প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে গেরুয়া পোশাক পরিহিত একদল হিন্দুত্ববাদী বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ ও হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, মধ্য কলকাতার প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে পত্রিকাটির অফিসের মূল ফটকের সামনে তারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে, ভবনের প্রবেশপথের দুটি স্তম্ভে গেরুয়া রং লেপন করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও, বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দুপুরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল আনন্দবাজারের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন গেরুয়া পোশাক ও পাগড়ি পরিহিত ছিলেন। তারা ভবনের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরে, মূল ফটকের ওপর গেরুয়া উত্তরীয় ঝুলিয়ে দেয়া হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থানের পর, বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যান।
বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, আনন্দবাজার পত্রিকা সরকারের কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতে পারে, তবে গেরুয়া রং বা হিন্দু ধর্মীয় প্রতীককে অসম্মান করার অধিকার তাদের নেই। তারা জানান, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর সংঘর্ষের পর এই বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের পর ২১ আগস্ট আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়। এই শিরোনাম নিয়ে বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, এই শব্দবন্ধের মাধ্যমে গেরুয়া রং ও হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিকে অবমাননা করা হয়েছে।
এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী আনন্দবাজার পত্রিকাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, শিরোনাম প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে গেরুয়া পোশাকে প্রতিবাদ কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন। এরপর আনন্দবাজারের সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায়সহ সম্পাদকীয় বিভাগের কয়েকজনের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করা হয়। অভিযোগে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের কয়েকটি সাংবাদিক সংগঠন। তাদের বক্তব্য, সংবাদ প্রকাশ ও সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের জন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। তারা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে মঙ্গলবারের বিক্ষোভের সঙ্গে বিজেপির কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে দলটির পশ্চিমবঙ্গ নেতৃত্ব। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গেরুয়া পোশাক পরা ব্যক্তিদের কোনো কর্মসূচিকে সরাসরি দলের কর্মসূচি হিসেবে দেখা যায় না। একই সঙ্গে, সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা বা বিশৃঙ্খলাকে দল সমর্থন করে না বলেও জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা চলে যাওয়ার পর, আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ভবনের স্তম্ভে লাগানো গেরুয়া রং মুছে আবার সাদা রং করে দেয়। পরে সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাদা করা অংশের ছবি প্রকাশ করেন। ছবির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙ্ক্তি ‘উচ্চ যেথা শির’ উল্লেখ করেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন