০৬:০৮ এম
সাইলেন্ট রিডিং ক্লাবে ফিরছে বই পড়ার অভ্যাস।
একসময় অবসর কাটানোর অন্যতম প্রিয় উপায় ছিল বই পড়া। কিন্তু ব্যস্ত জীবন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং মুঠোফোনের আকর্ষণের কারণে অনেকের জীবন থেকে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে যাচ্ছে। এবার সেই হারানো অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নীরবে বই পড়ার আড্ডা, যা ‘সাইলেন্ট রিডিং ক্লাব’ নামে পরিচিত।
একটি ঘরে অবস্থান করে অনেক মানুষ একসঙ্গে বই পড়ছেন, তবে কেউ কথা বলছেন না। চারপাশে শুধু পাতার শব্দই শোনা যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে আবার শুরু হচ্ছে গল্প বলার, পরিচয় করার এবং বন্ধুত্ব গড়ার সময়। এই ধরনের আয়োজন নতুনভাবে মানুষকে বইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনছে।
আরও পড়ুন: ‘পর্যটন মেলা, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার শুরু, প্রযুক্তি ও টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা
এমন একটি আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার একটি ঐতিহাসিক বাড়িতে অনেক বইপ্রেমী অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, শুরুতে সবাই নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল, পরিচিত হচ্ছিল। তবে কিছুক্ষণ পর পুরো পরিবেশ বদলে যায় এবং সবাই নীরবে নিজেদের পছন্দের বই পড়তে শুরু করেন। পরে আবার আলোচনা ও আড্ডা শুরু হয়। তাদের মতে, এখানে বই শুধুমাত্র পড়ার বিষয় নয়, বরং এটি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমও।
আয়োজনের জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অবসর সময়ের বই পড়ার অভ্যাস মানুষের মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও কিছু সময় বই পড়া মানুষের মনকে শান্ত করে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অবসরে বই পড়ার প্রবণতা কমেছে। কিন্তু নতুন ধরনের বই পড়ার আয়োজন, বই নিয়ে আলোচনা এবং অনলাইনভিত্তিক বইপ্রেমীদের বিভিন্ন কার্যক্রম আবারও মানুষকে পড়ার অভ্যাসে ফিরিয়ে আনছে।
বই পড়া আমাদের মস্তিষ্কে বিভিন্ন উপকারিতা নিয়ে আসে। গবেষণা বলছে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে জ্ঞান বাড়াতে সাহায্য করে, শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে এবং কল্পনাশক্তি উজ্জীবিত করে। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য নিয়মিত বই পড়া স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি বই পড়া মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশার অনুভূতি হ্রাস করতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: ডিকশনারি ডটকমের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’, জনপ্রিয় হলো কিভাবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, বই পড়া শুধুমাত্র একটি একক অভ্যাস নয়, এটি মানুষের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতাকেও বৃদ্ধি করে। মানুষ অন্যদের জীবন ও অভিজ্ঞতার গল্প পড়ে আরও সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে। আজকের সময়ে অনেকেই মুঠোফোনের বদলে বইয়ের দিকে ফিরছেন। দীর্ঘ সময় ধরে মুঠোফোন ব্যবহার মানুষের মনোযোগ কমিয়ে দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্য আমাদের মস্তিষ্ককে সবসময় ব্যস্ত রাখে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বই পড়া এই অতিরিক্ত উত্তেজনা থেকে কিছুটা বিরতি দেয়। তাই অনেকেই রাতে ঘুমানোর আগে মুঠোফোন ব্যবহারের পরিবর্তে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করছেন।
কীভাবে বই পড়ার অভ্যাস শুরু করবেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, বই পড়ার জন্য বড় কোনো লক্ষ্য নির্ধারণের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন অল্প সময় দিয়েও বই পড়া শুরু করা সম্ভব। নিজস্ব আগ্রহের ভিত্তিতে বই বেছে নেওয়া উচিত। যদি কোনো বই ভালো না লাগে তবে সেটি শেষ করতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বই বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কৌতূহলকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। যে বিষয়ে আগ্রহ বেশি, সেই বিষয় নিয়ে বই পড়া শুরু করলে অভ্যাস তৈরি করতে সুবিধা হয়।
বই পড়ার আনন্দই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বই পড়াকে কঠিন নিয়মের মধ্যে আটকে না রেখে এটি আনন্দের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কারণ বই পড়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সময় পূরণ করা নয়, বরং নিজের মনের শান্তি, নতুন কিছু শেখা এবং জীবনের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করা। তাই ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন একটু সময় বইয়ের জন্য রাখলে সেটি হতে পারে মস্তিষ্ক ও মনের জন্য এক শান্তির বিরতি।
আরও পড়ুন: প্রেম খুঁজতে ফিনল্যান্ডে বিনা খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন কারা?
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন