০৩:০৮ এম
ফরাসিদের জাতীয় উৎসবের দিন ‘বাস্তিল ডে’-তে মাঠ থেকে কাঁদিয়ে বিদায় করে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে টিকিট কাটলো স্পেন।
ভারপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে দুই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে লা রোহারা।
ম্যাচটি পুরোপুরি স্পষ্টভাবে বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং মাঝমাঠে অবিশ্বাস্য আধিপত্যের ওপর ভর করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল ফাইনালে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। অন্যদিকে, স্প্যানিশ ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের জালের সামনে অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সকে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরু থেকেই দুই দল মাঝমাঠের দখল নেওয়ার চেষ্টা করলেও ২২তম মিনিটে চরম নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে নিজের বক্সে স্প্যানিশ বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালকে আটকাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত অনিচ্ছাকৃত ফাউল করে বসেন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মিকেল ওয়ারজাবাল অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেইগনানকে পরাস্ত করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
এরপর ম্যাচের ৩০তম মিনিটে পিঠের চোটে উইলিয়াম সালিবা মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স, তার জায়গায় নামেন ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্স। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পে ও বারকোলা কিছু চেষ্টা করলেও স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোনের দৃঢ়তায় ফরাসিরা গোলবঞ্চিত হয়েই বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম কার্ডের ঝুঁকিতে থাকা আদ্রিয়েন রাবিওকে তুলে মানু কোনেকে মাঠে নামান। তবে কোচের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে ৫৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। দানি ওলমোর এক চমৎকার টার্নিং পাস থেকে টটেনহ্যামের রাইট ব্যাক পেড্রো পোরো বক্সের কোনাকুনি একটি চোখ ধাঁধানো শটে বল জালে জড়ান।
এর ঠিক ছয় মিনিট পর (৬০ মিনিটে) লামিন ইয়ামাল ফরাসি ডিফেন্সকে ফাঁকি দিয়ে আরও একবার বল জালে পাঠালেও লাইন্সম্যানের সূক্ষ্ম অফসাইডের সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল হয়। তা সত্ত্বেও পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ১টি গোল হজম করা স্পেনের অভেদ্য ডিফেন্সের সামনে ফ্রান্সের সমেত ফেরার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, ৩৩০ রান করে ১ রানের লিড
ম্যাচের শেষ আধঘণ্টায় স্পেনের রদ্রি এবং ফ্যাবিয়ান রুইজ মাঝমাঠে নিখুঁত পাসিংয়ের পসরা সাজিয়ে ফ্রান্সের প্রতিটি আক্রমণকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেন। ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, স্প্যানিশ কোচ পেদ্রি, মিকেল মেরিনো, ফেরান তোরেস এবং নিকো উইলিয়ামসদের মাঠে নামিয়ে মাঝমাঠ আরও নিশ্ছিদ্র করে তোলেন।
হারের হতাশায় শেষদিকে মেজাজ হারিয়ে ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পে স্প্যানিশ কিপার উনাই সিমোনকে অফ-দ্য-বল ফাউল করে বসেন। অতিরিক্ত ৭ মিনিটের ইনজুরি সময়েও ফ্রান্স কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি, উল্টো গ্যালারি থেকে স্প্যানিশ সমর্থকদের ‘ওলে ওলে’ ধ্বনির মধ্য দিয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হারের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে। আর ফ্রান্সকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানিয়ে শিরোপার মঞ্চে পা রাখলো লা রোহারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন