০৭:৫০ পি.এম
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য টেলিমেডিসিন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শসেবা প্রদান করার লক্ষ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ তথ্য সম্প্রতি জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান। মন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মানসিক রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি বিশ্বব্যাপী অক্ষমতাজনিত রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যাগুলো এখন দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা হ্রাসের প্রধান কারণ। তবে, মৃত্যুর প্রধান কারণ এখনও হৃদরোগ ও ক্যান্সার।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০১৮-১৯ সালের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। তবে, তাদের মধ্যে ৯২ শতাংশেরও বেশি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে না। তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা এখনো অপর্যাপ্ত রয়েছে। বর্তমানে প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন এবং সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন।
আরও পড়ুন: ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট: এসিল্যান্ডকে সিলেটে সংযুক্তি
এ ঘাটতি পূরণ করতে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালকে দেশের বিশেষায়িত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরো বলেন, 'মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮' প্রণয়ন করে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা (২০২০-২০৩০) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মানসিক স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক পরিচালক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব কার্যক্রমে রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেন্টাল হেলথ গ্যাপ অ্যাকশন প্রোগ্রামের আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার স্তরের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, নোয়াখালী, বান্দরবান, সিলেট, শেরপুর, নেত্রকোনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুড়িগ্রামÑ এই ১০ জেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যশোর, ঝিনাইদহ, সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জÑ এই চার জেলায় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কর্মসূচি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্পেশাল ইনিশিয়েটিভ ফর মেন্টাল হেলথ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ বিশ্বের নির্বাচিত ৯টি দেশের একটি এবং এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় করে মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন