বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১৪ এম
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে গেরুয়া পোশাক পরিহিত একদল হিন্দুত্ববাদী বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ ও হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, মধ্য কলকাতার প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে পত্রিকাটির অফিসের মূল ফটকের সামনে তারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে, ভবনের প্রবেশপথের দুটি স্তম্ভে গেরুয়া রং লেপন করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও, বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দুপুরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল আনন্দবাজারের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন গেরুয়া পোশাক ও পাগড়ি পরিহিত ছিলেন। তারা ভবনের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরে, মূল ফটকের ওপর গেরুয়া উত্তরীয় ঝুলিয়ে দেয়া হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থানের পর, বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যান।
বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, আনন্দবাজার পত্রিকা সরকারের কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতে পারে, তবে গেরুয়া রং বা হিন্দু ধর্মীয় প্রতীককে অসম্মান করার অধিকার তাদের নেই। তারা জানান, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর সংঘর্ষের পর এই বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের পর ২১ আগস্ট আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়। এই শিরোনাম নিয়ে বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, এই শব্দবন্ধের মাধ্যমে গেরুয়া রং ও হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিকে অবমাননা করা হয়েছে।
এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী আনন্দবাজার পত্রিকাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, শিরোনাম প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে গেরুয়া পোশাকে প্রতিবাদ কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন। এরপর আনন্দবাজারের সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায়সহ সম্পাদকীয় বিভাগের কয়েকজনের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করা হয়। অভিযোগে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের কয়েকটি সাংবাদিক সংগঠন। তাদের বক্তব্য, সংবাদ প্রকাশ ও সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। তারা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে মঙ্গলবারের বিক্ষোভের সঙ্গে বিজেপির কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে দলটির পশ্চিমবঙ্গ নেতৃত্ব। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গেরুয়া পোশাক পরা ব্যক্তিদের কোনো কর্মসূচিকে সরাসরি দলের কর্মসূচি হিসেবে দেখা যায় না। একই সঙ্গে, সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা বা বিশৃঙ্খলাকে দল সমর্থন করে না বলেও জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা চলে যাওয়ার পর, আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ভবনের স্তম্ভে লাগানো গেরুয়া রং মুছে আবার সাদা রং করে দেয়। পরে সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাদা করা অংশের ছবি প্রকাশ করেন। ছবির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙ্ক্তি ‘উচ্চ যেথা শির’ উল্লেখ করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বুধবার ঢাকা ত্যাগ করেছেন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ। তিনি ৩০ আগস্ট ঢাকায় আগমন করেছিলেন।
বাংলাদেশে তার সফরের সময় অ্যান্ডা ফিলিপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত নারী সংসদ সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন ও সংসদীয় সুসম্পর্কের প্রসারে গুরুত্বারোপ করেন।
এ সফরের অংশ হিসেবে অ্যান্ডা ফিলিপ জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরও ঘুরে দেখেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কার মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং এক দশক পর কায়রো সফরে গেছেন। আজ তিনি মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কায়রো পৌঁছান সি চিনপিং। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ফার্স্ট লেডি পেং লিয়ুয়ান।
বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসি এবং ফার্স্ট লেডি এন্তেসার আমের। বিমান থেকে নেমে সি ও পেং যখন এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের স্বাগত জানাতে লোকনৃত্য পরিবেশনকারী একটি দল উপস্থিত ছিল। এ সময় দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরদের গায়ে সি চিনপিংয়ের ছবি সংবলিত টি-শার্ট পরা ছিল।
সফরকালে দুই প্রেসিডেন্ট বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক চুক্তিতে সই করার আশা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হবে।
বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী, এই শীর্ষ বৈঠককে কাজে লাগিয়ে কায়রো তার কৌশলগত স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরতে চাইবে। মিশর দেখাতে চায় যে, তারা ওয়াশিংটন ও বেইজিং—উভয়ের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাতে সক্ষম।
মঙ্গলবার মিশরের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে সিসি কায়রোর ‘স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি’ তুলে ধরেন। এর কয়েক দিন আগে মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংকের একটি শাখার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
গত মাসে ওয়াশিংটন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। এজন্য আরও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে, যার আওতায় চীনা ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। বেইজিং জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
চলতি মাসে সি চিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে।
মিশর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার অন্যতম বড় গ্রহীতা এবং ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ।
গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ‘ব্যাংক মিশর’-এর সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।
বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ
মঙ্গলবারের নিবন্ধে সিসি লিখেছেন, ক্রমবর্ধমান মেরুকরণের এই বিশ্বে মিশর ও চীন ‘গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের ভূমিকা শক্তিশালী করার’ ক্ষেত্রে অংশীদার।
সিসির শাসনামলে মিশর বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। গত আগস্টে দেশটি চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বড় ধরনের যৌথ বিমান মহড়া আয়োজন করে। এতে চীনের শক্তিশালী জে-১৬ যুদ্ধবিমান অংশ নেয়।
২ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষের আবাসস্থল বিশাল নগরী কায়রোর প্রধান সড়কগুলোতে চীন ও মিশরের পতাকা এবং সিসি ও সি চিনপিংয়ের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে।
