০৭:১১ পি.এম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, সরকার তরুণ সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বিশেষ করে মানসিক চাপ, হতাশা এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
এছাড়াও, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের মানসিক পুনর্বাসন এবং ট্রমা-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আজ জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মু. মিজানুর রহমানের প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ‘ইউ ক্যান ডু ইট’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের নিবন্ধন
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবার দেশে আনুমানিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ জন আত্মহত্যার কারণে মৃত্যু হয়, যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তরুণ ও কিশোর-কিশোরী।
তিনি আরো জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের জন্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা এবং সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর মনোরোগ বিভাগের মাধ্যমে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিং এবং ট্রমা কেয়ার প্রদান করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মানসিক পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত এমএইচজিএপি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ট্রমা-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পতেঙ্গায় শিশু সোহাগ হত্যা: ইমাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে যশোর, ঝিনাইদহ, সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জÑ এই চারটি জেলায় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে কাউন্সেলিং, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এমএইচজিএপি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, নোয়াখালী, বান্দরবান, সিলেট, শেরপুর, নেত্রকোনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুড়িগ্রামÑ এই ১০ জেলার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ের চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘কাইন্ড টু মাইন্ড’সহ বিভিন্ন জাতীয় সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তদুপরি, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ও বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালনসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, আগে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) এক শতাংশেরও কম স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হতো। তবে, বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ০১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: আ.লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বার্ষিক পরিচালন বাজেটে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালের জন্য পৃথক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন