ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পরিত্যক্ত লাইফবোট থেকেই কোটি টাকার ব্যবসা


পরিত্যক্ত লাইফবোট থেকেই কোটি টাকার ব্যবসা

জাহাজের স্ক্র্যাপ থেকে বের হয়ে আসা এসব লাইফবোট এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ছবির মধ্যে দেখা যাচ্ছে: আমার দেশ পত্রিকা। জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডে একসময় যেসব লাইফবোট পরিত্যক্ত সামগ্রী হিসেবে পড়ে থাকত, এখন সেগুলোই কোটি টাকার বাণিজ্যের উপকরণ হয়ে উঠেছে। সমুদ্রগামী জাহাজের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত লাইফবোটগুলো সংগ্রহ, সংস্কার এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন জীবন পাচ্ছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। জাহাজের স্ক্র্যাপ থেকে বের হয়ে আসা এসব বোট বর্তমানে দেশের সমুদ্র, নদী, হাওর এবং পর্যটন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। মাছ ধরার, যাত্রী পরিবহনের, পর্যটন ব্যবসা থেকে শুরু করে বন্যা ও দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এসব জলযান।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী, মাদাম বিবিরহাট, মদনহাট, কদমরসুল, শীতলপুর এবং সোনাইছড়ি এলাকায় লাইফবোটের একটি জমজমাট বাজার গড়ে উঠেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এবং বিভিন্ন খালের মধ্যে সারি সারি ফাইবার লাইফবোট ও স্পিডবোট এখন এ এলাকার নতুন পরিচিতি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা, জেলে, পর্যটন উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ক্রেতারা এসে এসব বোট কিনছেন।

এ সম্পর্কিত সূত্র জানাচ্ছে, ফৌজদারহাট থেকে ছোট কুমিরা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় ৩০ থেকে ৪০টি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড রয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা বড় জাহাজগুলো ভাঙার সময় উদ্ধার হয় লাইফবোটগুলো। পরে ব্যবসায়ীরা এসব বোট সংগ্রহ করেন টেন্ডারের মাধ্যমে। পুরোনো কাঠামো পরীক্ষা করে দক্ষ কারিগররা এগুলো মেরামত করেন, ফাইবারের কাজ, রং করাসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে সেগুলোকে আবার ব্যবহারযোগ্য করে তোলেন।

আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি

এসএল শিপ ইয়ার্ডের মালিক লোকমান হাকিম জানান, জাহাজ ভাঙা কারখানায় আসা বড় জাহাজ থেকে প্রতিবছর শত শত ছোট, মাঝারি এবং বড় স্পিডবোট উদ্ধার করা হয়। ব্যবসায়ীরা টেন্ডারের মাধ্যমে এসব বোট সংগ্রহ করে নতুনভাবে প্রস্তুত এবং বিক্রি করেন। জাহাজ গভীর সমুদ্রে বিপদে পড়লে নাবিকদের জীবন রক্ষার জন্য এসব লাইফবোট রাখা হয়ে থাকে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একসময় জেলেরা গাছের তৈরি বড় নৌকা ব্যবহার করতেন। এখন সেই জায়গা দখল করেছে ফাইবার লাইফবোট ও স্পিডবোট। শক্তিশালী ইঞ্জিন বসিয়ে এসব বোট দিয়ে জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছেন। কাঠের নৌকার তুলনায় এগুলো অধিক নিরাপদ, দ্রুতগতি সম্পন্ন এবং দীর্ঘস্থায়ী।

সীতাকুণ্ডের বাজারে আকার ও সক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন দামের বোট পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ ফাইবার বোটের দাম ৫০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। ইঞ্জিনসহ মাঝারি আকারের লাইফবোট বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। আর উচ্চগতির রেসকিউ স্পিডবোটের দাম ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে। ব্যবসায়ীরা জানান, কাঠের নৌকার তুলনায় ফাইবার লাইফবোটের স্থায়িত্ব বেশি এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম। কাঠ পচে যাওয়া, নিয়মিত আলকাতরা দেওয়ার বা ঘন ঘন মেরামতের প্রয়োজন হয় না। এ কারণে উপকূলীয় এলাকার জেলে, মাছ ব্যবসায়ী, পর্যটন উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব বোটের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

বোট ব্যবসায়ী শওকত হোসেন বলেন, সীতাকুণ্ডের বোটের বাজার এখন চট্টগ্রাম অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এখানে বোট কিনতে আসছে। নোয়াখালী, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা এসব বোট নিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের খোসা থেকে তৈরি হচ্ছে 'ম্যাংগো পিল টি'

বাঁশবাড়িয়ার জেলে পাড়ার নিরঞ্জন ও উপেন্দ্র জলদাস বলেছেন, এ বোটে প্রয়োজন অনুযায়ী ইঞ্জিন বসিয়ে সাগর ও নদীতে মাছ ধরা যায়। কাঠের নৌকার তুলনায় এটি অনেক বেশি নিরাপদ এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব। মৎস্য আহরণের পাশাপাশি পর্যটন খাতে এসব লাইফবোটের ব্যবহার দ্রুত বেড়ে চলেছে। দেশের বিভিন্ন লেক, হ্রদ এবং পর্যটন এলাকায় ছাদযুক্ত স্পিডবোট বর্তমানে পর্যটকদের চলাচলের এবং বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। সিলেটের জাফলং থেকে আসা পর্যটন উদ্যোক্তা নুরে আলম জানান, তিনি পর্যটন এলাকায় ব্যবহারের জন্য ভালো মানের ও সাশ্রয়ী বোটের খোঁজে সীতাকুণ্ডে এসেছেন। এখন অনেক উদ্যোক্তা এখান থেকেই বোট সংগ্রহ করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক মানের জাহাজে ব্যবহৃত লাইফবোটে বিশেষ ভাসমান ব্যবস্থা থাকায় এগুলো সহজে ডুবে যায় না। এ কারণে হাওর, নদী ও উপকূলীয় এলাকায় এগুলোকে নিরাপদ জলযান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে সীতাকুণ্ড থেকে ট্রাক ও ট্রেইলারের মাধ্যমে এসব বোট যাচ্ছে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল, কাপ্তাই হ্রদ, রাঙামাটি, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা ও পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

দুর্যোগকালেও এসব বোটের গুরুত্ব বাড়ছে। গত বছর ফেনীতে ভয়াবহ বন্যার সময় সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা শিল্প এলাকার এসব স্পিডবোট ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, জাহাজ ভাঙা শিল্পের ফেলে দেওয়া সম্পদকে পুনর্ব্যবহার করে গড়ে ওঠা এই বাজার এখন সীতাকুণ্ডের নতুন অর্থনৈতিক পরিচয় তৈরি করেছে। একদিকে যেমন তৈরি হচ্ছে নতুন ব্যবসার সুযোগ, অন্যদিকে দেশের নৌ অর্থনীতি, মৎস্য খাত এবং পর্যটন শিল্প নতুন গতি পাচ্ছে। প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, সহজ অর্থায়ন, দক্ষ জনবল এবং পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত হলে সীতাকুণ্ডের লাইফবোটের এই বাজার ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম বৃহত্তম পুনর্ব্যবহৃত নৌযান সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুন: ইউপি নির্বাচনে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, দুজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা ৩০ দিন ভেজানো কিশমিশ খেলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ এম


টানা ৩০ দিন ভেজানো কিশমিশ খেলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে?

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ভেজানো কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে।

ব্যস্ত জীবনে সহজে অনুসরণ করা যায় এমন স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের খোঁজে থাকেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ভেজানো কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে। এটি হজমশক্তি উন্নত করা থেকে শুরু করে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি ও পুষ্টি গ্রহণে সহায়তা করতে পারে।

পুষ্টিবিদরা জানান, কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এটি নরম হয়ে যায় এবং এর পুষ্টি উপাদান শরীরে সহজে শোষিত হতে পারে। ফলে হজমের ওপর চাপ কম পড়ে এবং শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণে সুবিধা পায়।

কিশমিশে থাকা খাদ্যআঁশ (ফাইবার) হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। সকালে ভেজানো কিশমিশ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে এবং অন্ত্রের কার্যক্রম সচল থাকতে সাহায্য করে।

পটাশিয়ামসমৃদ্ধ কিশমিশ শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এ কারণে এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।

কিশমিশে আয়রন ও কিছু বি-ভিটামিন রয়েছে, যা শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ কিশমিশ শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশমিশে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখা এবং লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা মিলতে পারে।

রাতে ঘুমানোর আগে ৮ থেকে ১০টি কিশমিশ একটি পরিষ্কার গ্লাসে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে কিশমিশগুলো ভালোভাবে চিবিয়ে খান। চাইলে ভেজানো পানিটিও পান করতে পারেন।

ডায়াবেটিস, ইনসুলিন-সংবেদনশীলতা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে নিয়মিত ভেজানো কিশমিশ খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ নিল মেটা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ এম


তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ নিল মেটা

কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মেটা নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। 

 

হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হচ্ছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, যেসব সুবিধা পাবে ব্যবহারকারীরা। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে যে ৫টি সেটিংস পরিবর্তন করা জরুরি। বাণিজ্যিকভাবে মস্তিষ্কে চিপ প্রতিস্থাপন করেছে চীন। গুগল ম্যাপসে আপনার অবস্থান সঠিক আছে কি না যেভাবে বুঝবেন। আবারও টিকটক ব্যবহারের অনুমতি পেল যুক্তরাষ্ট্র।

 

 নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে, কোনো কিশোর ব্যবহারকারী যখন মেটার এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনে আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতির সঙ্কেত প্রকাশ করবে, তখন সেই বিষয়টি আর শুধু ব্যক্তিগত চ্যাটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মেটা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিভাবকদের সতর্ক করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদি ঝুঁকি গুরুতর মনে করা হয়, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি সেবার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হতে পারে।

মেটা জানিয়েছে, তাদের এআই সিস্টেম কিশোরের কথোপকথনে আত্মহানি-সংক্রান্ত সংকেত শনাক্ত করলে প্রথমে সেটি মানব পর্যালোচনার মাধ্যমে যাবে। এরপর পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী অভিভাবকদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে।

কোনো বার্তার অর্থ পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা যাওয়ার সুযোগ থাকলেও কিশোরদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় ইনস্টাগ্রাম প্যারেন্টাল সুপারভিশন ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর জন্য এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। মেটার পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষের দিকে এটি অন্যান্য দেশেও চালু হবে।

নতুন এই উদ্যোগ মেটার বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্প্রসারিত রূপ। এর আগে ইনস্টাগ্রামে কিশোর ব্যবহারকারীরা বারবার আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতি-সংক্রান্ত বিষয় খুঁজলে অভিভাবকদের সতর্ক করা হতো। এখন অভিভাবকরা গত সাত দিনে তাদের সন্তানের মেটা এআইয়ের সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয় সম্পর্কেও ধারণা পেতে পারবেন।

এ ছাড়াও, কিশোরদের জন্য চালু থাকা সীমিত কনটেন্ট ব্যবস্থার আওতা বাড়িয়ে মেটা এআইয়ের ক্ষেত্রেও কার্যকর করা হচ্ছে। এর ফলে চ্যাটবট সংবেদনশীল বা অনুপযুক্ত কিছু অনুরোধের ক্ষেত্রে আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে।

মেটা আরও জানিয়েছে, কিশোর বা প্রাপ্তবয়স্ক—যে কোনো ব্যবহারকারীর কথোপকথনে যদি তাৎক্ষণিক আত্মহানির ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হতে পারে। এর আগে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ পোস্ট শনাক্ত করতে যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হতো, এখন সেসব সরঞ্জাম মেটা এআই চ্যাটেও যুক্ত করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাণিজ্যিকভাবে ব্রেন চিপ প্রতিস্থাপনে নতুন মাইলফলক চীনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ এম


বাণিজ্যিকভাবে ব্রেন চিপ প্রতিস্থাপনে নতুন মাইলফলক চীনের

ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহারে চীন নতুন একটি অগ্রগতির দাবি করেছে। সাংহাইয়ে, প্রথমবারের মতো দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া একটি মস্তিষ্কের চিপ একজন রোগীর শরীরে সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, প্রযুক্তিটি গবেষণাগারের পরীক্ষার পর চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

চীনের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ‘নিও’ নামের এই ব্রেইন-কম্পিউটার সংযোগ ব্যবস্থা রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গেছে, চিপটি মস্তিষ্ক থেকে কার্যকর বৈদ্যুতিক সংকেত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।

ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তিটি মানুষের চিন্তার মাধ্যমে তৈরি মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সংকেত শনাক্ত করে এবং তা কম্পিউটারে পাঠায়। ‘নিও’ চিপটি মুদ্রার মতো ছোট এবং এটি মস্তিষ্কের গভীরে প্রবেশ না করে, বরং উপরিভাগে স্থাপন করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো রোগী হাত নাড়ানোর কথা ভাবেন, তবে চিপটি সেই সংকেত সংগ্রহ করে কম্পিউটারে পাঠায়। এরপর, কম্পিউটার সেই সংকেত বিশ্লেষণ করে একটি বিশেষ যান্ত্রিক গ্লাভসকে নির্দেশ দিতে পারে, যার মাধ্যমে হাতের নড়াচড়া সম্ভব হয়ে ওঠে। প্রযুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন কাজে আরও স্বাধীনতা দেওয়া।

