ছাত্রলীগ হয়ে বেঁচে ছিলো!’
রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেন, ‘আমরাও সবাই যদি এভাবে কায়দা করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতাম, তবে আবরার ফাহাদ হত্যার পরে প্রতিবাদের জন্য একটা লোক রাস্তায় পাওয়া যেতো না!’
আন্দোলনের কঠিন সময়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের কঠিন দিনগুলোতে বর্তমান শিবিরের ভিপি জিএসদের কোন অস্তিত্ব ছিলো না। তারা ছিলেন হল ও ডিপার্টমেন্ট পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা।’
নুরুল হক নুরকে নিয়ে জামায়াত-শিবিরের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আজকে যে ভিপি নুরকে নিয়ে জামায়াত-শিবির গালিগালাজ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে।’
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নুরুল হক নুরের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে এক ভিপি নুরের যে অবদান আছে, পুরো জামায়াত-শিবিরের সেই অবদান নেই।’
রাশেদ খাঁনের ভাষায়, ‘১৮-২৪ ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের এই কঠিন সময়ে ভিপি নুর একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী তরুণ নেতৃত্বর নাম।’
পোস্টের শেষ দিকে নুরুল হক নুরের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘জামায়াত-শিবির আর ১০০ জন সাদিক কায়েম জন্ম দিলেও এক ভিপি নুরের একশো ভাগের এক ভাগ হতে পারবে না।’
পোস্টের শুরুতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনিরকে নিয়ে আবরার ফাহাদের বাবার ‘বিষয়টা কষ্টদায়ক’ মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেয়েছিল ঢালিউড সিনেমা ‘প্রিন্স’। এই ছবির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের বিপরীতে জুটি বাঁধেন ছোট ও বড় পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। তবে সিনেমাটি মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে ভরাডুবির সম্মুখীন হয়।
এখন পর্যন্ত এ অভিনেত্রীর নতুন কোনো কাজের আনুষ্ঠানিক খবর পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারিণ যখন নতুন কোনো ছবি বা বার্তা প্রকাশ করেন, তখন ভক্তদের মধ্যে একটাই কৌতূহল দেখা দেয়—কবে আসবে তার নতুন সিনেমা?
রুপালি পর্দায় ফারিণের যাত্রা শুরু হয় ‘ফাতিমা’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর তিনি ওপার বাংলার ‘আরও এক পৃথিবী’ এবং বাংলাদেশের ‘ইনসাফ’ সিনেমায় অভিনয় করেন। গত বছর ‘ইনসাফ’ মুক্তির পরও বেশ কিছুদিন নতুন কোনো প্রজেক্টে তাকে দেখা যায়নি।
শাকিব খানের সঙ্গে ‘প্রিন্স’-এ যুক্ত হওয়ার আগে কলকাতার মেগাস্টার দেবের ‘প্রজাপতি ২’ চলচ্চিত্রে কাজ করার কথা ছিল ফারিণের। সে সময় ওপার বাংলায় নিয়মিত কাজ করার ইচ্ছার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই কাজটি আর হয়ে ওঠেনি।
গত ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিন্স’ বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় এই অভিনেত্রী অনেকটাই আড়ালে চলে যান।
‘প্রিন্স’ মুক্তির প্রায় পাঁচ মাস পর নন্দিত নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর সঙ্গে ফারিণের একটি নতুন পোস্ট দেখে ভক্তদের মাঝে নতুন সিনেমার জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, সেটি কোনো সিনেমা নয়, বরং একটি বিজ্ঞাপনের কাজ ছিল।
সেই বিজ্ঞাপনচিত্রের পর ফারিণের নতুন কোনো সিনেমা বা ওয়েব প্রজেক্ট নিয়ে এখন পর্যন্ত আর কোনো গুঞ্জন বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শোনা যায়নি। ভক্তরা তাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কবে আবার বড় পর্দায় ফিরবেন এই অভিনেত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান মন্তব্য করেছেন যে, বিগত সময়ে বিদেশি সহায়তার যথাযথ ব্যবহার হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ধনী দেশগুলোও বর্তমানে তাদের আর্থিক সহায়তা হ্রাস করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ইউনিসেফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়েছে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এই সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
সাক্ষাৎ শেষে ইউনিসেফ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, তারা বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে সহায়তা প্রদান করবেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, তার মন্ত্রণালয়ের অন্যতম কাজ হচ্ছে সুপেয় পানি সরবরাহ করা। কিন্তু উজানে পানি আটকে দেওয়ার ফলে নদীর পানি কমে যাচ্ছে এবং লবণাক্ততা বাড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাতারের উত্তর উপকূলে একটি ট্যাংকারে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, কাতারের মদিনাত আশ শামাল থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার উত্তরে ট্যাংকার জাহাজটিতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে হামলায় হতাহতদের সঠিক সংখ্যা জানানো হয়নি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থাটি সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার খবর জানিয়েছিল। এর মধ্যে নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইউকেএমটিও হামলায় নিহত বা আহতদের সংখ্যা জানায়নি।
সংস্থাটি বলেছে, হামলার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। হামলার শিকার জাহাজটি কোন দেশের, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি।
উপসাগরের মাঝামাঝি এলাকায় জাহাজে হামলার ঘটনা অস্বাভাবিক। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে কাজ করা প্রকাশনা ‘দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ’ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উপসাগরের পশ্চিম অংশে ট্যাংকারে হামলার এটিই প্রথম ঘটনা।
এদিকে কাতারের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটলেও কাতার এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
আলজাজিরা জানাচ্ছে, ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা বেশি ঘটেছে। এই সরু সমুদ্রপথটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবহণ করা হতো।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরে অবরোধ বজায় রেখেছে।
ইউকেএমটিও গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে ৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর মিলিয়ে যতগুলো হামলা হয়েছিল, চলতি মাসের এই সংখ্যা তার অর্ধেক।
তবে হামলার ঘটনা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি বেড়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে তেলের এই রপ্তানি।
তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যানুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সাত দিনের গড় ছিল প্রতিদিন এক কোটি ৮৩ লাখ ব্যারেল। যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগের ১২ মাসে এই গড় ছিল প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ভিসা এবং ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করতে ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তা সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সঙ্গে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সংযোগ সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতে গ্যাস ও তেল সহযোগিতার বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে, বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমণকারী বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং বাংলাদেশে আরও বেশি ইন্দোনেশীয় কোম্পানির কাজের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে উভয় পক্ষ গঠনমূলক মতবিনিময় করেন। আলোচনার সময় ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা পুনরায় চালু করা এবং বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবি ও প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, পর্যটন, শিক্ষা ও পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ইন্দোনেশীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে আরও নিবিড় যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মতি প্রকাশ করেন।
এছাড়া তৈরি পোশাক, পাট, কৃষি এবং পাম অয়েলের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে হালাল পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাব্য সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বহুমাত্রিক সহযোগিতা জোরদার ও অভিন্ন মুসলিম ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হন।
সাক্ষাৎকালে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিস লিসতিওওয়াতী এবং ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবুল হাসান মৃধা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