কায়রোর বিভিন্ন সড়কের সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘মিশর-চীন বন্ধুত্ব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নীল নদের মতো প্রবহমান।’
এদিকে, সি চিনপিংয়ের সফরকে কেন্দ্র করে রাস্তায় ব্যাপক যানজটের আশঙ্কায় নগরবাসীকে যাতায়াতের সময় দীর্ঘ বিলম্বের জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে।
বুধবারের সফরে সি চিনপিংয়ের পুরো কায়রো শহর ঘুরে দেখার কথা রয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে গিজার পিরামিডের কাছে অবস্থিত গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামেও তিনি যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সকালের শীর্ষ বৈঠকে ব্রিকসের দুই সদস্য মিশর ও চীন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বেশ কয়েকটি চুক্তিতে সই করতে পারে। এসব চুক্তির মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পরিবহন ও জ্বালানি খাত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সিসির ১২ বছরের শাসনামলে নেওয়া বিশাল অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনা বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
কায়রো থেকে ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত আকাশচুম্বী ভবনসমৃদ্ধ ফাইন্যান্স অ্যান্ড বিজনেস ডিস্ট্রিক্টে চীন অর্থায়ন করেছে। এটি সিসির বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অন্যতম।
সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলও চীনের বড় বিনিয়োগের একটি ক্ষেত্র। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্য যখন হুমকির মুখে, তখন সি ও সিসি এই অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করতে যাচ্ছেন।
চীন মিশরের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক দেশ। চীনের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে মিসরের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা কয়েক মাস ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে, বুধবার থাইল্যান্ডের একটি বন্দরের কাছে পৌঁছেছে। এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা জাহাজটিকে দেখতে পেয়েছেন।
বিশাল আকারের পারমাণবিক শক্তিচালিত এই রণতরিটি পাত্তায়ার কাছে লায়েম চাবাং বন্দরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নভেম্বরের পর এই প্রথমবারের মতো জাহাজটির প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য থাইল্যান্ডের মাটিতে নামার সুযোগ পাচ্ছেন।
এএফপি সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ‘আব্রাহাম লিংকন’। প্রথমে এটি দক্ষিণ চীন সাগরে দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হয়েছিল, পরে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়। প্রায় ছয় মাস আগে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পূর্বে জাহাজটির দায়িত্বের পরিবর্তন করা হয়।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে জাহাজটির ভেতরের জীবনযাপন ও পরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা শুরু হয়েছে। জাহাজে জীবনযাত্রার মানের অবনতি এবং সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি কয়েকজন সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও খবর এসেছে।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন নাবিক ও মেরিন সদস্যদের স্বাগত জানাতে থাইল্যান্ডের পর্যটননগরী পাত্তায়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকেই মার্কিন সেনাদের বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য পাত্তায়া একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
সমুদ্রসৈকত ও জমজমাট রাতের বিনোদনের জন্য বিদেশি পর্যটকদের কাছে পাত্তায়া অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে শহরটির বিরুদ্ধে যৌন পর্যটনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা রয়েছে।
পাত্তায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস জানিয়েছেন, শহরে সম্প্রতি যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন সেনাসদস্যদের আগমনকে কেন্দ্র করে এই অভিযান চালানো হয়েছে—এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
শহরের একটি বারের বাইরে ইতোমধ্যে একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে, যেখানে লেখা রয়েছে, ‘সব মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যকে স্বাগতম। আপনাদের সেবার জন্য ধন্যবাদ।’
মেয়র জানান, জাহাজটি রোববার থাইল্যান্ড ছাড়ার আগ পর্যন্ত নাবিকদের জাহাজ থেকে পাত্তায়ায় আনা এবং পরে আবার জাহাজে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ সপ্তাহে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মেয়র বলেন, ‘তারা এখানে বিশ্রাম নিতে এসেছেন।’
তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের কাছ থেকে যাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া না হয়—এ বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তবে, মার্কিন নাবিক ও মেরিন সদস্যদের কিছু কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে জেটস্কির মতো জলক্রীড়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, থাইল্যান্ডের তুলনামূলক শিথিল গাঁজা আইন ব্যবহার করে গাঁজা গ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
তবে শপিংমল থেকে শুরু করে ধর্মীয় স্থাপনাসহ শহরের অন্যান্য আকর্ষণ উপভোগ করতে তাদের উৎসাহিত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পেরু ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে। দেশটির অভিযোগ, ইরানে গণতন্ত্রের অবনতি ঘটেছে এবং সেখানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী, রাজনৈতিক বিরোধী ও স্বাধীন সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে।
লিমা থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের শান্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের জায়গা থেকে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির খবর অনুযায়ী, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ঐতিহাসিকভাবে পেরু শান্তি, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, পেরু ইরানে ‘গণতন্ত্রের অবনতি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে, স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিরোধী নেতাদের ওপরও নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছে পেরু।
পেরু গত মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির আশঙ্কা, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জন্যও পেরু ইরানকে দায়ী করেছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপও আলোচনায় এসেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালায়, যার ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তেহরান ওই হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়।
পেরুর এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবসান ঘটল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