চীনের জাতীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক সংস্থা চলতি বছরের মার্চে এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। দেশটির দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম উচ্চঝুঁকির প্রতিস্থাপনযোগ্য ব্রেইন-কম্পিউটার সংযোগ প্রযুক্তি, যা আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতাল পর্যায়ে এটি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংকও মস্তিষ্কের চিপ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি কয়েকজন রোগীর শরীরে তাদের চিপ স্থাপন করলেও সেগুলো এখনো পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ। নিউরালিংকের লক্ষ্য হলো পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষকে শুধুমাত্র চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটার, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা প্রদান করা। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে এখনো পূর্ণ বাণিজ্যিক অনুমোদন পাননি তারা।

চীনের ‘নিও’ এবং নিউরালিংকের প্রযুক্তির মধ্যে নকশাগত পার্থক্য বিদ্যমান। নিউরালিংকের চিপে মস্তিষ্কের টিস্যুর ভেতরে প্রবেশ করা সূক্ষ্ম ইলেকট্রোড ব্যবহার করা হয়, যা স্থাপনের জন্য বিশেষ অস্ত্রোপচার পদ্ধতির প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, ‘নিও’ মস্তিষ্কের টিস্যুতে প্রবেশ না করেই এর পৃষ্ঠে স্থাপন করা হয়। ফলে, এটি তুলনামূলকভাবে কম আক্রমণাত্মক হিসেবে বিবেচিত হলেও রোগীর মস্তিষ্কের সংকেত সংগ্রহ করে সহায়ক প্রযুক্তি পরিচালনা করতে সক্ষম দাবি করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, মিলবে নতুন সব সুবিধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১২ এম


হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, মিলবে নতুন সব সুবিধা

হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হচ্ছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন। এটি আইফোন এবং আইপ্যাডের ব্যবহারকারীদের জন্য ডেস্কটপে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অনেকটা কাছাকাছি এনে দেবে।

হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন আপডেট নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট ডব্লিউএবেটাইনফো-এর তথ্য অনুযায়ী, ম্যাক অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে এই আপডেটটি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এটি সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারী পাচ্ছেন। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহে এটি ধাপে ধাপে সব ম্যাক ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই আপডেটে নতুন কোনো মেসেজিং ফিচার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল যুক্ত করার পরিবর্তে ভিজ্যুয়াল বা বাহ্যিক দিকগুলোর উন্নতির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন ইন্টারফেসে বেড়ে উঠেছে ঢেলে সাজানো সাইডবার, পরিমার্জিত চ্যাট বার, আপডেটেড অ্যাটাচমেন্ট মেনু এবং আরও সহজ নেভিগেশন সুবিধা। ফলে এটি ম্যাকওএস অ্যাপটিকে অ্যাপলের সর্বশেষ সফটওয়্যার ডিজাইন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে।

হোয়াটসঅ্যাপ এবার লকড চ্যাট এবং কমিউনিটিজের জন্য একটি আলাদা বিভাগ চালু করেছে। আগে, ম্যাক অ্যাপে সাধারণ চ্যাটের সঙ্গেই লক করা কথোপকথনগুলো দেখা যেত। নতুন আপডেটে এগুলোকে একটি আলাদা সেকশনে রাখা হয়েছে। এখন ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই (অথেনটিকেশন) করার প্রয়োজন হবে লকড চ্যাটে প্রবেশের আগে, যা আইফোনের প্রাইভেসি সুবিধার মতো।

এছাড়া, কমিউনিটিজকেও সাইডবারের নির্দিষ্ট সেকশনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন মূল চ্যাট লিস্টে না গিয়ে সহজেই কমিউনিটিজে প্রবেশ করা যাবে। গত বছর আইওএস ডিভাইসে লিকুইড গ্লাস-অনুপ্রাণিত ইন্টারফেসের পরীক্ষা শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপ। পরে এটি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে আরও বেশিসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ম্যাক অ্যাপ্লিকেশনে ছোটখাটো কিছু ভিজ্যুয়াল আপডেট এলেও, এবারই প্রথম সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের সংস্করণ প্রকাশ করা হলো।

আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকজুড়ে ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে অ্যাপলের যে বৃহত্তর প্রচেষ্টা রয়েছে, এই আপডেট তারই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে ডেভেলপারদের অ্যাপলের ইকোসিস্টেমে একই ধরনের ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

বর্তমানে ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগের জন্য ব্যবহারকারীরা একাধিক ডিভাইসে হোয়াটসঅ্যাপের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এ কারণেই মেটা হোয়াটসঅ্যাপের ডেস্কটপ প্ল্যাটফর্মের উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে তাদের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%